মিরসরাই উপজেলার বড়তাকিয়া এলাকায় পুলিশ ও সিএনজি অটোরিক্সা চালকদের সংঘর্ষের ঘটনায় গ্রেফতারকৃত ১২ নম্বর খৈয়াছড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহেদ ইকবাল চৌধুরীকে প্রধান আসামী করে একটি মামলা দায়ের করেছে মিরসরাই থানা পুলিশ। আজ রবিবার সকালে পুলিশ বাদী হয়ে দায়ের করা মামলায় আসামী করা হয়েছে ১৬৫ জনকে। পুলিশের উপর হামলা, পুলিশে অস্ত্র ছিনতাই ও মহাসড়কে অবরোধের নামে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগ আনা হয়েছে মামলার এজাহারে। ঘটনার সময় পুলিশের লুণ্ঠিত চায়নিজ রাইফেলটি গতকাল শনিবার রাত ১০ টার সময় উদ্ধার করা হয়েছে। সকালে মিরসরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাইরুল ইসলাম এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।
গতকাল শনিবার বিকালে সংঘর্ষ সিএনজি অটোরিক্সা চালকদের সাথে সংঘর্ষ চলাকালে মিরসরাই থানার কনষ্টেবল দীপু চাকমার কাছ থেকে একটি চায়নীজ রাইফেল লুণ্ঠিত হয় বলে জানিয়েছিলেন মিরসরাই সার্কেলের এএসপি মাহবুবুর রহমান।
মিরসরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাইরুল ইসলাম জানান, গতকালের ঘটনায় ১৬৫ জনকে আসামী করে মামলা দায়ের করা হয়েছে । এ মামলার এজাহারভুক্ত আসামী হিসেবে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে আটক ইউপি চেয়ারম্যান জাহেদ ইকবাল চৌধুরীকে। তিনি আরো জানান, পুলিশের খোয়া যাওয়া অস্ত্রটি গতকাল রাত ১০ টার সময় বড়তাকিয়া মাজার এলাকার একটি পুকুর থেকে ভাঙ্গা অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
উল্লেখ্য, গতকাল শনিবার (১৫ জুলাই) বড়তাকিয়া বাজার থেকে বিকাল সাড়ে ৩ টায় একটি অটোরিকসা নিয়ে খইয়াছড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহেদ ইকবাল একটি জানাযায় যাচ্ছিলেন। এসময় চৌধুরীহাট হাইওয়ে পুলিশের এএসআই জাকির ওই অটোরিকসাটি আটক করে। জাহেদ ইকবাল নিজের পরিচয় দিয়ে অটোরিকসাটি ছাড়ার অনুরোধ করলে ওই পুলিশ চেয়ারম্যানকে গালিগালাজ করে অটোরিকসা জ্বালিয়ে দেয়ার হুমকী দেয়। এইখবর বড়তাকিয়া বাজারের অটোরিকসা স্ট্যান্ডে পৌঁছলে চালকরা শতশত অটোরিকসা রেখে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে। এসময় চেয়ারম্যান জাহেদ ইকবাল পুলিশের চাঁদাবাজি ও তাকে অপমানে প্রতিবাদে সন্ধ্যা ৭ টা পর্যন্ত অবরোধ ঘোষনা করে। পরে অবরোধ তুলে দিতে গেলে শত শত সিএনজি চালক ও গ্রামবাসীর সাথে পুলিশে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। এতে সাংবাদিক পুলিশসহ অন্তত ৪০ জন আহত হয়। পরে সন্ধ্যা ৭ টার সময় ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়কে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়।