রামাযানের প্রস্তুতি (১)

প্রকাশিত: ১:২৯ অপরাহ্ণ, জুন ৩, ২০১৬

——————————-
মাহে রামাযান সমাগত। বরণের প্রস্তুতি চলছে
নানাভাবে। কেউ প্রয়োজনীয় কেনাকাটা সেরে
নিচ্ছেন।
হাফেজদের চলছে তারাবীহ প্রস্তুতি।
পোশাক ব্যবসায়ীদের চলছে মাল সংগ্রহের
সীমাহীন ব্যস্ততা। খাদ্যব্যবসায়ীরা স্টক করছেন
প্রয়োজনীয় আইটেম; সবমিলিয়ে প্রস্তুতিজঙ্গ!
রামাযান আসে রামাযান যায়, আমি থেকে যাই
আগের মতোই। মাস শেষে ঈদে নতুন জামা গায়ে
চড়লেও আমি সেই পুরনো অপরাধীই!
নিজেকে পবিত্র করার যে মহান সুযোগ পেয়েছিলাম
সেটা গ্রহণকারী ভাগ্যবানদের মিছিলে নিজেকে
অন্তর্ভুক্ত করতে পারিনি।
আসুন না এবার একটু ঘুরে দাঁড়ানোর প্রতিজ্ঞা করি!
এবারের রামাযান হোক নিজেকে পবিত্র করার নতুন
মাইলফলক!
তার জন্যে দরকার পরিকল্পনা; কীভাবে কাটাবো
মাহে রামাযান?
এর জন্য প্রথম করণীয় হলো নিয়মানুবর্তিতা তৈরি
করা।
এখনি হাতে কাগজ কলম নিই।
আমার পুরো চব্বিশঘণ্টা সামনে আনি।
অতীতের দিনগুলো নিয়ে ভাবি………….;
রেজাল্ট আসতে পারে আমি কিছু সময় গুনাহের
কাজে লিপ্ত থাকতাম ( নাও আসতে পারে) যেমন
টেলিভিশনে খেলা, নাটক, সিনেমা অথবা
খিস্তিখেওড়ে ভরা ঠগ (টক) শো দেখি। প্রতিদিন
এতে এক/দু’ঘণ্টা বরবাদ করতাম। প্রতিজ্ঞা করি
রামাযানে সব বাদ। এবার হিসেব শুরু করি। গুনাহ
ছাড়া বাবদ একঘণ্টা (কম-বেশ হতে পারে) পেলাম,
এটাকে নোট করি।
এবার অতীতস্মৃতিতে আবার ঢুকি, পেয়ে যাবো কিছু
অপ্রয়োজনীয় কাজ, যেগুলো পুরোপুরি বা আংশিক
ছেড়ে দেওয়া সম্ভব। যেমন অপ্রয়োজনীয় গল্প-
আড্ডা, ফেজবুকে সময় পার, গল্প-উপন্যাস, পেপার-
পত্রিকা পাঠ। পুরোপুরি ছেড়ে দিয়ে বা আংশিক
ছেড়ে এখান থেকেও বের করতে পারি একঘণ্টা (কম-
বেশ হতে পারে)।
নোট করি, যোগ করি আগের সময়ের সাথে।
আবার ফিরি অতীতস্মৃতিতে।
এবার আমার প্রয়োজনীয় কাজগুলো দেখি।
রাতদিন মিলে ঘুমাতাম আটঘণ্টা। ইচ্ছে করলেই
এখান থেকে বের করতে পারি একঘণ্টা, যুক্ত করি
আগের সাথে।
(১+১+১=৩)
সকাল-বিকেলের নাস্তাসহ মোট চারবার সামনে
খাবার আসে, আধাঘণ্টা করে ব্যয় করলে দুইঘণ্টা
লাগে। রামাযানে তিনবার সুযোগ হবে, আধাঘণ্টা
বেঁচে গেলো, যুক্ত করি আগের সাথে।
বোনদের রান্নার ক্ষেত্রেও একই হিসাব প্রযোজ্য।
মোটকথা, অতীতের পুরো সময়টাকে তিনটা ভাগে
ভাগ করি;
১. গুনাহের কাজে ব্যস্ততা, যা পুরোপুরি ছাড়ার
প্রতিজ্ঞা থাকবে।
২. অপ্রয়োজনীয় কাজের ব্যস্ততা, পুরোপুরি সম্ভব
নাহলে আংশিক ছাড়ার দৃঢ় অঙ্গীকার করা।
৩. দৈনন্দিন জীবনের প্রয়োজনীয় কাজ,
যা কিছু কমিয়ে নিতে পারি অনায়াসেই।
এবার হিসেবে করলে দেখা যাবে ৩/৪ ঘণ্টা
অতিরিক্ত পেয়ে যাচ্ছি। নিয়মানুবর্তিতা ঠিক করে
এভাবেই হোক
আমাদের রামাযানের প্রথম প্রস্তুতি!
এইচ এম জুনাইদ আল হাদী।

এই সংবাদটি 1401 বার পঠিত হয়েছে

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ