সিলেট-৪ আসনে আরিফের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ বিএনপি-জমিয়ত, দৃঢ় অবস্থানে জামায়াতের জয়নাল

প্রকাশিত: ১১:৩৯ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ৭, ২০২৬

সিলেট-৪ আসনে আরিফের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ বিএনপি-জমিয়ত, দৃঢ় অবস্থানে জামায়াতের জয়নাল

সিলেট-৪ (কোম্পানীগঞ্জ–গোয়াইনঘাট–জৈন্তাপুর) আসনে ভোটের সমীকরণে বড় পরিবর্তন

সিলেট প্রতিনিধি:
সিলেট-৪ (কোম্পানীগঞ্জ–গোয়াইনঘাট–জৈন্তাপুর) আসনে একাদশ দলীয় জোটের হয়ে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ও জৈন্তাপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো. জয়নাল আবেদীন। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর থেকেই নির্বাচনী প্রস্তুতি ও মাঠপর্যায়ের প্রচারণায় সক্রিয় ছিলেন তিনি।

দীর্ঘদিন একাই তিন উপজেলার গ্রাম-গঞ্জ চষে বেড়িয়ে সভা-সমাবেশ, উঠান বৈঠক ও গণসংযোগ চালিয়ে যান জয়নাল আবেদীন। প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দলগুলোর দেরিতে প্রার্থী নির্বাচন, অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ও গ্রুপিং তার সম্ভাবনাকে শুরুতে জোরালো করে তোলে। জামায়াত সমর্থকদের মধ্যে তখন জয়ের প্রত্যাশাও বাড়তে থাকে।

তবে সময়ের ব্যবধানে পাল্টে যায় দৃশ্যপট। এই আসনে বিএনপি জোটের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পান সিলেট সিটি করপোরেশনের সাবেক দুইবারের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। তার মনোনয়নের পর থেকেই বিএনপির অভ্যন্তরীণ বিভেদ কাটিয়ে দলীয় নেতাকর্মীরা ধীরে ধীরে ঐক্যবদ্ধ হতে শুরু করেন।

মনোনয়ন বঞ্চিত প্রার্থীদের মধ্যে আব্দুল হাকিম চৌধুরী ও হেলাল উদ্দিন আহমেদ দলের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে প্রথমে মশাল মিছিল করলেও পরে হাইকমান্ডের সিদ্ধান্ত মেনে নেন। আরিফুল হক চৌধুরী নিজেই তাদের বাসায় গিয়ে সাক্ষাৎ করলে রাজনৈতিক বরফ গলতে শুরু করে। একপর্যায়ে হেলাল উদ্দিন ও পরে আব্দুল হাকিম চৌধুরী আনুষ্ঠানিকভাবে আরিফুল হকের প্রতি সমর্থন ঘোষণা করেন। এতে বিভেদের দেয়াল ভেঙে ধানের শীষের পক্ষে মাঠে নামেন বিএনপির সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সীমান্তবর্তী এই আসনে দীর্ঘদিন ধরেই বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও গৃহবিবাদ ছিল আলোচনার কেন্দ্রে। দলটির শক্ত ভোট ব্যাংক থাকা সত্ত্বেও একাধিক প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাশী হওয়ায় বিভক্তির আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে ছিলেন কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ সিদ্দিকী, গোয়াইনঘাট উপজেলা পরিষদের দুইবারের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল হাকিম চৌধুরী, প্রয়াত সংসদ সদস্য দিলদার হোসেন সেলিমের সহধর্মিণী অ্যাডভোকেট জেবুন নাহার সেলিম, জেলা বিএনপির উপদেষ্টা হেলাল উদ্দিন আহমেদ এবং মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান সেলিম।

বর্তমানে ঐক্যবদ্ধ বিএনপি-জমিয়তের প্রভাবের মুখে জামায়াত প্রার্থী মো. জয়নাল আবেদীনের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। আসনভিত্তিক তথ্য: মোট ভোটার: ৫,০৮,১১৮ জন, পুরুষ ভোটার: ২,৬২,৭৪৫ জন, মহিলা ভোটার: ২,৪৫,৩৭২ জন, হিজরা ভোটার: ১ জন মোট ভোটকেন্দ্র: ১৭২টি , প্রার্থীরা হচ্ছেন: আরিফুল হক চৌধুরী – ধানের শীষ, মো. জয়নাল আবেদীন – দাঁড়িপাল্লা, জহিরুল ইসলাম – ট্রাক, মাওলানা সাইদ আহমদ – হাতপাখা, মুজিবুর রহমান – লাঙ্গল

এই সংবাদটি 232 বার পঠিত হয়েছে

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ