ঢাকা |
প্রকাশিত: ১২:১১ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬
স্টাফ রিপোর্টার :
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দীর্ঘ ত্যাগ-তিতিক্ষা ও বহু প্রাণের বিনিময়ে দেশে গণতন্ত্র ফিরে এসেছে। এখন সেই গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার পাশাপাশি তা রক্ষা করার দায়িত্বও আমাদের। দেশ পুনর্গঠন ও গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করার মাধ্যমে আগামী প্রজন্মের জন্য একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে। সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
মঙ্গলবার বিকেলে সিলেট নগরভবনে সিলেট সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে আয়োজিত নাগরিক সংবর্ধনায় দেওয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সিলেটের মানুষের প্রশংসা করে রাষ্ট্রপতি বলেন, সিলেট তাঁর অত্যন্ত প্রিয় একটি জায়গা। সুযোগ পেলেই তিনি সিলেটে আসেন। প্রতিবারই এখানকার মানুষের কাছ থেকে উষ্ণ আতিথেয়তা পেয়েছেন। এমনকি কঠিন সময়েও সিলেটের মানুষ তাঁদের পাশে ছিল বলে উল্লেখ করেন তিনি।
রাষ্ট্রপতি বলেন, “সিলেটের মানুষের সঙ্গে অতীতেও ছিলাম, আগামীতেও থাকব। ইনশাআল্লাহ, সিলেটের মানুষ একদিন দেশের নেতৃত্ব দেবে।”
গণতন্ত্রকে সুসংহত করতে সরকার ও বিরোধী দলকে পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সংসদকে কার্যকর করতে হবে। রাজনৈতিক ও বিভিন্ন বিষয়ে মতপার্থক্য থাকবেই। তবে দেশের মৌলিক ও জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে সবাইকে ঐকমত্যে পৌঁছাতে হবে।
দেশ পুনর্গঠনের প্রসঙ্গে রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশ অতীতে বহুবার নানা প্রতিকূলতার মুখে পড়েছে। এখন আবার দেশকে নতুন করে গড়ে তোলার সুযোগ এসেছে। এই সুযোগ কোনোভাবেই নষ্ট করা যাবে না। আত্মনির্ভরশীল বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
সিলেটের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির প্রশংসা করে তিনি বলেন, বাংলাদেশের মতো সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিশ্বের অন্য কোথাও সহজে দেখা যায় না। সিলেটের বিভিন্ন জাতি-গোষ্ঠীর মানুষের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান এর বড় উদাহরণ।
রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, “আগে রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে আপনাদের সঙ্গে যেভাবে কথা বলতাম, এখন সেভাবে কথা বলতে পারি না। কারণ আমি শপথ নিয়েছি—রাষ্ট্রপতি হিসেবে সম্পূর্ণ দলনিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করব।”
সিলেটের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, এই জনপদ নানা কারণে গর্বের। হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরাণ (রহ.)-এর মতো সুফি সাধকদের স্মৃতিবিজড়িত সিলেটে শ্রীচৈতন্যদেবের স্মৃতিও রয়েছে।
এই মাটিতে জন্ম নিয়েছেন হাছন রাজা, রাধারমণ দত্ত, শীতালং শাহ, শাহ আবদুল করিম ও হেমাঙ্গ বিশ্বাসের মতো গুণী ব্যক্তিত্ব। একইভাবে এমএজি ওসমানী, সাইফুর রহমান, এমএ খান ও ইলিয়াস আলীর মতো জাতীয় পর্যায়ের নেতাদের জন্মও এই সিলেটে। নিজস্ব সংস্কৃতি, চা-বাগান ও প্রবাসীদের অবদানের কারণে সিলেটের আলাদা পরিচিতি রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
প্রবাসীদের দেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, সিলেটে বিনিয়োগের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। প্রবাসীরা দেশে বিনিয়োগ করলে স্থানীয় অর্থনীতি ও কর্মসংস্থান আরও গতিশীল হবে।
নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী ও হুইপ জিকে গউছসহ অন্যান্যরা।
প্রথম সিলেট সফর
রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণের পর এটিই ছিল মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের প্রথম সিলেট সফর। মঙ্গলবার সকালে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে তিনি ঢাকা থেকে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। এ সময় তাঁর সঙ্গে স্ত্রীও সফরসঙ্গী হিসেবে ছিলেন।
বিমানবন্দর থেকে তিনি সরাসরি হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরাণ (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করেন। পরে বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে বিকেলে সিলেট নগরভবনে আয়োজিত নাগরিক সংবর্ধনায় যোগ দেন রাষ্ট্রপতি।
রেজিঃ নং চ-৭৩৫
সম্পাদক ও প্রকাশক: এম.ফয়জুল হক শিমুল
সহ: সম্পাদক : হাবিবুর রহমান সুলতান
সহ: সম্পাদক : নুরুল হক মাসুদ
সম্পাদক ও প্রকাশক কর্তৃক নিউ বর্ণমালা অফসেট প্রিন্টিং প্রেস, রাজা ম্যানশন জিন্দাবাজার, সিলেট থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত।

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: * সি-৮/৩০ বনশ্রী ঢাকা।
সিলেট অফিস: কমন মার্কেট (৫ম তলা ) বন্দর বাজার, সিলেট।
বিয়ানীবাজার অফিস: ছফর কমপ্লেক্স, দক্ষিণ বিয়ানীবাজার, সিলেট।
যোগাযোগ মোবাইলঃ +88-01713813124
ই-মেইল ॥ somoychitro@gmail.com
বড়লেখা অফিস: নেহার মার্কেট, ( ২য় তলা), বড়লেখা, মৌলভীবাজার।