‘সংসদীয় রাজনীতিতে জোট ভেঙ্গে রাষ্ট্রপতি করা হোক তৃতীয় দল থেকে!’

প্রকাশিত: ১:৩৯ পূর্বাহ্ণ, মে ২৭, ২০১৭

‘সংসদীয় রাজনীতিতে জোট ভেঙ্গে রাষ্ট্রপতি করা হোক তৃতীয় দল থেকে!’

 এম.ডি কাওছার আলী:

গত কয়েকদিন ধরে ভাবছিলাম একটা বিষয় নিয়ে লিখবো, কিন্তু কাজের প্রচণ্ড চাপে সময় হয়ে উঠছে না। আজ যখন একটু সময় পেলাম তখন একটু লিখি যদিও আমি অতোটা ভাল লিখিনা। রাষ্ট্রের প্রতিটি নাগরিকের উচিত দেশ ও দেশের জনগনের কল্যাণে তার মতামত কোন না কোন ভাবে তুলে ধরা। আজ আমি আমার কিছু ভাবনাসমূহ আপনাদের কাছে শেয়ার করবো। ভুল হলে আগেই ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি। এখন আসি মূল আলোচনায়।

সংসদীয় রাজনীতি: সংসদীয় রাজনীতিতে ক্ষমতার কেন্দ্রে অর্থাৎ সরকারে যাওয়ার জন্য সব রাজনীতি দলই উন্মুখ হয়ে থাকে। এটা দোষের কিছু নয় সব রাজনৈতিক দলের এই স্বপ্ন থাকাটাই স্বাভাবিক। না হলে রাষ্ট্র ব্যবস্থা এক ঘেয়ে হয়ে যায়। সংসদীয় রাজনীতিতে অমর আমাদের দুই পরম শ্রদ্ধেয় মাননীয়া নেত্রীর একজন হলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামীলীগ সভানেত্রী সহ মহাঐক্যজোট নেত্রী শেখ হাসিনা, আরেক জন হলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপিসহ ২০ দলীয় ঐক্যজোটের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। দুই নেত্রীকে বাংলাদেশের সংসদীয় রাজনীতিতে অমর বললাম এই কারনে, একজন হলেন বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী আর আরেক জন হলেন প্রথম মহিলা বিরোধীদলীয় নেত্রী। বর্তমানে এই দুই নেত্রীর দিকেই ভিড় করে রাজনৈতিক দল গুলো। আমার মতে বাংলাদেশ থেকে জোটের রাজনীতি উঠিয়ে দেয়া হোক। একটু চিন্তা করে দেখুন দেশে রাজনীতিতে যত সমস্যা তার পেছনে কিন্তু জোট রাজনীতিই দায়ী। অনেক সময় দেখা যায় জোটের রাজনীতিতে বড় দল দুটোর ছায়া তলে এসে যারা জীবনে মেম্বার বা ইউপি চেয়ারম্যান হওয়ার যোগ্যতা রাখেন না তারা সংসদ সদস্য হয়ে যাচ্ছেন এমনকি মন্ত্রী পর্যন্ত হয়ে যাচ্ছেন। মন্ত্রী-সাংসদ হওয়ার পরে পাল্টে যায় তাদের চেয়ারা। অবস্থা এমন হয় যে বিরোধী দল বা বিরোধী মতকে তুলোধুনো বা সোজা কথায় বলতে গেলে নোংরা-কুৎসিত ভাষা ব্যবহারে বড় দল থেকে তিন হাত এগিয়ে যান। এতে করে কুলশিত হয়ে গেছে রাজনীতি। এরা বড় দলে এসে জোট করে বড় বড় দুর্নীতি করে আর দোষ বর্তায় জোট প্রধানের উপর। তাই আমার মতে বাংলাদেশের রাজনীতিতে জোট প্রথা ভেঙ্গে দেয়া উচিত। সংসদীয় রাজনীতিতে প্রধানমন্ত্রী হবেন বিজয়ী দল থেকে। এটাই ঠিক, এটাই হতে থাকবে। সংসদের অভিভাবক যিনি হবেন অর্থাৎ স্পীকার তিনিও বিজয়ী দল থেকে হবেন তবে ডেপুটি-স্পীকার বিরোধী দল থেকে করা হউক এতে করে বিরোধী দলের সংসদে যাবার আগ্রহও বৃদ্ধি পাবে। আর রাষ্ট্রপতি পদে আমার মতে ভোটের রাজনীতিতে তৃতীয় বিজয়ী দল থেকে করা উচিত। এতে করে রাজনৈতিক দল গুলোর ভিতরে প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি পাবে। বিশেষ করে আমাদের বাম দল গুলো অনেক পিছিয়ে আছে এরাও তখন প্রতিযোগিতায় চলে আসবে। সবকটি দলের সভাপতি বা সভানেত্রী থেকে তৃণমূল নেতা পর্যন্ত হবেন সরাসরি ভোটের মাধ্যমে। এতে করে দলীয় রাজনীতিতে ও প্রতিযোগিতা বাড়বে।

বিচার বিভাগ: বিচার বিভাগ নিয়ে কথা বলা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও অত্যন্ত স্পর্শকাতর। তারপরেও বলছি, আমাদের বিচার বিভাগ কে সম্পূর্ণ স্বাধীন করে দেয়া উচিত। বিচার বিভাগ স্বাধীন হওয়া রাষ্ট্রের প্রতিটি নাগরিকের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ বিচার বিভাগ হল রাষ্ট্রের নাগরিকদের শেষ ভরসাস্থল। আমার মতে বিচারক নিয়োগ ও অপসারণ প্রক্রিয়া রাষ্ট্রপতি বা সংসদের হাতে থাকা উচিত নয়। এতে করে বিচারিক কাজে আমাদের মাননীয় বিচারক গন বাধাগ্রস্থ হন বা আতংকে থাকেন কোন রায়ে সরকার অসন্তুষ্ট হয়। বিচারপতি অপসারণ প্রক্রিয়া সংসদের হাতে থাকলে বিচার বিভাগ স্বাধীন থাকলো?

এ বিষয়ে বিচারকদের অপসারণের ক্ষমতা জাতীয় সংসদের হাতে ন্যস্ত করে আনা সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ঘোষণার রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের করা আপিল শুনানিতে গত মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমের উদ্দেশে বলেছেন, ‘অধস্তন আদালতকে কবজা করে নিয়ে নিচ্ছেন। এখন চাচ্ছেন সুপ্রিম কোর্টকে হাতে নিয়ে নিতে।’

গত কয়েকদিন আগে প্রধান বিচারপতি এও বলেছিলেন আমরা বিচারিক ব্যবস্থায় এখনো পাকিস্তানের থেকে পিছিয়ে আছি।

সত্যিই তো যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ পাকিস্তান, যার নাম শুনলেই আমরা নাক উপরে তুলি, যেখানে প্রতিদিনই কোন কোন জঙ্গি হামলা হচ্ছে, নির্বিচারে মারা যাচ্ছে মানুষ। দেশের অস্তিত্ব যেখানে হুমকির সম্মুখীন। সেই পাকিস্তানের বিচার ব্যবস্থা আসলেই আমাদের জন্য অনুকরণীয়। পাকিস্তানের বিচার ব্যবস্থা এতোই শক্তিশালী যে তাদের প্রেসিডেন্ট-প্রধানমন্ত্রী পর্যন্ত ক্ষমতাচ্যুত হয়েছেন অন্যায় কাজের ফলে। যার উদাহারণ অনেক আছে, যেমন পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইউসুফ রাজা গিলানি, পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী রাজা পারভেজ আশরাফ ও বর্তমান পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফের প্রধানমন্ত্রীত্ব যায় যায় অবস্থা। আমাদের দেশে এমনটি চিন্তা করা যায়?

আমার মতে আমরাও এমন বিচার বিভাগ চাই যাকে সংসদও ভয় করবে বিচার বিভাগকে। আর বিচার বিভাগ ভয় পাবে সংসদকে। (সোজা কথায় কথা গুলো বললাম আরকি)

পুলিশ: রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে পুলিশ হল সবার উপরে। বিজিবি এমনকি আর্মি ও যদি কোন অপরাধে জড়িয়ে যায় সারেন্ডার করতে হয় পুলিশের কাছে। যা আমরা দেখেছি পিলখনায় বিডিআর বিদ্রোহ ও তুরস্কের এরদোয়ান কে উৎখাতে জড়িত সবাই সারেন্ডার করে পুলিশের কাছে। তাই আমাদের পুলিশকে আরো দক্ষ, শক্তিশালী ও রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখা উচিত। রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত না রাখলে ভয়ে সাধারণ নাগরিক পুলিশের শরণাপন্ন হতে চায় না।

দুদক: দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) দুর্নীতি দমন কমিশন কাগজে কলমে রাষ্ট্রের একটি স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও সংবিধিবদ্ধ দুর্নীতি প্রতিরোধক ও দুর্নীতি শনাক্তকারী সংস্থা। এটি দুর্নীতি দমন কমিশন আইন ২০০৪-এর অধীনে পরিচালিত হয়। ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০০৭ সালে জাতিসংঘের দুর্নীতি বিরোধী কনভেনশনে যোগ দেয় দুদক।

কমিশনের দায়িত্ব: তফসিলভুক্ত অপরাধ ও দুর্নীতির যেকোনো অভিযোগ পেলে নিজ উদ্যোগে, বা কোন সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি অথবা তার পক্ষে কোন ব্যক্তির আনীত কোন দুর্নীতির অভিযোগ সম্পর্কে অনুসন্ধান ও তদন্ত অনুষ্ঠান; অনুসন্ধান ও তদন্তের উপর ভিত্তি করে মামলা দায়ের ও পরিচালনা; দুর্নীতি প্রতিরোধের নিমিত্তে সততা ও নৈতিকতার মূল্যবোধের প্রসার ঘটানো এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে জনসচেতনতা তৈরির জন্য পদক্ষেপ গ্রহণ করা; এবং বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় বিদ্যমান বিভিনড়ব ধরনের দুর্নীতির উৎস চিহ্নিত করা এবং যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য যেকোন সুপারিশ তুলে ধরা।

অনুসন্ধান ও তদন্ত পরিচালনায় কমিশনের ক্ষমতা: সাক্ষী তলব, তাদের উপস্থিতি নিশ্চিতকরণ এবং তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ; যেকোন নথি খুঁজে বের করা ও উপস্থাপন করা; সাক্ষ্য গ্রহণ; যেকোনো আদালতের দপ্তর থেকে সরকারি নথি বা এর সত্যায়িত অনুলিপি তলব; সাক্ষীদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নোটিশ ইস্যু এবং নথিপত্র যাচাই এবং এই আইনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হৃদয়ঙ্গম ও পূরণের জন্য প্রয়োজনীয় অন্য যেকোন বিষয়।

দুর্নীতি দমন কমিশন আইন ২০০৪-এর ধারা ১৯ এর উপধারা ৩ অনুযায়ী, “কোন কমিশনার বা কমিশন হইতে বৈধ ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন কর্মকর্তাকে উপ-ধারা (১) এর অধীন ক্ষমতা প্রয়োগে কোন ব্যক্তি বাধা প্রদান করিলে বা উক্ত উপ-ধারার অধীন প্রদত্ত কোন নির্দেশ ইচ্ছাকৃতভাবে কোন ব্যক্তি অমান্য করিলে উহা দ-নীয় অপরাধ হইবে এবং উক্ত অপরাধের জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি অনূর্ধ্ব ৩ (তিন) বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের কারাদন্ডে বা অর্থদন্ডে বা উভয় প্রকার দন্ডনীয় হইবেন।”

আমার মতে দুদককে রাজনৈতিক প্রভাব থেকে বের করে আনা উচিত এবং দুদক প্রধান নিয়োগ প্রক্রিয়াতেও সার্চ কমিটি গঠন করা প্রয়োজন।

নির্বাচন কমিশন: বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১১৮ এর আওতায় বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন স্থাপিত হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের প্রধানকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলা হয়ে থাকে। বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১১৯ এ নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব বর্ণিত হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব হল রাষ্ট্রপতি ও সংসদে নির্বাচন পরিচালনা, নির্বাচনের জন্য ভোটার তালিকা প্রস্তুতকরণ, নির্বাচনী এলাকার সীমানা পুনঃনির্ধারণ, আইন কর্তৃক নির্ধারিত অন্যান্য নির্বাচন পরিচালনা (এর মধ্যে সকল স্থানীয় সরকার পরিষদ যেমনঃ ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, সিটি কর্পোরেশন, উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ, পার্বত্য জেলা পরিষদ অর্ন্তভুক্ত) এবং আনুষঙ্গিক কার্যাদির সুষ্ঠু সম্পাদন। দায়িত্ব পালনে নির্বাচন কমিশন স্বাধীন থাকবেন এবং কেবল এ সংবিধান ও আইনের অধীন হবেন। নির্বাচন কমিশন দায়িত্ব পালনে সহায়তা করা সকল কর্তৃপক্ষের কর্তব্য।

ইসিকে যদি স্বাধীনভাবে কাজ না করতে পারে তাহলে দেশের নির্বাচনী ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়ে। যা আমরা গত কয়েক বছর ধরে প্রত্যক্ষ করে আসছি। আমার মতে ইসিকে সম্পূর্ণ স্বাধীন করে দেয়া উচিত। যা আমরা ভারতের দিকে থাকালে পাই। ভারতের নির্বাচন কমিশন এতোই শক্তিশালী যে প্রধানমন্ত্রী-প্রেসিডেন্ট এর বিরুদ্ধেও নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্গনের অভিযোগ আনতে পারে। আমরা কি আমাদের দেশে তা স্বপ্নেও কল্পনা করতে পারি? আমরা এমনই নির্বাচন কমিশন চাই যারা আচরণবিধি লঙ্গনে কাউকেই ছাড় দেবেনা।

জাতীয় মানবাধিকার কমিশন: বাংলাদেশ সরকারের দীর্ঘ আকাঙ্খিত সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান যা মানবাধিকারের যেকোনো ধরণের লঙ্ঘনের ঘটনাকে বিচারের আওতায় নিয়ে আসার লক্ষ্যে গঠিত। বিগত কয়েক বছরে বাংলাদেশ মানবাধিকার, রাজনীতি এবং নিরাপত্তার ক্ষেত্রে উদ্বেগজনক পরিস্থিতির দিকে ধাবিত হচ্ছিল যার সাথে যুক্ত হয় জনগণের আর্থ-সামজিক কল্যাণের লক্ষ্যে নেয়া মুক্তবাজার ধারণার প্রসারের প্রভাব যা মূলত জনগণের কল্যাণের চাইতে প্রাইভেট সেক্টরের স্বার্থ রক্ষায় অধিক ভূমিকা রাখে। সরকারের এই পরিবর্তিত ভূমিকার দ্বারা সৃষ্ট অর্থনৈতিক অসমতা দেশের ধনী এবং দরিদ্রের মধ্যে স্বার্থগত দ্বন্দ্বের বিভাজন তৈরি করে। এ প্রেক্ষাপটে রাষ্ট্রের জনগণের নিরাপত্তা বিধান এবং অরাজকতা থেকে রক্ষার জন্য রাষ্ট্রকে অধিক সর্তক থাকতে হয়। কিন্তু জনগণের যৌথ ও ব্যক্তিগত অধিকার রক্ষায় কার্যকর কোনো সহায়ক প্রতিষ্ঠান না থাকায় দেশের পরিস্থিতি সংকটের দিকে ধাবিত হচ্ছিল।

বাংলাদেশে জাতীয় মানবাধিকার প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার পরিকল্পনা বিগত কয়েক বছর ধরে চলে আসছে। এ লক্ষ্যে ১৯৯৪ সালের শেষের দিকে প্রথমবারের মতো একটি মানবাধিকার প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার উদ্যোগ নেয়া হয় এবং ১৯৯৫ সালে বাংলাদেশে মানবাধিকারের প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়ন (আইডিএইচআরবি) শীর্ষক একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। ১৯৯৬-২০০১ সাল নাগাদ মানবাধিকারের একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার আইনি কাঠামোর খসড়া তৈরির কাজ পরিচালিত হয়। পরে ২০০১ সালের ১০ ডিসেম্বর বাংলাদেশ সরকার মানবাধিকার কমিশন গঠন করার সম্ভাবনা যাচাইয়ের লক্ষ্যে আইনমন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করে। এ কমিটি মানবাধিকার কমিশন গঠনের আইন প্রণয়নের সাথে সাথে মানবাধিকার রক্ষার লক্ষ্যে একটি পরিপূর্ণ আইন তৈরিরও সুপারিশ করে। ২০০৩ সালের ২৩ জানুয়ারি পর্যন্ত কয়েক দফা আলোচনার পর এই কমিটি একটি খসড়া বিল প্রস্ত্তত করে মন্ত্রিপরিষদে প্রেরণ করে, কিন্তু এই বিলটি মন্ত্রিপরিষদের সভায় উত্থাপন করা হয় নি। ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি তত্ত্বাবধায়ক সরকার দেশে মানবাধিকারের প্রতি সম্মান প্রদর্শন এবং মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে মানবাধিকার কমিশন গঠনের উদ্যোগের ঘোষণা দেয়। ২০০৭ সালের ৮ সেপ্টেম্বর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ লক্ষ্যে উপদেষ্টা পরিষদে একটি খসড়া উত্থাপন করে। পরিষদ নীতিগতভাবে খসড়া অনুমোদন করে এবং আইন সচিবের নেতৃত্বে সাত সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে। এ কমিটিকে খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদনের মধ্য দিয়ে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব এর বাস্তবায়নের লক্ষ্যে পুনরায় প্রেরণের জন্য আদেশ দেয়া হয়। পুনঃসংষ্কার করা প্রস্তাবটি আইন, বিচার এবং সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় পরবর্তী সময়ে উপদেষ্টা পরিষদে পেশ করে এবং ২০০৭ সালের ৯ ডিসেম্বর তা অনুমোদন লাভ করে।

আমার মতে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকেও রাজনৈতিক প্রভাবমুক্তও রাখা উচিত এবং দুদক প্রধান নিয়োগ প্রক্রিয়াতেও সার্চ কমিটি গঠন করা প্রয়োজন।

জাতীয় ঐক্য জরুরী: আমাদের দেশের জাতীয় উন্নয়নে প্রতিটি দলের জাতীয় ইস্যুতে রাজনৈতিক ঐক্য খুবই জরুরী। এর বিকল্প নেই। জাতীয় উন্নয়নের কথা যখন তুললাম তখন আমাকে একটি মূল্যবান উক্তি তুলে ধরতেই হবে। গত ২৩শে মে ঢাকা সফররত শ্রীলঙ্কার সাবেক প্রেসিডেন্ট চন্দ্রিকা কুমারাতুঙ্গা বলেছেন, “কোনো দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে সব শ্রেণি পেশার মানুষের সমন্বিত অংশগ্রহণ প্রয়োজন। শ্রীলঙ্কা এক্ষেত্রে সফল হয়েছে। সমাজে বিভক্তি তো নয়ই, একটি ক্ষুদ্র গোষ্ঠীকেও যদি তার ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয় বা উন্নয়নের মূল স্রোতধারা থেকে আলাদা করে রাখা হয় তাহলে এটি সামগ্রিক উন্নয়ন প্রক্রিয়াকে ভেস্তে দিতে পারে।”

সম্পাদক, নিউজ অর্গান টোয়েন্টিফোর.কম।

এই সংবাদটি 839 বার পঠিত হয়েছে

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ