সাবেক এমপি মরহুম শরফ উদ্দিন খসরু জীবনকথা

প্রকাশিত: ৭:৩৩ অপরাহ্ণ, জুলাই ১৯, ২০২৬

সাবেক এমপি মরহুম শরফ উদ্দিন খসরু জীবনকথা

॥ ফাতেমা খয়রুন্নেছা ॥

সিলেট-৬ আসনের দু’বারের সংসদ সদস্য ও প্রবীন রাজনীতিবিদ মোঃ শরফ উদ্দিন খসরু গত ১০ জুলাই ২০২৬ইং দিবাগত রাত ১০টায় পীরের বাজারস্থ নিজ বাসায় ইন্তেকাল করেন, ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯১ বছর। তিনি স্ত্রী, ২ ছেলে ও ১ মেয়ে সহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন রেখেগেছেন। তাঁর তিন সন্তানই বিবাহিত। তিনি সকলের কাছে প্রিয় ব্যক্তি ছিলেন। মরহুমের জানাজার নামাজ ১১ জুলাই শনিবার বাদ জোহর সিলেট হযরত শাহজালাল দরগা মসজিদে অনুষ্ঠিত হয়। পরে দরগা শরীপের মাজার প্রাঙ্গনে তাঁর পিতা-মাতার কবরের পাশে তাঁর দাফন সম্পন্ন হয়।

মোঃ শরফ উদ্দিন খসরু’র পিতা কলিকাতার জমসেদপুরে টাটা কোম্পানীতে চাকুরী করতেন। পিতা মরহুম আসদ্দর আলী সাহেবের চাকরীর সুবাধে তাঁর শিক্ষা জীবন শুরু হয় সেখানে। তিনি সাক্সী হাইস্কুলে ইংলিশ মিডিয়ামে ভর্তি হয়ে এম.ই. (৬ষ্ঠ শ্রেণি) পাশ করেন।

১৯৪৭ইং সালে দেশ ভাগের পর নিজ দেশে চলে এসে ভাদেশ^র নাছির উদ্দিন হাইস্কুলে ৭ম শ্রেণিতে ভর্তি হন এবং অংকে লেটার মার্কস সহ প্রথম বিভাগে ম্যাট্রিক পাশ করেন। তারপর সিলেট এমসি কলেজে আই.এস.সিতে ভর্তি হন এবং আবারও অংকে লেটার মার্কসহ প্রথম বিভাগে আইএসসি পাশ করেন। তারপর মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় প্রথম স্থান অধিকার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজে ভর্তি হন এবং মুসলিম হলে সিট পেয়ে ডাক্তারী পড়া শুরু করেন। তিনি মেধাবী ছাত্র ছিলেন। তিনি বাংলা, ইংরেজি ও উর্দুতে পূর্ব প্রস্তুতি ছাড়াই অনর্গল বক্তৃতা দিতে পারতেন। তিনি বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ গ্রহণ করে প্রথম পুরস্কার অর্জন করতেন।

মোঃ শরফ উদ্দিন খসরু রেডিওতে খবর পড়তেন ও ক্রিকেট খেলার ধারা বিবরণী দিতেন। মেডিকেলে পড়ার সময় তিনি বায়ান্নের ভাষা আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। এছাড়াও তিনি সমাজের বিভিন্ন কাজে সাড়া দিয়ে কর্তব্য পালনে দারুন ভাবে উৎসাহী ছিলেন। পরবর্তীতে তিনি সমাজসেবাকে জীবনের ব্রত করে নিলেন।

মরহুম মোঃ শরফ উদ্দিন খসরু কুরআন ও সুন্নার অনুসারী ছিলেন এবং সৎ ও সাদামাটা জীবন যাপন করতেন। তিনি আরাম আয়েশের ধার ধারতেন না। তবুও তার অসুখ-বিসুখ বা কোন কষ্ট আছে বলে মনে হতনা।

বছর খানেক ধরে তাঁর খাওয়ার রুচি কমে যেতে লাগল এবং ক্রমশঃ দুর্বল হতে থাকেন। এমতাবস্থায় তাঁকে সিলেট এম.এ.জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং পরীক্ষা নিরীক্ষার পরে তাঁর কোন অসুখ না পেয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়ে তিনি বাসায় চলে আসেন।

ডাক্তারের ভাষ্যমতে বার্ধক্যজনিত কারণে তিনি খেতে চাচ্ছেন না। তিনি সলিড খাবার নামমাত্র খেতেন এবং লিকুইড খাবারও চা চামচে ১/২ চামচ বা আরও কম খেতেন। বিছানা থেকে নিজের চেষ্টায় উঠতে বসেত পারতেন না। শুধু অল্প বিস্তর পাশ ফেরাতে পারতেন। কিন্তু তাঁর কথাবার্তা ও দৃষ্টি শক্তি স্বাভাবিক ছিল। সর্বোপরি তাঁর স্মরণ শক্তি ছিল দারুন। তাঁর সাথে কথা বললে মনেই হতনা তিনি বয়স্ক ও অসুস্থ।

তাঁর বড় ছেলে হাসান পিতার জন্য ছিলেন নিবেদিত প্রাণ। সে তাঁর সব কাজকর্ম ত্যাগ করে সার্বক্ষণিক তাঁর পাশে থেকে অতি যত্নসহকারে তাঁকে খাওয়ানো থেকে শুরু করে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করা সব কাজই নিজ হাতে করেছেন। তাছাড়া ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া এবং ফোন ও ভিডিও কলে সবার সাথে যোগাযোগ রক্ষা করতো। অনেকে মন্তব্য করেছেন হাসানের মত এমন পিতাসেবা তারা আর দেখেননি।

তিনি ছিলেন একজন সৌভাগ্যশালী ব্যক্তিত্ব। তাঁর জীবন, মরণ, জানাজা ও দাফন সবই সুন্দর ভাবে পরিচালত ও সুসম্পন্ন হয়েছে।

লেখক- মরহুম মোঃ শরফ উদ্দিন খসরু সাহেবের আপন ছোট বোন মিসেস ফাতেমা খয়রুন্নেছা (এম.এ, বি-এড), প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক- সিলেট সরকারি পাইলট হাইস্কুল, কালীঘাট, সিলেট।

এই সংবাদটি 75 বার পঠিত হয়েছে

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ