রাজশাহীর আলু চাষিদের মনে খুশির জোয়ার

প্রকাশিত: ৮:৪৪ পূর্বাহ্ণ, মার্চ ১০, ২০১৭

রাজশাহীর আলু চাষিদের মনে খুশির জোয়ার

রাজশাহী বিভাগীয় চীফ:
এখন ক্ষেত থেকে আলু উঠানোর ভরা মৌসুম চলছে। রাজশাহীর মাঠে মাঠে আলু তোলার হিড়িক পড়েছে। ভাল আবাদ ও দাম বেশী পাওয়ায় চাষি পরিবারে বইছে খুশির জোয়ার। এবারে আলুচাষে অনুকুল আবহাওয়ায় থাকলেও কয়েকদিন ধরে রাজশাহীর আকাশে মেঘ দেখা দেয়ায় আলু তুলতে হুড়াহুড়ি শুরু করেছে চাষিরা।
গত মৌসুমে শেষের দিকে আলুর ভাল দাম এবং অনুকুল আবহাওয়া থাকায় রাজশাহীতে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রায় সাড়ে ৩ হাজার হেক্টর বেশী জমিতে আলু আবাদ হয়েছে। আলুর উৎপাদন ভাল হচ্ছে বলে জানিয়েছেন আলু চাষী ও কৃষিবিদরা। জেলার বিভিন্ন উপজেলায় আবাদ হয়েছে ৩৬ হাজার ৯শ’ হেক্টর জমিতে।
রাজশাহীর আলু চাষী ও কৃষিবিদদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত মৌসুমে আলুর দাম খুব একটা ভাল ছিল না। হিমাগারে রক্ষিত বেশীরভাগ আলু বিক্রিতে চাষিরা লোকসানের মুখে পড়ে। তবে মৌসুমের শেষের দিকে আলুর দাম বেড়ে যাওয়ায় অনেক চাষি ও ব্যবসায়ীর লাভ হয়েছে। গত বছরের লোকসান পুষিয়ে নিতে এবং লাভবান চাষি ও ব্যবসায়ীরা এবার গত বছরের চেয়ে বেশি জমিতে আলু আবাদ করেছেন। এখন পর্যন্ত বড় ধরনের কোন দুর্যোগ না হওয়ায় এবার উৎপাদন ভাল হয়েছে।
রাজশাহীর মাঠে মাঠে যে দিকেই চোখ যাবে সেদিকেই দেখা মিলছে আলু তোলার দৃশ্য। কোন কোন দেখা যাচ্ছে গরুর লাঙ্গলের সাহায্যে ক্ষেতে ভোড় দিচ্ছে। কোন কোন জমিতে ভোড় দেয়া আলু সংগ্রহ করছে কৃষক-কৃষানীসহ তাদের ছেলে মেয়েরা। পাশাপাশি শ্রমিকরা আলু বস্তাতে সংরক্ষণ করে বিক্রি ও হিমাগারজাত করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। আবার এই বস্তা করা আলু ভুটভুটি, মিনিট্রাক(লরি) ও ট্রাকে বহন করে চলেছে।
চাষীরা বলছেন, গত ২/৩ বছর যাবত আলুর আবাদ ও উৎপাদন ভালো হচ্ছে। গত বছর তারা উঠতি মৌসুমে আলুর দামও পেয়েছেন ভালো। উঠতি মৌসুমে ৭/৮শ’ টাকা বস্তা (৮৫ কেজি) বিক্রি হয়। কিন্তু এবারে প্রতি বস্তা আলু বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার থেকে এক হাজার পঞ্চাশ টাকায়। উঠতি সময়েই আলু বিক্রিতে লাভের মুখ দেখছেন চাষিরা। প্রতি বিঘা (১ হেক্টর= প্রায় সাড়ে সাত বিঘা) জমিতে নীট খরচ বাদ দিয়ে লাভ হচ্ছে ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা।
মৌসুমের উঠতি সময়ে যতই লাভ হোক না কেন-প্রান্তিক চাষি ছাড়া বেশীরভাগ আলুচাষি ও ব্যবসায়ীরা এ সময়ে আলু বিক্রি করেন না। আবার বেশীরভাগ বড় চাষি ও ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন হিমাগার থেকে ঋণ নেওয়ায় প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী হিমাগারে আলু রাখেন এবং রাখতে বাধ্য হোন। তবে সব মিলিয়ে এবারে আলুর উৎপাদন ভাল হওয়ায় চাষি পরিবারে আনন্দের বাতাস বইছে।
রাষ্ট্রপতি পদকপ্রাপ্ত আলু চাষী বড়গাছির রহিমুদ্দিন সরকার বলেন, অনুকূল আবহাওয়া এবং ভাল মানের বীজ দিয়ে আবাদ করায় রাজশাহীতে আলুর আবাদ ও উৎপাদন দুটোই বাড়ছে। এবার তিনি ও তার ছেলেরা মিলে প্রায় ১৫০ বিঘা জমিতে আলু আবাদ করেছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় উৎপাদন ভাল হয়েছে। তার এলাকার অন্যান্য চাষিদের আবাদও এবার ভাল হয়েছে এবং উৎপাদন বেশী পাচ্ছে। তবে এরই মধ্যে কিছু কৃষক ছত্রাকনাশক স্প্রে করায় আলুর গাছ দূর্বল ও আলুতে বিষক্রিয়া দেখা দেওয়ায় ওইসব ক্ষেতে উৎপাদন কম হয়েছে।
তিনি বলেন, রাজশাহীর কোল্ড স্টোরেজ গুলোর ধারন ক্ষমতার চেয়ে অনেক বেশি আলু এখানে উৎপাদন হচ্ছে। তাই স্টোরে জায়গা না পাওয়ায় অনেককে অন্যান্য জেলায় আলু বিক্রি করে দিতে হয়। তিনি রাজশাহীতে কোল্ড স্টোরেজের সংখ্যা আরো বৃদ্ধি করা প্রয়োজন বলে মনে করেন।
রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায় গতবছর রাজশাহীতে আলু আবাদ হয়েছিল ৩৫ হাজার ৩৩৫ হেক্টর জমিতে। এবার আবাদ হয়েছে ৩৬ হাজার
৯শ’ হেক্টর জমিতে। আবাদের লক্ষমাত্রা ধরা হয়েছিল ৩৩ হাজার ৪শ’ হেক্টর জমিতে। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে আবাদ বেড়েছে প্রায় সাড়ে তিন হাজার হেক্টর। রাজশাহীতে কোল্ড স্টোরেজ রয়েছে ২৮টি। এগুলোর মোট ধারণ ক্ষমতা প্রায় ৩ লাখ মেট্রিক টন।
রাজশাহী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক দেব দুলাল ঢালী বলেন, অনুকুল আবহাওয়া থাকায় এবং এখন পর্যন্ত কোন ধরণের প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হওয়ায় উৎপাদন বেশী হচ্ছে। তিনি আরো বলেন এখন প্রাকৃতিক দুর্যোগ হলেও আলু ক্ষেতের তেমন ক্ষতি হবে না।

এই সংবাদটি 606 বার পঠিত হয়েছে

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ