ঢাকা |
প্রকাশিত: ২:২৯ অপরাহ্ণ, জুন ২৬, ২০১৬
মাগফিরাতের দশকের আজ শেষ দিন। আমরা জানি না, আমাদের মাগফিরাত হল কিনা। আল্লাহ তায়ালার ক্ষমা লাভের আকাক্সক্ষায় নিরন্তর ক্ষমা চাইতেই থাকব। তিনি অবশ্যই আমাদের মাগফিরাতের দোয়া কবুল করবেন।
রমজানের রোজা উম্মতে মুহাম্মদির জন্য এক অনুপম উপহার। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) এরশাদ করেন, আমার উম্মতকে রমজান উপলক্ষে এমন পাঁচটি বিষয় দান করা হয়েছে, যা আগের কোনো উম্মতকে দেয়া হয়নি। পাঁচটি বিষয় হল- ১. রোজাদারের মুখের গন্ধ আল্লাহর কাছে মিশকে আম্বরের চেয়েও অধিক সুগন্ধিযুক্ত। ২. রোজাদারের জন্য সব মাখলুক, প্রাণী, এমনকি নদীর মাছ পর্যন্ত দোয়া করতে থাকে। ৩. রোজাদারের উদ্দেশে আল্লাহপাক প্রতিদিন জান্নাতকে নতুন নতুন রূপে সাজাতে থাকেন। ৪. রমজানে বড় বড় শয়তানদের শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা হয় এবং ৫. রমজান উপলক্ষে রোজাদারকে ক্ষমা করা হয়। বিশেষভাবে শেষ দিনে তাদের ক্ষমা করে দেয়া হয়। (আহমাদ, আল-আয়হাকি, আল-বায্যার)।
হজরত ওমর (রা.) এর মতো একজন সাহাবি এবং মুসলিম জাহানের দ্বিতীয় খলিফা সম্পর্কে বর্ণিত আছে যে, কোনো এক ঈদুল ফিতরের দিন তিনি দরজা বন্ধ করে কাঁদছিলেন এবং দোয়া করছিলেন। তাকে যখন বলা হল, হে আমিরুল মুমিনিন! আজ ঈদের খুশির দিনে সবাই যখন আনন্দ করছে, তখন আপনি কাঁদছেন কেন? হজরত ওমর (রা.) বললেন, ‘আমি কি জানি যে, এ রমজানে আমার মাগফিরাত হয়েছে কিনা, আল্লাহ আমাকে ক্ষমা করেছেন কিনা।’
এ ক্ষমা পাওয়ার জন্য আমাদের তিনটি কাজ করতে হবে- ১. নিজে অন্য মানুষকে ক্ষমা করতে হবে। যে মানুষকে ক্ষমা করে সে আল্লাহর পক্ষ থেকে ক্ষমা পায়। ২. আল্লাহর কাছে বারবার কাকুতি-মিনতির সঙ্গে দোয়া করে ক্ষমা চাইতে হবে। যে বান্দা বারবার ক্ষমা চায়, আল্লাহ অবশ্যই তাকে ক্ষমা করে দেন। ৩. খাঁটি অন্তরে আল্লাহর কাছে তওবা-ইসতেগফার করতে হবে, নিজের জীবনের সব গোনাহের কথা স্মরণ করে অনুতপ্ত হতে হবে এবং আর গোনাহ করবে না মনে মনে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হতে হবে। আর তা করতে পারলেই কেবল আল্লাহর কাছে ক্ষমা পাওয়ার আশা করা যায়।
হজরত জাবের ইবনে সামুরা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একবার রাসুল (সা.) মসজিদের মিম্বরে আরোহণ করে পরপর তিনবার আমিন বললেন। রাসুল (সা.) বলেন, হজরত জিবরাঈল (আ.) আমার সামনে এলেন এবং বললেন, হে মুহাম্মদ (সা.)! যে ব্যক্তি তার বাবা-মা’র অন্তত একজন জীবিত পেল, কিন্তু তার খেদমত করে জান্নাত অর্জন করতে পারল না সে ধ্বংস হয়ে যাক। এ কথা তিনি বলে আমাকে আমিন বলতে বলেন, আমি বললাম আমিন। অতঃপর তিনি বললেন, হে মুহাম্মদ (সা.) যে ব্যক্তি রমজান পেল কিন্তু তার গোনাহ মাফ করাতে পারল না সে ধ্বংস হয়ে যাক। তখন তিনি আমাকে আমিন বলতে বললেন, আমি বললাম, আমিন। যে ব্যক্তি আপনার নাম উচ্চারিত হওয়ার পর আপনার ওপর দুরুদ পাঠ করল না সে ধ্বংস হয়ে যাক। তখন তিনি আমাকে আমিন বলতে বললেন, আমি বললাম, আমিন (আত্-তিবরানি, ইবনে হিব্বান, আত্-তারহিব ওয়াত্ তারগিব : ৩৬৮৬)।
রোজা এমন এক ইবাদত, যার মাধ্যমে বান্দা আল্লাহর ক্ষমা লাভে সক্ষমতা অর্জন করতে পারে। অবশ্য অন্য সব ইবাদত যথারীতি পালন করা পূর্বশর্ত হিসেবে বিবেচিত। রমজানের শেষ দশকে কদরের রাত রয়েছে, যে রাতের মর্যাদা হাজার রাতের চেয়েও উত্তম। একবার হজরত আয়েশা (রা.) রাসুল (সা.)কে জিজ্ঞেস করেন, হে আল্লাহর রাসুল! যদি আমি লায়লাতুল কদর পাই তাহলে কোন দোয়া করে ক্ষমা চাইব? তখন রাসুল (সা.) এরশাদ করেন, ‘তখন তুমি বলবে, হে আল্লাহ! তুমি বড়ই ক্ষমাশীল, ক্ষমা করতে ভালোবাস, তাই আমাকে ক্ষমা করে দাও।’ তাই আমরাও এ দোয়া বেশি বেশি পড়ে আল্লাহর কাছে আমাদের গোনাহের মাগফিরাত চাইব, হে আল্লাহ! তুমি আমাদের ক্ষমা করো, ক্ষমা চাই। আমিন।
লেখক : অধ্যক্ষ, সরকারি মাদরাসা-ই-আলিয়া, ঢাকা
রেজিঃ নং চ-৭৩৫
সম্পাদক ও প্রকাশক: এম.ফয়জুল হক শিমুল
সহ: সম্পাদক : হাবিবুর রহমান সুলতান
সহ: সম্পাদক : নুরুল হক মাসুদ
সম্পাদক ও প্রকাশক কর্তৃক নিউ বর্ণমালা অফসেট প্রিন্টিং প্রেস, রাজা ম্যানশন জিন্দাবাজার, সিলেট থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত।

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: * সি-৮/৩০ বনশ্রী ঢাকা।
সিলেট অফিস: কমন মার্কেট (৫ম তলা ) বন্দর বাজার, সিলেট।
বিয়ানীবাজার অফিস: ছফর কমপ্লেক্স, দক্ষিণ বিয়ানীবাজার, সিলেট।
যোগাযোগ মোবাইলঃ +88-01713813124
ই-মেইল ॥ somoychitro@gmail.com
বড়লেখা অফিস: নেহার মার্কেট, ( ২য় তলা), বড়লেখা, মৌলভীবাজার।