ভারতে জেলখাটা ২৪ বাংলাদেশীকে ফেরত দিলো বিএসএফ

প্রকাশিত: ১:৫৫ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২০, ২০১৬

ভারতে জেলখাটা ২৪ বাংলাদেশীকে ফেরত দিলো বিএসএফ

 

বিশেষ প্রতিনিধি : কাজের সন্ধানে ভারতে যাওয়া ২৪ বাংলাদেশীকে ১৯ ফেব্র“য়ারী শুক্রবার বিকাল তিনটার দিকে ফেরত দিয়েছে ভারতের পুলিশ ও বিএসএফ। বাংলাদেশের সিলেটের বিয়ানীবাজার শেওলা শুল্ক স্টেশনের নমেন্স ল্যেন্ড এলাকায় দুই দেশের মধ্যে এ হস্তান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। ফেতর আসা বাংলাদেশীদের সবাই ভারতের মণিপুর রাজ্যে তিন বছরের বেশি সময় জেল খেটেছেন। তাদের বাড়ি চাপাইনবাবগঞ্জ জেলায়। শেওলা ইমিগ্রেশন পুলিশ সূত্রে জানা যায়, চাপাইনবাবগঞ্জ জেলার গুমন্তপুর ও শিবগঞ্জ উপজেলার ৩১ বাংলাদেশী ২০১২ সালের কাজ করতে ভারতে যায়। সেখানে কয়েকমাস শ্রম খাটার পর মনিপুর রাজ্য পুলিশ অবৈধ অনু প্রবেশের অভিযোগে তাদের গ্রেফতার করে। প্রায় ৪ বছর জেলখাটার পর মনিপুর রাজ্য পুলিশ ভারতের বাংলাদেশ দূতাবাসকে বিষয়টি অবহিত করে। দূতাবাস ২৪ জনকে বাংলাদেশের নাগরিক হিসাবে সনাক্ত করার পর গতকাল তাদের বাংলাদেশের পুলিশ ও বিজিবির কাছে হস্তান্তর করে ভাতর কর্তৃপক্ষ। শেওলা ইমিগ্রেশন কর্মকর্তা রুস্তুম আলী ২৪ বাংলাদেশীকে মনিপুর রাজ্য পুলিশ কর্মকর্তা পার্থ প্রতিম রায়ের কাছ থেকে বুঝে নেন। এ সময় সিলেটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সু¹ান চাকমা ও বিয়ানীবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জুবের আহমদ এবং ভারতের সুতারকান্দি ইমগ্রেশন কর্মকর্তা এস চক্রবর্তী, বিক্রম ব্যানার্জি, ১৩৩ বিএসএফ’র কোম্পানি কমান্ডার পি এম গণেশ উপস্থিত ছিলেন। ভারতে তিন বছর আট মাস জেলখাটার কথা জানিয়ে চাপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার জহির উদ্দিন বলেন, ভারতের পরিচিত রহমত আলী ভাল কাজের কথা বলে আমাদের সেখানে নিয়ে লোহা ভাংগার কাজ করায়। দুই মাস কাজ করার পর টাকা চাইলে টালবাহানা শুরু করে। এক পর্যায়ে পুলিশ এনে আমাদের ধরিয়ে দেয়। শুক্রবার সকাল থেকে বড়ভাইকে গ্রহণ করতে ঢাকা থেকে ছুটে এসেছেন এনজিও কর্মী আবদুল কাদের। তাঁর বড়ভাই পাঁচ সন্তানের জনক আবদুল খালেক সাড়ে তিন বছর মনিপুর রাজ্যে জেল খেটেছেন। গতকাল ভাইকে ফেরত পেয়ে জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। আবদুল খালেক বলেন, অমানসিকভাবে কাজ করিয়ে টাকা দেয়নি। টাকা চাইলে কাল পরশু দেব বলে টালবাহানা করে। এক পর্যায়ে দেশে টাকা পাঠানোর জন্য রহমতকে চাপ দিলে সে পুলিশে ধরিয়ে দেয়। জেলে গিয়ে এদের অনেকের সাথে পরিচয় হয়। তারাও আমার মতো টাকা রোজগার করতে গিয়ে জেল খেটেছে। তিনি বলেন, ভিসা ছাড়াই আমরা সেখানে গিয়েছিলাম। এভাবে অনেকেই গেছে, ফিরেও এসেছে দেখে আমিও গিয়েছিলাম। ভারত থেকে ফেরৎ আসা আবদুস সালাম বলেন, জীবিত অবস্থায় দেশে ফেরত আসতে পারবো-কল্পনাও করিনি। আহ্ দেশের বাতাস কতো বিশুদ্ধ। তিনি জানান, মনিপুর রাজ্যে জেলে থাকা অবস্থায় শিবগঞ্জের মীর হোসেন মারা গেছে। তাদের এলাকার মতিউর রহমান, জহির উদ্দিন ও তিতুব আলী এখনো মনিপুর রাজ্যের জেল খাটছেন। দুই দেশের হস্তান্তর প্রক্রিয়া শেষে বিয়ানীবাজার থানা পুলিশ দেশে ফেরত ২৪ জনকে শেওলা ইমিগ্রেশন অফিসে নিয়ে তাদের আপ্যায়ন করে বাস যোগে সিলেট রেল স্টেশনে প্রেরণ করেছে।

এই সংবাদটি 648 বার পঠিত হয়েছে

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ