শিক্ষক সংকটে বিয়ানীবাজারের প্রাথমিক শিক্ষার অগ্রগতি ব্যাহত

প্রকাশিত: ৭:৩০ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ২৪, ২০১৬

শিক্ষক সংকটে বিয়ানীবাজারের প্রাথমিক শিক্ষার অগ্রগতি ব্যাহত

হাসান আহমদ: কাঠামোগত বিভিন্ন উন্নয়ন হলেও শিক্ষক সংকটের কারণে বিয়ানীবাজারের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রমের কাঙ্খিত উন্নয়ন ব্যাহত হচ্ছে। দীর্ঘদিন থেকে শূন্য থাকা প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগ না হওয়ায় প্রয়োজনের চেয়ে কম শিক্ষক দিয়ে চলছে এ উপজেলার প্রায় ৫০টি বিদ্যালয়।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস থেকে প্রাপ্ত তথ্যমতে, বিয়ানীবাজারে বর্তমানে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে ১৫১ টি। এর মধ্যে ১৭টি প্রধান শিক্ষক এবং ১২৬টি সহকারী শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। এসব বিদ্যালয়ে শিক্ষক ছাড়া দীর্ঘদিন থেকে চলা প্রাতিষ্ঠানিক অন্যান্য সমস্যার দৃশ্যমান সমাধান হয়েছে। তথ্যমতে, ২০০৯ সাল থেকে এ পর্যন্ত উপজেলার ১০৮টি স্কুলে নতুন ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। শিক্ষা অধিদপ্তর এবং স্থানীয় উদ্যোগে প্রায় শতাধিক বিদ্যালয়ে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে। শিক্ষা অফিস সূত্রের দাবী, শিক্ষা-ক্রীড়া সকল ক্ষেত্রেই বিয়ানীবাজারে প্রাথমিকের শিক্ষার্থীরা এগিয়ে যাচ্ছে। আধুনিক ও যুগপযোগী শিক্ষা বিস্তারে সরকারের নানা উদ্যোগের সুফলও ভোগ করছে ১৫১টি বিদ্যালয়।

সূত্রমতে, এ পর্যন্ত সরকারিভাবে উপজেলার ১২টি এবং স্থানীয় আসনের এমপির উদ্যোগে ৭০টি বিদ্যালয়ে ল্যাপটপ-প্রজেক্টর দেয়া হয়েছে। বাকী থাকা বিদ্যালয়গুলোতে একই ধরণের ল্যাপটপ-প্রজেক্টর পৌঁছানোর উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে। তাছাড়া উপজেলার প্রায় সব বিদ্যালয়ে সিটিজেন চার্টার স্থাপনের কাজ শেষের পথে। প্রতি বছরই প্রতিটি প্রাথমিকের শিক্ষার্থীরা আন্ত: প্রাথমিক, বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গমাতা ফুটবল টুর্নামেন্টসহ নানা ক্রীড়া প্রতিযোগীতায় অংশগ্রহণ করে। এসব প্রতিযোগীতার জন্য সরকারি ভাবে প্রতি বছর বরাদ্দ দেয়া হয় বলেও জানায় শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়।

২০০৯ সাল থেকে উল্লেখিত সকল ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জিত হলেও শিক্ষক সংকটের সমাধান না হওয়ায় এখনও পিছিয়ে রয়েছে এ উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষার অগ্রগতি। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রত্যন্ত অঞ্চলের বিদ্যালয়গুলোতেই বর্তমানে শিক্ষক সংকট প্রকটভাবে দেখা দিয়েছে। যে ১৭টি প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য সে ১৭টি বিদ্যালয়ই অনুন্নত গ্রামাঞ্চলের। সহকারী শিক্ষক পদে খালি থাকা ১২৬টি পদই বিভিন্ন গ্রামের স্কুলের। ১জন কিংবা ২জন শিক্ষক দিয়ে চলছে অনেক বিদ্যালয়। এসব প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগ না হওয়ার কারণ নিয়ে অনুসন্ধানে জানা যায়, এ উপজেলায় স্থানীয় শিক্ষকের সংখ্যা তুলনামূলক কম। নিয়োগ পরীক্ষায় স্ব স্ব এলাকার অল্প সংখ্যক শিক্ষক উত্তীর্ণ হতে পারায় গ্রামের বিদ্যালয়ে দূরবর্তী বিভিন্ন স্থানের শিক্ষকরা নিয়োগ পেয়ে থাকেন। অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা সহ আবাসন সমস্যার কারণে কিছুদিন পরেই নিয়োগ পাওয়া শিক্ষকরা বদলির জন্য আবেদন করেন। বদলির ‘যৌথিক’ কারণ দেখিয়ে আবেদনের ফলে বেশীরভাগ শিক্ষক-শিক্ষিকা ২ বছরের আগেই সুবিধাজনক স্থানে চলে যান। ফলে শূন্য হয়ে যায় অনেক পদ।

অপরদিকে, উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থাসহ সুবিধাজনক স্থান থেকে কোন শিক্ষক গ্রামের অনুন্নত স্কুলে যেতে রাজি না থাকায় ২ কিংবা ৩জন শিক্ষক দিয়েই চলছে প্রায় অর্ধশতাধিক প্রাথমিক বিদ্যালয়। শিক্ষক সংকটে থাকা একাধিক বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সাথে যোগাযোগ করলে যথাযথ নিয়মনীতি অনুসরণ করে শিক্ষক-শিক্ষিকা বদলি করা হয় কি না এ নিয়ে তারা সন্দেহ প্রকাশ করেন। তবে বদলির ক্ষেত্রে কখনো অনিয়ম হয়নি দাবী করে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) মো: মাসুম মিয়া বলেন,

‘বদলি সহ প্রাথমিক শিক্ষা তদারকির জন্য উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কমিটি রয়েছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার এই কমিটির উপদেষ্টা, উপজেলা চেয়ারম্যান সভাপতি এবং শিক্ষা কর্মকর্তা সচিব থাকেন। যে কোন শিক্ষক বদলির আবেদন করার পর ১১ সদস্য বিশিষ্ট শিক্ষা কমিটি ঐ আবেদন পর্যালোচনা করে সুপারিশ প্রেরণ করেন। শূন্য পদের তালিকা করে ঐ পদগুলোতে শিক্ষক নিয়োগ দেয়ার জন্য আবেদন করা হয়েছে। শীঘ্রই এর সমাধান হবে বলে আশা করছি।’

তিনি বলেন, ‘মূলত নিয়োগ পরীক্ষায় স্থানীয় শিক্ষকরা উত্তীর্ণ হতে না পারায় এই সমস্যা দেখা দিচ্ছে। শিক্ষক স্থানীয় হলে বদলির প্রয়োজন দেখা দিত না। তাই স্থানীয় শিক্ষিতরা শিক্ষক হওয়ার মানসে এগিয়ে আসা উচিত।’

এই সংবাদটি 534 বার পঠিত হয়েছে

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ