মা-মেয়ে নির্যাতন মামলায় কাউন্সিলর রুমকিকে ৪ দিন রিমান্ড

প্রকাশিত: ১০:৩৪ অপরাহ্ণ, জুলাই ৩১, ২০১৭

মা-মেয়ে নির্যাতন মামলায় কাউন্সিলর রুমকিকে ৪ দিন রিমান্ড

বগুড়ায় মা-মেয়ে নির্যাতনের ঘটনায় কাউন্সিলর মারজিয়া হাসান রুমকিকে ৪ দিন ও অন্য ছয় আসামির ২ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত।
সোমবার বিকালে বগুড়ার অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক শ্যামসুন্দর রায় এ রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

আসামিরা হলেন- রুমকি, বোন আশা, মা রুমা, বাবা জামিলুর রহমান রুনু, গাড়ি চালক জিতু, মুন্না ও নাপিত জীবন রবিদাস।

এর আগে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বগুড়া সদর থানার ওসি (অপারেশন) আবুল কালাম আজাদ তাদের আদালতে নিয়ে প্রত্যেকের ৭ দিনের করে রিমান্ড আবেদন করেন।

আবুল কালাম আজাদ জানান, সোমবার বিকালে আসামিদের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়। শুনানি শেষে বিচারক রুমকিকে ৪ দিন এবং অন্যদের দু’দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

রুমকি ও আশা আদালতকে বলেন, ধর্ষণ হয়নি। ছাত্রী স্বেচ্ছায় তুফানের সঙ্গে মেলামেশা করেছে।

তাদের মা রুমি বলেন, আমি ছাত্রীর চুল কেটে দিয়েছি। কিন্তু কখনও জানতাম না এটা অপরাধ।

নাপিত জীবন জানান, তিনি গরীব, তাকে ডেকে এনে ছাত্রী ও তার মায়ের মাথা ন্যাড়া করে দিতে বলা হয়েছিল। তিনি পেটের দায়ে এ কাজ করেছেন।

আদালত তাদের পক্ষে কোনো আইনজীবী আছে কি না জানতে চাইলে তারা কোনো উত্তর দেননি।

নির্যাতনকারীদের আদালতে আনা ও নিয়ে যাবার সময় তাদের দেখার জন্য আদালতে প্রচণ্ড ভিড় হয়। জনগণ তাদের ধিক্কার দেন। কেউ কেউ গালিগালাজ করেন।

এদিকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজের (শজিমেক) ফরেনসিক বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. একেএম সাইফুল ইসলামের নেতৃত্বে তিন সদস্যের মেডিকেল টিম সোমবার সকালে ছাত্রীর ডাক্তারি পরীক্ষা করেছেন।

শজিমেক হাসপাতালের উপাধ্যক্ষ ডা. রেজাউল আলম জানান, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে এ টিম তাদের রিপোর্ট দিবেন।

প্রসঙ্গত, কলেজে ভর্তির নামে এক ছাত্রীকে (১৭) বাড়িতে নিয়ে বগুড়া শহর শ্রমিক লীগের আহ্বায়ক তুফান সরকার ধর্ষণ করেছে।

এ ঘটনায় তার স্ত্রীর বোন বগুড়া পৌরসভার ২ নম্বর সংরক্ষিত আসনের কাউন্সিলর মার্জিয়া হাসান রুমকি বিচারের নামে ওই ছাত্রী ও তার মাকে বাড়িতে ডেকে নির্যাতন চালিয়েছে।

তুফান বাহিনীর সদস্যদের দিয়ে কেটে দিয়েছে মা ও মেয়ের মাথার চুল। এরপর নাপিত ডেকে দু’জনের মাথা ন্যাড়া করে বাড়ি পাঠানোর সময় বগুড়া ত্যাগ করতে হুমকি দিয়েছে। এমনকি মালামাল পরিবহনের সুবিধার্থে বাড়িতে পিকআপ ভ্যানও পাঠায়।

ছাত্রী ও তার মাকে নির্যাতন এবং মাথা ন্যাড়া করার ঘটনা শুক্রবার দুপুরের।

পরে রাত ১২টার পর সদর থানা পুলিশ ঘটনা জানতে পেরে ভিকটিমদের সুচিকিৎসার ব্যবস্থা ও রাতভর অভিযান চালিয়ে তিন সহযোগীসহ তুফানকে আটক করে।

ছাত্রীর মা শনিবার দুপুরে সদর থানায় তুফান, কাউন্সিলর রুমকিসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে অপহরণ, ধর্ষণ ও অন্যান্য ধারায় মামলা করেন।

এই সংবাদটি 440 বার পঠিত হয়েছে

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ