রিখটার স্কেল কীভাবে ভূমিকম্প পরিমাপ করে

প্রকাশিত: ২:১৪ অপরাহ্ণ, মার্চ ৩০, ২০২৫

রিখটার স্কেল কীভাবে ভূমিকম্প পরিমাপ করে

রিখটার স্কেল কীভাবে ভূমিকম্প পরিমাপ করে
রিখটার স্কেল ভূমিকম্পের মাত্রা মাপার একটি পদ্ধতি, যা ভূমিকম্পের শক্তি বা কম্পনের তীব্রতা পরিমাপ করে।
যখন ভূমিকম্প হয়, তখন ভূপৃষ্ঠ কাঁপতে থাকে। এই কম্পন সিসমোগ্রাফ নামের একটি যন্ত্র রেকর্ড করে। যন্ত্রে কম্পনের ‘অ্যামপ্লিটিউড’ বা বিস্তার পরিমাপ করা হয়। সিসমোগ্রাফ কম্পনের সর্বোচ্চ উচ্চতা মাপে, যা ভূমিকম্পের শক্তির সঙ্গে সম্পর্কিত।
রিখটার ও গুটেনবার্গ ভূমিকম্পের শক্তি নির্ধারণের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য পদ্ধতি তৈরি করতে চেয়েছিলেন। তাঁরা বিশেষভাবে উড-অ্যান্ডারসন টর্শন সিসমোমিটার ব্যবহার করে ভূমিকম্প তরঙ্গ রেকর্ড করেন।
ভূকম্পনের সর্বোচ্চ কম্পনমাত্রা পরিমাপ করে এবং ভূকম্পনের উৎপত্তিস্থল থেকে দূরত্ব হিসাব করে, রিখটার ও গুটেনবার্গ একটি লগারিদমিক স্কেল তৈরি করেন। এই স্কেলে ১ থেকে ১০ পর্যন্ত ভূমিকম্পকে ভাগ করা হয়। প্রতিটি সম্পূর্ণ সংখ্যার বৃদ্ধি ভূমিকম্পের কম্পনমাত্রায় ১০ গুণ বেড়ে যায় এবং সেটার ধ্বংসাত্মক শক্তি বাড়ে ৩১ দশমিক ৬ গুণ।

প্রাথমিকভাবে রিখটার স্কেলটি শুধু দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার ভূমিকম্প পরিমাপের জন্য নকশা (ডিজাইন) করা হয়েছিল। তবে এটি কার্যকর প্রমাণিত হওয়ায় বিশ্বব্যাপী ভূমিকম্প পরিমাপের মানদণ্ড হিসেবে গৃহীত হয়।
পরবর্তীকালে ভূকম্পবিদেরা রিখটার স্কেলের কিছু সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে ওঠার জন্য মোমেন্ট ম্যাগনিচিউড স্কেল (Mw)-সহ অন্যান্য স্কেল তৈরি করেন, বিশেষত বৃহৎ ভূমিকম্পগুলো পরিমাপের জন্য। তা সত্ত্বেও রিখটার স্কেল এখনো ভূকম্পবিদ্যার গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
রিখটার স্কেলের আগে ম্যানুয়েল পদ্ধতিতে ভূমিকম্প মাপা হতো। এর মধ্যে রয়েছে মার্কেলি ইনটেনসিটি স্কেল (১৯০২), রসি ফরেল স্কেল (১৮৭৩) ও চীনের হিস্টরিকাল মেথড। এগুলো মূলত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ দেখে ভূমিকম্পকে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ভাগ করত। এ পদ্ধতিতে ভূমিকম্পে কত শক্তি নির্গত হয়, সেটা বের করা যেত না। এগুলো অবশ্য নির্ভুল পরিমাপও ছিল না।

এই সংবাদটি 335 বার পঠিত হয়েছে

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ