ঢাকা |
প্রকাশিত: ৭:০৪ পূর্বাহ্ণ, জুন ২২, ২০১৬
স্টাফ রিপোর্টার : সমস্যা সমাধানের আশ্বাস পাওয়ায় সায়েদাবাদ ও গুলিস্তানে ধর্মঘট প্রত্যাহার করে নিয়েছে দুটি শ্রমিক সংগঠন। প্রায় ১১ ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর বিকেল সাড়ে চারটা থেকে সায়েদাবাদ ও গুলিস্তান থেকে বাস চলাচল শুরু হয়েছে। এর আগে দুটি পরিবহন শ্রমিক সংগঠনের আধিপত্য বিস্তার নিয়ে গতকাল মঙ্গলবার ভোর ছয়টা থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট রুটে দূরপাল্লার বাসসহ সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ থাকে।
পুলিশের ওয়ারী বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) সৈয়দ নূরুল ইসলাম বিকেল পৌনে পাঁঁচটায় প্রথম আলোকে ধর্মঘট প্রত্যাহারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেছেন, দুই পক্ষের দাবিদাওয়া নিয়ে পরবর্তী সময়ে উচ্চপর্যায়ে আলোচনা হবে বলে জানানো হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে তারা ধর্মঘট প্রত্যাহার করে নিয়েছে।বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মোকরম আলী প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমাদের দাবি একটাই। কার্যালয় আমাদের বুঝিয়ে দিতে হবে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমাদের কাছে তিন দিন সময় চাওয়া হয়েছে। তাদের আশ্বাসে আমরা ধর্মঘট প্রত্যাহার করে নিয়েছি।’
বঙ্গভবনের পূর্ব দিকে পরিবহন কার্যালয় দখলকে কেন্দ্র করে ঢাকা জেলা শ্রমিক ইউনিয়ন ও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়ন নামের দুটি সংগঠনের সংঘর্ষের জের ধরে গতকাল সোমবার মেয়র হানিফ উড়ালসড়কে যান চলাচল ঘণ্টা খানেক বন্ধ থাকে। আজ সকাল ছয়টা থেকে দুই রুটে আবারও বাস চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়। তবে বিআরটিসির কিছু বাস ওই রুটে চলাচল করেছে। হঠাৎ করে বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালে ভোগান্তির শিকার হন হাজার হাজার যাত্রী। ওই ঘটনায় দুই শ্রমিক সংগঠনের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করেন ডিসি।
ঢাকা জেলা শ্রমিক ইউনিয়নের শ্রমিক মোখলেছুর রহমান প্রথম আলোকে বলেছেন, দুই সংগঠনের মধ্যে বিদ্যমান সমস্যা সমাধানের জন্য আলোচনা শুরু হয় দুপুরে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান-সমর্থিত ঢাকা জেলা শ্রমিক ইউনিয়ন ও সরকারি দলের সংসদ সদস্য হাবিবুর রহমান মোল্লা-সমর্থিত বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়ন মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে পরিবহন কার্যালয়ের দখলদারি নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। দীর্ঘদিন ধরে কার্যালয়টি বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের দখলে ছিল। গত রোববার সন্ধ্যার পর এটি দখল করেন ঢাকা জেলা শ্রমিক ইউনিয়নের শ্রমিকেরা। এ কারণে গতকাল দুই পক্ষের সংঘর্ষের জের ধরে দুপুর পৌনে একটার দিকে মেয়র হানিফ উড়ালসড়ক দিয়ে যান চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়। সংঘর্ষ চলার সময় যাত্রাবাড়ী চৌরাস্তা পর্যন্ত যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ঘণ্টা খানেক বন্ধ থাকার পর যান চলাচল পুনরায় শুরু হয়।
সকালে হানিফ পরিবহন, ডলফিন পরিবহনসহ বিভিন্ন বাস কোম্পানির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট রুটের দুই দিক দিয়েই বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। নির্ধারিত সময়ে যাত্রীরা এসে দেখেন বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। তাঁরা বারবার জানতে চেয়েছেন, কখন বাস চলাচল শুরু হবে। তবে ওই সময় বাস ছাড়ার কোনো সিদ্ধান্ত না পাওয়ায় যাত্রীদের কোনো তথ্য দেয়া সম্ভব হয়নি।
এ ব্যাপারে ঢাকা-কুমিল্লা রুটের বাস রয়েল কোচের কর্মকর্তা আফজাল হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘দুটি শ্রমিক সংগঠনের কারণে এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। এটি কোনো বাস কোম্পানির সমস্যা নয়। অবরোধ বা ধর্মঘটও নয়। ওই সংগঠনগুলোর কারণে আমাদের বাস চলাচল বন্ধ রাখতে হয়েছে।’
এদিকে সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল ঘুরে দেখা যায়, হাজার হাজার যাত্রী ভোর থেকে অপেক্ষা করছেন। অনেকের সঙ্গে পুরো পরিবার। কারও কারও সঙ্গে ভারী ব্যাগ।
সকালে গুলিস্তানে মেয়র হানিফ ফ্লাইওভারে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে ঢাকা জেলা শ্রমিক ইউনিয়নের শতাধিক শ্রমিক লাঠিসোটা হাতে দাঁড়িয়ে আছেন। কার্যালয়ের চাবি তাঁদের কাছে হস্তান্তরের দাবি করছেন। চাবি না পাওয়া পর্যন্ত ওই দুই রুটে বাস চলাচল বন্ধ থাকবে বলে জানান। এদিকে বিষয়টি সমাধানের জন্য সংগঠনটির সঙ্গে পুলিশের ওয়ারী বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) সৈয়দ নূরুল ইসলাম তাঁর সায়েদাবাদ কার্যালয়ে দীর্ঘ সময় বৈঠক করেন। প্রথম দফার বৈঠক শেষে দুপুর পৌনে তিনটার দিকে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, বৈঠক এখনো শেষ হয়নি। বৈঠকে শুধু এক পক্ষ আছে। অপর পক্ষকে অংশ নেওয়ার জন্য বলা হয়েছে। তারা আসার পর সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। তবে ওই কার্যালয়ের নিচে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের শ্রমিকদের দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। গুলিস্তান ও সায়েদাবাদ এলাকাতেও তাদের অবস্থান করতে দেখা গেছে। পরবর্তীতে পৌনে পাঁচটার দিকে ডিসি প্রথম আলোকে জানান, আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধানের আশ্বাস পেয়ে সংগঠন দুটি ধর্মঘট প্রত্যাহার করে নিয়েছে।
এদিকে দুটি সংগঠনই কার্যালয়টিকে নিজেদের বলে দাবি করেছে। দুটি সংগঠনেরই কার্যালয়ের নিবন্ধন নম্বর বি-৪৯৪ এবং ঠিকানা ৪৭ টয়নবি সার্কুলার রোড হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কার্যকরী কমিটির সদস্য আবদুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, তাঁদের সংগঠনটি ১৯৫৬ সালে গঠিত হয়েছে। ১৯৯২ সালে তারা মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি জেনারেল আতাউল গনি ওসমানী প্রতিষ্ঠিত জাতীয় জনতা পার্টির কার্যালয় জনতা ভবনের নিচতলা ভাড়া নেয়। মাসিক ভাড়া ২০ হাজার টাকা। গত শনিবার সকালে হঠাৎ করে ঢাকা জেলা শ্রমিক ইউনিয়নের লোকজন হামলা চালিয়ে কার্যালয় দখলের চেষ্টা চালায়। তিনি আরও বলেন, আগে নৌপরিবহনমন্ত্রী তাঁদের সংগঠনটিকেই সমর্থন দিয়ে আসছিলেন। হঠাৎ করেই তিনি এখন ঢাকা জেলা শ্রমিক ইউনিয়নকে সমর্থন দিচ্ছেন।
অন্যদিকে ঢাকা জেলা শ্রমিক ইউনিয়নের নেতারা দাবি করেছেন, আইন অনুযায়ী শ্রমিক সংগঠনগুলোকে জেলাভিত্তিক হতে হবে। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়ন সেই আইন অনুযায়ী অবৈধ।
এ ব্যাপারে সংগঠনের দপ্তর সম্পাদক ইব্রাহিম দীপক বলেন, ‘২০০৬ সালে ওই সংগঠনটি বিলুপ্ত হয়ে যায়। এরপর শ্রম অধিদপ্তর আমাদের ওই কার্যালয়ের ঠিকানায় সনদ দিয়েছে। এর ফলে অবশ্যই আমাদের দাপ্তরিক কার্যক্রম শুরু করার জন্য এই ঠিকানাতেই থাকতে হবে। অন্য কোথাও কার্যালয়ের জন্য বাড়ি ভাড়া নেওয়ার সুযোগ নেই।’ তিনি আরও বলেন, এ ব্যাপারে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়ন হাইকোর্টে একটি রিট করে। গত বছরের ১৫ ডিসেম্বর হাইকোর্ট সেই রিট খারিজ করে দেন। এ সংক্রান্ত সব কাগজপত্র প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়সহ সংশ্লিষ্ট সব স্থানে দিয়ে গত শনিবার আমরা কার্যালয়টি দেখতে যাই। তিনি দাবি করেন, তাঁদের সংগঠনের সঙ্গে সাড়ে ৫৬ হাজার শ্রমিক রয়েছেন।
এদিকে বঙ্গভবনের পূর্ব দিকে অবস্থিত পরিবহন কার্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, জনতা ভবন নামের ভবনটির নিচতলায় বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের কার্যালয়টি পুলিশ তালাবদ্ধ করে রেখেছে। সেখানের পুলিশি প্রহরা রাখা হয়েছে।
জনতা পার্টির দপ্তর সম্পাদক আমিনুল হক ভূঁইয়া প্রথম আলোকে বলেন, ‘ভবনে কারা আসবে, সে সম্পর্কে আমাকে কিছু জানানো হয়নি। গত শনিবার ঢাকা জেলা শ্রমিক ইউনিয়নের নেতারা কার্যালয়ে আসেন। মিষ্টি বিতরণ করেন। তাঁরা জানান, কার্যালয়ে এখন থেকে তাঁরা অবস্থান করবেন। তাঁদের সঙ্গে আমাদের ভাড়া নিয়ে কোনো কথা হয়নি। ভাড়া নিয়ে আমাদের সঙ্গে ডিড রয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের। এখন পুলিশ কার্যালয়ে তালা দিয়ে অবস্থান করছে।’
রেজিঃ নং চ-৭৩৫
সম্পাদক ও প্রকাশক: এম.ফয়জুল হক শিমুল
সহ: সম্পাদক : হাবিবুর রহমান সুলতান
সহ: সম্পাদক : নুরুল হক মাসুদ
সম্পাদক ও প্রকাশক কর্তৃক নিউ বর্ণমালা অফসেট প্রিন্টিং প্রেস, রাজা ম্যানশন জিন্দাবাজার, সিলেট থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত।

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: * সি-৮/৩০ বনশ্রী ঢাকা।
সিলেট অফিস: কমন মার্কেট (৫ম তলা ) বন্দর বাজার, সিলেট।
বিয়ানীবাজার অফিস: ছফর কমপ্লেক্স, দক্ষিণ বিয়ানীবাজার, সিলেট।
যোগাযোগ মোবাইলঃ +88-01713813124
ই-মেইল ॥ somoychitro@gmail.com
বড়লেখা অফিস: নেহার মার্কেট, ( ২য় তলা), বড়লেখা, মৌলভীবাজার।