ঈশ্বরদী উপজেলার সলিমপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ আব্দুল মজিদ বাবলু মালিথা সলিমপুরকে একটি আধুনিক ইউনিয়ন পরিষদ হিসেবে গড়ে তুলতে চান। তিনি বলেন, নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে এই ইউনিয়নবাসির ভাগ্যন্নয়নের জন্য কাজ করে চলেছি। এই ইউনিয়নে শিক্ষার মান উন্নয়নে, কৃষির উন্নয়নে নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছি। তিনি নিজ খরচে মিরকামারী পশ্চিম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মিড-ডে মিল প্রোগ্রাম চালু করেছেন। ইতোমধ্যে গোটা পরিষদকে সোলার প্যানেলের আওতায় আনা হয়েছে। একই সাথে সলিমপুর ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরার কাজ চলমান রয়েছে। চেয়ারম্যান বাবলু নিজ উদ্যোগে তার পরিষদে সোলার প্যানেল স্থাপন করেন। সোলার প্যানেল স্থাপনে প্রথমে এককালীন টাকা লাগলেও এরপর খরচ খুবই কম। সেই সাথে সব সময় বিদ্যুৎ পাওয়া যায়।
সরেজমিন সলিমপুর ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে দেখা গেছে, চেয়ারম্যান বাবলু মালিথা নিজ অফিস কক্ষে বসে অফিস করছেন। তার মাথার উপরে ঘুরছে সোলার ফ্যান, পাশে জ্বলছে সোলার টিউব লাইট। বৈদ্যুতিক পাখা এবং লাইট বন্ধ করে রাখাতেও সোলার টিউব লাইটে অফিস কক্ষে পর্যাপ্ত আলো রয়েছে। ভবনে রং ও সংস্কারের কাজ চলছে। পুরো পরিষদ সীমানা দেয়াল দিয়ে ঘেরা হচ্ছে। পরিষদের সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে নতুন ভাবে ফুল বাগান তৈরীর কাজ চলছে।
সলিমপুর ইউপি চেয়ারম্যান বাবলু মালিথা বলেন, এই ইউনিয়নের আয়তন ৪.৯ বর্গকিলোমিটার জনসংখ্যা ৭৬ হাজার বাড়ির সংখ্যা ১৩ হাজার ৩০০টি ধানের চাতালও ৮টি অন্যান্য ভারী কলকারখানা রয়েছে। এই ইউনিয়নে শতভাগ বিদ্যুতের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। দীর্ঘ ৩০ বছরের মধ্যে এই প্রথম পরিষদে রং ও সংস্কারের কাজ করা হচ্ছে। নতুন ১০ কিলোমিটার পাকা রাস্তার কাজ চলমান রয়েছে। অচিরেই পরিষদে ছাদ কৃষি চালু করতে যাচ্ছি। আগামীতে এই ইউনিয়নের সকল জাতীয় পদক প্রাপ্ত কৃষকদের সম্মাননা প্রদান করা হবে। শিক্ষার মান উন্নয়নে নিজ খরচে মিরকামারী পশ্চিম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মিড-ডে মিল প্রোগ্রাম চালু করেছি। নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে অনুসন্ধান করে বেশি বয়সের মানুষদের বয়স্ক ভাতা প্রদান করা হচ্ছে। শিশুদের বিনোদনের জন্য ইউনিয়ন চত্বরে বিনোদন পার্ক গড়ে তোলা হচ্ছে। সামাজিক আচার অনুষ্ঠান করার জন্য উন্মক্ত মঞ্চের কাজও এগিয়ে চলছে। ইউনিয়নের শিক্ষিত বেকার যুবক-যুবতিদের কম্পিউটার প্রশিক্ষন দিয়ে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। একই সাথে সরকারি এমআইএস পদ্ধতিতে চলতি মাসের মধ্যেই শুমারী করা হবে। এই ইউনিয়নের দারিদ্র বিমোচনে এলাকার হতদরিদ্র নারীদের সেলাই প্রশিক্ষণ শেষে একটি করে সেলাই মেশিন প্রদান করে স্বাবলম্বী করে গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়েছে। ইতোমধ্যে ট্রেনিং সেন্টারের জন্য ঘর নির্মানের কাজ চলছে।
তিনি আরও বলেন, স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করে গড়ে তুলতে হলে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের সম্পূর্ণ স্বাধিনতা দিতে হবে। বিদ্যুতের ঘাটতি পূরণে ইউনিয়ন পরিষদে সোলার প্যানেল স্থাপন করা হয়েছে। সোলার প্যানেল স্থাপনের কারণে তথ্য সেবা নিতে আসা মানুষেরা আর ভোগান্তিতে পড়বেনা। ঘন ঘন বিদ্যুতের লোডসেডিং থেকে পরিত্রাণ পেতে সোলার প্যানেল স্থাপনে কিছুটা হলেও দেশের বিদ্যুতের চাহিদা পূরণে কাজে আসবে। প্রাথমিক ভাবে পুরো পরিষদ জুড়ে সোলার প্যানেল স্থাপন করা হলেও ইউনিয়নের বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে সোলার বাল্ব স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। একই সাথে সলিমপুর ইউনিয়নের মসজিদ, মাদ্রাসা ও কলেজে সোলার প্যানেল স্থাপন করা হচ্ছে। আগামীতে গোটা ইউনিয়নকে সোলার প্যানেলের আওতায় এনে আধুনিক ইউনিয়ন হিসেবে সলিমপুরকে গড়ে তোলা হবে বলে জানান চেয়ারম্যান বাবলু মালিথা।