অকাল বন্যায় এশিয়ার অন্যতম, দেশের বৃহত্তম হাকালুকি হাওরাঞ্চল পানিতে তলিয়ে গিয়ে জুড়ী, কুলাউড়া ও বড়লেখার হাজার হাজার কৃষকের ধান পচে ব্যাপক ক্ষতি হয়ে যায়। একদিকে কৃষকদের ধানের ক্ষতি পাশাপাশি পানির মাছ, জলজ প্রাণীসহ শত শত হাঁস মারা যায়। ফলে, অত্রাঞ্চলের কৃষকদের কোটি কোটি টাকার ক্ষতি হয়। এ ক্ষতিতে কৃষকদের সর্বনাশ হয়ে যায় এবং তাদের কান্না ও হাহাকারে ভারি হয়ে ওঠে আকাশ পাতাল। এ বড় ধরনের ক্ষতিতে তাদের ভবিষ্যৎ অন্ধকার। তাদের চিন্তা তারা কি খাইয়া বাঁচবে এবং তাদের গৃহপালিত গরু-বাছুরসহ অন্যান্য প্রাণীকে কি খাওয়াবে। এমতাবস্থায় অত্রাঞ্চলকে দূর্গত এলাকা ঘোষনা এবং কৃষকদের পূনর্বাসনের দাবীতে এক বিশাল মানববন্ধনের আয়োজন করে হাওর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ ও বাংলাদেশ কৃষক সমিতি জুড়ী শাখা এবং বাংলাদেশ ক্ষেত মজুর পরিষদ কৃলাউড়া শাখা। গত (৩০ এপ্রিল) রোববার সকালে জুড়ী উপজেলা পরিষদ সংলগ্ন মৌলভীবাজার-বড়লেখা আঞ্চলিক মহাসড়কে আয়োজিত মানববন্ধনে অত্রাঞ্চলের শত শত কৃষক তাদের দাবী আদায়ে জড়ো হয়। মানবন্ধনে বক্তব্য রাখেন, জুড়ী উপজেলা পরিষদ ভাইস চেয়ারম্যান কিশোর রায় চৌধূরী মনি, জায়ফরনগর ইউপি চেয়ারম্যান হাজী মাছুম রেজা, জুড়ী হাওর রক্ষা সংগ্রাম কমিটি সভাপতি ইমরুল ইসলাম, যুবলীগ কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম, সিলেট বিভাগ উন্নয়ন সংস্থা (সিবিউস) প্রেসিডেন্ট প্রভাষক এইচ এম এ কাদির, পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়ন সেক্রেটারী মোস্তাকিম আহমদ, আওয়ামীলীগ নেতা আব্দুল লতিফ, জুড়ী উপজেলা প্রেসক্লাব সাধারণ সম্পাদক এম এম সামছুল ইসলাম, অনলাইন প্রেস ইউনিটি জুড়ী শাখা সভাপতি এ বি এম নূরুল হক সাংবাদিক কল্যাণ প্রসূন চম্পু, সিরাজুল ইসলাম প্রমূখ। বক্তারা বলেন, কিছুদিন পূর্বে মহামান্য প্রেসিডেন্ট আব্দুল হামিদ কিশোরগঞ্জ ও সুনামগঞ্জ হাওরে ক্ষতিগ্রস্থ এলাকা পরিদর্শনে আসেন এবং আজ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সুনামগঞ্জ হাওর পরিদর্শনে আসেন।প্রেসিডেন্ট আসার পর ওই এলাকার ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদেরকে জন প্রতি ৩০কেজি চাল ও নগদ ৫শত টাকা দেয়ার ঘোষনা দেন কিন্তু হাকালুকি হাওরাঞ্চলে এত বড় ক্ষতি হওয়ার পরও প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী এই এলাকায় পরিদর্শনে আসেননি এবং ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের খোঁজ খবর নেননি। এ কারণে অত্রাঞ্চলের কৃষকরা ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। বক্তারা আরো বলেন, হাকালুকি হাওরাঞ্চলের ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের বাঁচাতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে সরেজমিনে আসার আহবান জানিয়ে এ এলাকাকে দূর্গত এলাকা ঘোষনা ও কৃষকদের পূনর্বাসনের জোর দাবী জানান।