বড়লেখায় পৌনে ২ কোটি টাকার প্রতারণা মামলায় ব্যবসায়ী কারাগারে

প্রকাশিত: ১২:০৮ পূর্বাহ্ণ, মার্চ ২২, ২০২০

বড়লেখায় পৌনে ২ কোটি টাকার প্রতারণা মামলায় ব্যবসায়ী কারাগারে

বড়লেখার ব্রিকফিল্ড ব্যবসায়ী হাবিবুর রহমানকে পৌনে ২ কোটি টাকার প্রতারণা মামলায় মৌলভীবাজার চীফ জুডিশিয়েল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত কারাগারে পাঠিয়েছেন। হাবিব উপজেলার মহুবন্দ গ্রামের মৃত মনোহর আলীর ছেলে। গত বৃহস্পতিবার হাইকোর্টের ডাইরেকশন অমান্য করে ৩ সপ্তাহের পরিবর্তে ৪ সপ্তাহ পর ব্যবসায়িক পার্টনার মোহাদ আহমদের প্রতারণা মামলার জামিন নিতে গেলে বিজ্ঞ চীফ জুডিশিয়েল ম্যাজিস্ট্রেট আলী আহসান তার জামিন না মঞ্জুর করেন। মামলার বাদির অভিাযোগ আসামী হাবিবুর রহমানের সেভেন টাইগার নামক বাহিনীর হুমকি-ধমকিতে দীর্ঘদিন ধরে তিনি পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।
আদালত সুত্রে জানা গেছে, হাবিবুর রহমান হাবিব বড়লেখার সুজানগর ইউনিয়নের বাসিন্দা মনির উদ্দিন ওরপে মনু মিয়ার নিকট থেকে ভুমি লীজ নিয়ে এবিএস নামে ব্রিকফিল্ড ব্যবসা শুরু করেন। ২০১৭ সালের ডিসেম্বর মাসে হাবিব উপজেলার শাহবাজপুর ইউপির বাসিন্দা মোহাদ আহমদের নিকট থেকে ১ কোটি ৭৬ লাখ টাকা নিয়ে তাকে এ ব্রিকফিল্ডের অংশীদার করেন। হাবিব ব্যবসায় লোকসান দেখিয়ে পার্টনার মোহাদ আমহদকে মুনাফা থেকে বঞ্চিত করেন ও বিনিয়োগকৃত সমুদয় টাকা আত্মসাতের অপতৎপরতা চালান। গত ১৩ জানুয়ারী মুল টাকা ফেরৎ চাইলে হাবিবুর রহমান সেভেন টাইগার নামে গঠিত তার নিজস্ব বাহিনী দিয়ে মোহাদ আহমদকে প্রাণ নাশের হুমকি ধমকি দেন। গত ২২ জানুয়ারী মোহাদ আহমদ ১ কোটি ৭৬ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ব্রিকফিল্ড ব্যবসায়ী হাবিবুর রহমান হাবিবকে প্রধান ও অপর পার্টনার ফয়সল আহমদকে ২ নং আসামী করে বড়লেখা থানায় প্রতারণা মামলা দায়ের করেন। এ মামলায় হাইকোর্ট হাবিবকে জামিন না দিয়ে চীফ জুডিশিয়েল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আত্মসর্মপণের জন্য ৩ সপ্তাহের সময় সীমা দেন। গত ১৭ মার্চ এ সময় সীমার মেয়াদ শেষ হয়। ১৯ মার্চ তিনি জামিন নিতে গেলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
প্রতারণা মামলার বাদি মোহাদ আহমদ অভিযোগ করেন হাবিবুর রহমানের সেভেন টাইগার নামক নিজস্ব সন্ত্রাসী বাহিনীর প্রাণনাশের হুমকি-ধমকিতে দীর্ঘদিন ধরে তিনি পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।
মৌলভীবাজার চীফ জুডিশিয়েল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের পিপি অ্যাডভোকেট আব্দুল খালিক সোনা জানান, মহামান্য হাইকোর্টের নির্দেশনা অমান্য করে প্রতারণা মামলার আসামী বড়লেখার ব্রিকফিল্ড ব্যবসায়ী হাবিবুর রহমান গত বৃহস্পতিবার চীফ জুডিশিয়েল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে জামিন চাইলে বিজ্ঞ আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

এ ব্যাপারে মামলার বাদী মহাদ আহমদের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রতারক হাবিব বড়লেখা সদর হাটবন্দ এলাকার বাসিন্দা। তিনি ৭/৮ বছর পূর্বে ভিডিএন সহ বহু প্রতিষ্ঠানের ডাইরেক্টর হয়ে মানুষকে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ করেছেন। ২০১৬ সালে তিনি সুজানগর এলাকায় লীজকৃত ভূমিতে এ.বি.এস নামে একটি ব্রীক ফিল্ড ব্যবসা শুরু করেন।
প্রথমে জমির মালিক সুজানগর এলাকার মনির উদ্দিন উরফে মনু মিয়ার নিকট হতে তার পার্টনার ঢাকার গাজীপুরের বিল্লাল নামক এক ব্যক্তিকে অর্ধেক শেয়ার করে ভূমির লীজ গ্রহণ করেন। ঐ বছরই কাঁচা ইটের ব্যবসা করে বহু মানুষের টাকা আত্বসাত করেন এবং বিল্লাল মিয়াকে ব্যবসা তেকে বঞ্চিত করেন।
২০১৭ সালে বড়লেখা জামায়াতের সেক্রেটারী ফয়ছল আহমদের সহযোগিতা নিয়ে তাকে একটি অংশ দিয়ে আমাকেও অংশীদার করেন। পরে উভয় মিয়ে ব্যবসার লোকসান দেখিয়ে ফয়ছল আহমদ উনার অংশ আমাকে সমজিয়ে তিনিও ব্যবসা থেকে বঞ্চিত হন। হাবিব সহ আমি ব্যবসা শুরু করি। তিনি সেভেন টাইগার নামে একটি বাহিনী গঠন করেন। উক্ত বাহিনী দিয়ে ধাপে ধাপে আমার কাছ থেকে নেয়া ১ কোটি ৭৬ লক্ষ টাকা আত্বসাত করে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ব্রিকফিল্ড থেকে আমাকে তাড়িয়ে দেন। আমি সামাজিক ভাবে বিচার না পেয়ে বড়লেখা থানায় একটি মামলা দায়ের করি। উক্ত মামলায় ১ নং আসামী হাবিবুর রহমান ২নং আসামী ফয়ছল আহমদ গং। হাবিবুর রহমান হাইকোর্টে জামিন নিতে গেলে হাইকোর্ট ১৭/০২/২০২০ ইং একটি ডাইরেকশন দেন ৩ সপ্তাহের মধ্যে নিন্ম আদালতে হাজির হওয়ার জন্য। কিন্তু তিনি ৩ সপ্তাহের মধ্যে নিন্ম আদালতে হাজির না হয়ে গত ১৯/০৩/২০২০ইং মৌলভীবাজার চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করেন। আদালত জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে জেল হাজতে প্রেরণ করেন।
আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর মাধ্যমে আদালতের কাছে আমার জানমালের নিরাপত্তা ও আর্থিক ক্ষতিপুরন পাওয়ার দাবী জানাচ্ছি সেই সাথে হাবিবুর রহমানের প্রতারনার সুবিচার প্রার্থনা করছি।

এই সংবাদটি 627 বার পঠিত হয়েছে

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ