ঢাকা |
প্রকাশিত: ১২:৩০ অপরাহ্ণ, মার্চ ২১, ২০১৭
স্টাফ রিপোর্টার,ঝিনাইদহঃ
ঝিনাইদহের মহেশপুর আজমপুর গ্রামের মইদুল ইসলামের কন্যা ছনিয়া খাতুনকে বিয়ের দেড় মাসের মধ্যে তালাক নামায় স্বাক্ষর করতে হয়েছে। এলাকা বাসী ও ভিকটিমের অভিযোগ সুত্রে জানাগেছে, গত ২৮ জানুয়ারী ছানিয়ার একই গ্রামের নুর ইসলামের পুত্র মোঃ জাকির হোসেনের সাথে বিয়ে হয়।
বিয়ের পর থেকে যৌতুকের দাবিতে স্বামী, শ্বাশুড়ী, ননদ ও ভাসুরে অমানকি নির্যাতন চালানো হতো। ছনিয়াকে নির্যাতন করে তালাকে বাধ্য না করতে পেরে জাকির গা ঢাঁকা দেয়। এরপর ছনিয়ার পরিবারের উপর বিভিন্ন ধরনের হুমকি ধামকি দিয়ে আসছিল জাকিরের পরিবারের লোকজন।
গত ১৮ই মার্চ ছনিয়ার পিতাকে টাকার বিনিময়ে ম্যানেজ করে জোর করে কাজি অফিসের নিয়ে যেয়ে তালাক নামায় সহি করিয়ে নেওয়া হয়েছে। তালাকের বিষয়টি আজমপুর ইউনিয়ন কাজি আবুল খায়ের নিশ্চিত করেছেন। এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য ইসমাইল হোসেন জানান, ছেলে ও মেয়ে উভয় প্রেম করে স্থানীয় লোকজনের সহযোগীতায় বিয়ে করে। বিয়ের কিছুদিন পর জাকির এলাকা থেকে উধাও হয়ে যায়।
গত ১৮ই মার্চ ছনিয়ার পিতা ও সৎ মাকে টাকার বিনিময়ে ম্যানেজ করে জাকিরের পরিবারের লোকজন চাপের মুখে তালাক নামায় স্বাক্ষর করিয়ে নিয়েছে বলে ছনিয়া জানিয়েছে। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান সত্যতা স্বীকার করে জানিয়েছেন বিষয়টি শুনেছি। মৌখিক ভাবে মেয়েটির চাচা বিয়ের বিষয়টি জানিয়ে ছিল। কিন্তু তালাকের বিষয়টি আমার জানা নেয়।
এ বিষয়ে মহেশপুর উপজেলা মহিলা বিষয়ক অফিসার সাইফুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
ঝিনাইদহে এবার প্রতিশোধ নিতে ব্লেড দিয়ে নিজের শরীর কাটলো আমেনা বেগম !
স্টাফ রিপোর্টার,ঝিনাইদহঃ
প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে ঝিনাইদহে ব্লেড দিয়ে নিজের শরীর কাটলো আমেনা বেগম (৪৫) নামের এক নারী। বর্তমানে তিনি হরিণাকুন্ডুু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি রয়েছে। সোমবার রাতে হরিণাকুন্ডু উপজেলার পার্বতীপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
এলাকাবাসী জানায়, বেশ কয়েকবছর ধরে পার্বতীপুর গ্রামের মজিবর রহমানের ছেলে মিন্টুর সাথে বিরোধ চলে আসছিল প্রতিবেশী নজরুল ইসলামের স্ত্রী আমেনা বেগমের। মিন্টুকে পারিবারিক ভাবে হেনস্থা করার জন্য পৌরসভাসহ বিভিন্ন স্থানে মিথ্যা অভিযোগ দেয় আমেনা বেগম।
কয়েক বছর যাবত ঢাকা, যশোরসহ বিভিন্ন স্থানে বসবাস করে আসছে আমেনা বেগম। সর্বশেষ সোমবার দুপুরে যশোর থেকে এসে পার্বতীপুর গ্রামের মিন্টুর বাড়ীর সামনে এসে অকথ্যভাষায় গালিগালাজ করে। পরে নিজেই সোমবার সন্ধ্যায় হরিণাকুন্ডু থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করে।
সোমবার দিন গত রাত ২ টার দিকে ঘর থেকে উঠে বাড়ীর আঙ্গিনায় গিয়ে ব্লেড দিয়ে নিজের শরীরের বিভিন্ন স্থানে কেটে চিৎকার শুরু করে। পরে সেখান থেকে তাকে হরিণাকুন্ডু উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
সরেজমিনে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায় সেখানে রক্তাক্ত ব্লেড পড়ে রয়েছে। হাসপাতালে ভর্তি আমেনা বেগম বলেন, তাকে হত্যার জন্য মিন্টুসহ আরও ৫ জন তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়েছে। সেখানে তার চাচী উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে আমেনা বেগমের চাচী মৃত মনির উদ্দিনের স্ত্রী টিয়ে খাতুন বলেন, আমি তো কিছুই দেখিনি। আমেনা চিৎকার করছিল তাই আমি সেখানে গিয়ে তাকে ঘরে নিয়ে আসি। আমেনা সেই সময় বলেছিল ৫ জন তাকে কুপিয়েছে। কিন্তু টিয়ে খাতুন বলেন রাতে তার কাছে ৩ জনের কথা বলেছেন।
প্রতিবেশী সবুরা খাতুন বলেন, রাতে আমেনা চিৎকার করছিল। তার আশপাশে কোন লোকজন দেখিনি। প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে আমেনা বেগম নিজেই এই কাজ করেছে।
এ ব্যাপারে হরিণাকুন্ডুু থানার ওসি মাহাতাব উদ্দিন বলেন, ঘটনাস্থলে অফিসার পাঠিয়েছিলাম। প্রাথমিক ভাবে মনে হচ্ছে ঘটনাটি সাজানো। তবুও ঘটনার তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানানো হবে।
কোটচাঁদপুরের সাবেক ফুটবলার রাজ্জাককে মারধর !
স্টাফ রিপোর্টার,ঝিনাইদহঃ
ঝিনাইদহ জেলার এক সময়কার ফুটবলার আব্দুর রাজ্জাককে মারধর করা হয়েছে। মঙ্গলবার মাঠে ভুট্রাক্ষেত দেখতে গেলে ধোপাবিলা গ্রামের আব্দুস সাত্তার মালের ছেলে জামির হোসেন মাল তাকে কিলঘুষি মেরে মাটিতে ফেলে দেয়।
বিষয়টি কোটচাঁদপুর থানা পুলিশকে লিখিত ভাবে অবহিত করা হয়েছে। বংকিরা ফুটবল দলের এক সময়ের সাড়া জাগানো ফুটবলার আব্দুর রাজ্জাক মঙ্গলবার কোটচাঁদপুরের দোড়া ইউনিয়নের ধোপাবিলা গ্রামের মাঠে ভুট্রা ক্ষেত দেখতে যান। মাঠে গিয়ে দেখেন একই গ্রামের জামির হোসেন মাল তার ভুট্রা ক্ষেতের মধ্যে গরু দিয়ে তছরুপ করছে।
তিনি প্রতিবাদ করলে জামির হোসেন মাল কিল ঘুষি মেরে ফুটবলার আব্দুর রাজ্জাককে মাটিতে ফেলে দেয়। এ ঘটনায় রাজ্জাক বাদী হয়ে কোটচাঁদপুর থানায় একটি মামলা করেছেন। আব্দুর রাজ্জাক জানান, তার একমাত্র সন্তান উজ্জলের অকাল মৃত্যুর পর তিনি মাঠে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছেন।
ঘটনার সময় তিনি ক্ষেতের ফসল তছরুপের কখা শুনে তিনি মাঠে গিয়ে আক্রান্ত হন। তার উপর হামলার ঘটনায় তিনি মর্মাহত ও বাকরুদ্ধ বলে জানান। কোটচাঁদপুর থানার ওসি বিপ্লব সাহা জানিয়েছেন, তিনি অভিযোগ পেয়েছেন। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
টাকা উঠেছে ১৪ হাজার, বাবা কি বাঁচবে না ! ঝিনাইদহে নিরুপায় দুই বোন বাবার মৃত্যুর প্রহর গুনছে !
স্টাফ রিপোর্টার,ঝিনাইদহঃ
স্ত্রী ও কলেজ পড়ুয়া জমজ দুই মেয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে মৃত্যু পথযাত্রী ঝিনাইদহের রফিকুল ইসলামের সময় কাটছে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বিছানায়। তার অবর্তমানে মেয়ে দুটি পড়ালেখা করতে পারবে না বন্ধ হয়ে যাবে এই দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তিনি।
এদিকে রফিকুল ইসলামের জীবন রক্ষায় সর্বস্তরের মানুষ এগিয়ে আসছেন। বিভিন্ন পত্র পত্রিকায়, নিউজ পোর্টাল, ফেসবুকে এ সংবাদ প্রকাশের পর অনেকেই সহেযাগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। এ পর্যন্ত ১৪ হাজার টাকা পাওয়া গেছে।
৫০ বছর বয়সী রফিকুলের দুটো কিডনিই নষ্ট হয়ে গেছে। ঘুর্ণাক্ষরেও তিনি টের পাননি কখন যে, মরণ অসুখ বাসা বেঁধেছে তার শরীরে। আর যখন তিনি জানলেন তখন তার দুটো কিডনিই অকেজো। ডায়ালাইসিস করে এখন তিনি কোনো রকম বেঁচে আছেন। কিডনি প্রতিস্থাপন করতে তার প্রয়োজন অনেক টাকা, যা তার নেই। বেঁচে থাকার আকুতি আছে। কিন্তু চিকিৎসার সামর্থ্য নেই।
এ পর্যন্ত তিনি তিন লাখ টাকা ব্যয় করেছেন। সামান্য বেতনে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের হিসাবরক্ষক রফিকুল তীব্র অর্থ সংকটে ভুগছেন। চাকরিই ছিল তার ভরসা। এই চাকরির টাকা দিয়ে তিনি ঝিনাইদহ শহরে বাসা ভাড়া করে দুই মেয়েকে লেখাপড়া করাতেন। এখন অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে যে, টাকার অভাবে কিডনি ডায়ালাইসিসও করতে পারছেন না তিনি।
রফিকুলের বাড়ি ঝিনাইদহ সদর উপজেলার বাজারগোপালপুরে। তিনি ওই গ্রামের মৃত আদিল উদ্দীন মালিথার ছেলে। স্ত্রী রওশন আরা হতাশ কণ্ঠে জানান, সর্বক্ষণ কাজে ডুবে থাকা তার স্বামী আজ জীবনের শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে। তার দেই চোখে মুঠো মুঠো স্বপ্নের বদলে শুধুই মৃত্যুর বিভীষিকা। তারপরও শেষ চেষ্টা করে যাচ্ছেন স্বামীকে বাঁচানোর জন্য। কিন্তু চিকিৎসায় সংকট হয়ে দাঁড়িয়েছে অর্থ। টাকা হলে হয়তো তার স্বামীকে বাঁচানো সম্ভব হতো।
স্থানীয় সাংবাদিক জাহিদুর রহমান তারিক জানান, আমার বাসার সামনেই রফিকুল ভাইয়ের বাসা। তার দুই মেয়ে আমার মেয়ের সঙ্গে পড়ে। সব সময় তারা তার বাবার জন্য চিন্তিত থাকে। তাদের বাবার কিছু হলে মেয়ে দুটির জীবন নষ্ট হয়ে যাবে। আমরা স্থানীয়ভাবে চেষ্টা করছি রফিকুল ভাইকে সাহায্য করার।
রফিকুল ইসলাম এখন ঢাকা মেডিকেলের ৯০১ নং ওয়ার্ডের ৪৯ বেডে অধ্যাপক ডা. নিজাম উদ্দীন চৌধুরীর তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন। অবসন্ন শরীর নিয়ে মহাকালের কাছে সোপর্দ করার দিকে ধীরে ধীরে এগিয়ে যাচ্ছেন রফিকুল। তার মধ্যে বেঁচে থাকার তীব্র আকুতি থাকলেও পরিবারের সামর্থ্য নেই এতো অর্থ ব্যয় করে তাকে বাঁচিয়ে রাখার। রফিকুলের জমজ দুই মেয়ে ঝিনাইদহ সরকারি কেসি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েন। তার বাবার জন্য চিন্তিত দুই বোন।
রফিকুলের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে চিকিৎসক জানিয়েছেন, দ্রুত তার কিডনি দুটি প্রতিস্থাপন করা না হলে আর বাঁচানো যাবে না। আর এজন্য প্রয়োজন প্রায় ১৫ লাখ টাকা। রফিকুলের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন ০১৬২১-৪২৮০৫৫ নম্বরে। আর্থিক সহায়তার জন্য রওশন আরা, সঞ্চয়ী হিসাব নং ২৮৬৬, অগ্রণী ব্যাংক, বাজারগোপালপুর শাখা, ঝিনাইদহ। বিকাশ নং ০১৬২১-৪২৮০৫৫।
রেজিঃ নং চ-৭৩৫
সম্পাদক ও প্রকাশক: এম.ফয়জুল হক শিমুল
সহ: সম্পাদক : হাবিবুর রহমান সুলতান
সহ: সম্পাদক : নুরুল হক মাসুদ
সম্পাদক ও প্রকাশক কর্তৃক নিউ বর্ণমালা অফসেট প্রিন্টিং প্রেস, রাজা ম্যানশন জিন্দাবাজার, সিলেট থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত।

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: * সি-৮/৩০ বনশ্রী ঢাকা।
সিলেট অফিস: কমন মার্কেট (৫ম তলা ) বন্দর বাজার, সিলেট।
বিয়ানীবাজার অফিস: ছফর কমপ্লেক্স, দক্ষিণ বিয়ানীবাজার, সিলেট।
যোগাযোগ মোবাইলঃ +88-01713813124
ই-মেইল ॥ somoychitro@gmail.com
বড়লেখা অফিস: নেহার মার্কেট, ( ২য় তলা), বড়লেখা, মৌলভীবাজার।