যমুনার ভয়াবহ ভাঙনে দিশেহারা কয়েক শতাধিক পরিবার

প্রকাশিত: ১:১৭ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ২৩, ২০১৭

যমুনার ভয়াবহ ভাঙনে দিশেহারা কয়েক শতাধিক পরিবার

এম সাইদ (তন্ময়) :
ভারতের আসামে ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢল এবং গত চারদিন যাবৎ সিরাজগঞ্জসহ উত্তরাঞ্চলে প্রবল বর্ষণ শুরু হওয়ায় সিরাজগঞ্জের নিকট যমুনা নদীতে পানি বৃদ্ধির সাথে শুরু হয়েছে ভয়াবহ ভাঙন। এরই মধ্যে শুভগাছা, রতনকান্দি এবং ছোনগাছা ইউনিয়নের ৬টি গ্রামের আরো দুই শতাধিক বাড়ি-ঘর ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, স্থাপনাসহ শতাধিক বিঘা ফসলী জমি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙন ঝুঁকিতে রয়েছে আরো শতাধিক বাড়ি-ঘর।

সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার রতনকান্দি ইউনিয়নের বাহুকা গ্রামের টুটুলের মোড়ে বক্ষ্মপুত্র বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে ফাটল ধরায় এলাকাবাসীর মধ্যে আতংক দেখা দিয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড ভয়াবহ ভাঙনরোধে বালির বস্তা নিক্ষেপের কাজ শুরু করেছে। উল্লেখ্য  চলতি বছরের শুষ্ক মৌসুমের শুরু থেকেই যমুনা নদীর তীরবর্তী সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার রতনকান্দি ইউনিয়নের চর বাহুকা, বাহুকা, টুটলের মোড়, ছোনগাছা ইউনিয়নের পাঁচঠাকুরী, ভাটপিয়ারী এবং কাজিপুর উপজেলার শুভগাছা ও চরশুভগাছাসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় নদী ভাঙন শুরু হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ ভয়াবহ ভাঙনে এলাকার পর এলাকা বিলীন হতে থাকলেও তা প্রতিরোধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি পানি উন্নয়ন বোর্ড। এখন বর্ষা মৌসুম এগিয়ে আসার সাথে সাথে উজানের পানির ঢলের সাথে প্রবল বর্ষণ শুরু হওয়ায় ভাঙনের তীব্রতা বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে এলাকাবাসী দিশেহারা হয়ে পরেছেন।

রতনকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা খোকন ও সাবেক চেয়ারম্যান রেজাউল করিম জানান, যমুনা নদীর ভয়াবহ ভাঙনের ফলে এলাকার শত শত মানুষ আজ নিঃস্ব হয়ে পরেছেন। অনেক পরিবার কয়েক দফা ভাঙনের শিকার হয়েছেন। বার বার তাগাদা দেয়া সত্বেও পানি উন্নয়ন বোর্ড ভাঙনরোধে কোন কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। বর্তমানে যে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে তাতে আরো বহু বাড়িঘর, ফসলী জমিসহ অন্যান্য স্থাপনা বিলীন হওয়ার আশংকা রয়েছে। ভাঙন কবলিত বাহুকা এলাকার কৃষক হযরত আলী, শাহার ভানু, আব্দুল কাদের, শুভগাছা টুটুলের মোড়ের রুস্তম আলী, রেজাউল করিম, আব্দুল মজিদসহ ক্ষতিগ্রস্ত অনেকেই জানান, শুভগাছা-বাহুকা থেকে পাঁচঠাকুরী পর্যন্ত নদীর তীরবর্তী অঞ্চলে প্রতিদিনই বড় বড় ফাটল ধরে ধসে পড়ছে। এভাবে গত ২মাসে অসংখ্য বাড়ি-ঘর বিলীন হয়ে গেছে। চর বাহুকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ পুরো গ্রাম এখন শুধুই স্মৃতি। এছাড়া, একটি মসজিদ ও চোরমারি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বাহুকা, শুভগাছাসহ আশপাশের গ্রামগুলো এখন রয়েছে চরম হুমকির মুখে।

স্থানীয়রা জানান, নদী ভাঙন প্রতিরোধে শীঘ্রই ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে যে কোনো সময় শিমলা-খুদবান্দি বাঁধটি ভেঙে নদীতে বিলীন হয়ে যেতে পারে। সেই সাথে অর্ধশত গ্রাম প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এব্যাপারে পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী রনজিত কুমার বলেন, বাহুকা থেকে খুদবান্দি ও কাজিপুরের মেঘাই এলাকা মিলে ৭কিলোমিটার নদী তীর রক্ষা বাঁধের ৬৮৮কোটি টাকার একটি প্রকল্প ইতিমধ্যে প্রি-একনেকে অনুমোন পেয়েছে। প্রকল্পটি এখন একনেকের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। এছাড়া শুক্রবার সকাল থেকে ভাঙনরোধে জরুরীভিত্তিতে বালির বস্তা নিক্ষেপের কাজ শুরু হয়েছে।

এই সংবাদটি 371 বার পঠিত হয়েছে

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ