বিয়ানীবাজারের ১০ ইউপি’র বেশির ভাগ ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থীদের ত্রিমূখী প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস

প্রকাশিত: ২:৪৫ অপরাহ্ণ, জুন ১, ২০১৬

বিয়ানীবাজারের ১০ ইউপি’র বেশির ভাগ ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থীদের ত্রিমূখী প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস

স্টাফ রিপোর্টার:আর মাত্র ৩দিন বাকি। আগামী ৪ জুন বিয়ানীবাজার উপজেলার ১০ ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন। শেষ সময়ে ভোটারদের কাছে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থীরা বিরামহীনভাবে ছুটে চলেছেন। থেমে নেই তাদের কর্মী ও সমর্থকরা। চলছে জোর প্রচারণা।
উপজেলার বেশির ভাগ ইউনিয়নে ত্রিমূখী প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস দিয়েছেন স্ব স্ব এলাকার ভোটাররা। এলাকাভিত্তিক চেয়ারম্যান পদপ্রার্থীদের জনসমর্থনেও রয়েছে কিছুটা হেরফের। নিজ এলাকার ভোটের ব্যবদান প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থীর চেয়ে কিছুটা এগিয়ে রাখবে বেশি ভোটের এলাকার প্রার্থীদের। বিয়ানীবাজার নিউজ ২৪ রবিবার ও সোমবার উপজেলার ১০ ইউনিয়নের নির্বাচন এলাকা থেকে এ জরিপ পরিচালনা করে।
১নং আলীনগর ইউনিয়ন : আলীনগর ইউনিয়নে নৌকা ও ধানের শীষের জোর লড়াই হবে। দলীয় লড়াইয়ের বাইরে যুক্ত হবে আঞ্চলিকতা ও জাতিগত লড়াই। ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে আলীনগর ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান মামুনুর রশিদ মামুন এবং নৌকা প্রতীক নিয়ে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি নজরুল ইসলাম প্রতিদ্বন্দিতা করছেন। এ দুই প্রার্থী ছাড়া আলীনগরে অন্য কোন দল বা স্বতন্ত্র প্রার্থী নেই। এখানে দুই প্রার্থীর লড়াইয়ে ধানের শীষের মামুনসুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন বলে ভোটাররা আভাস দিয়েছেন। তবে পিছিয়ে নেই নজরুল ইসলাম। তার নৌকার পালে বইছে জোর হাওয়া। ভোটের আরও তিন দিন অবশিষ্ট থাকায় এখনি কাউকে এগিয়ে রাখতে নারাজ আলীনগরের ভোটাররা।
২নং চারখাই : বর্তমান চেয়ারম্যান মাহমদ আলীর প্রতিপক্ষ জামায়াত সমর্থিত স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী মাও. আমির হোসেন চৌধুরী। ভোটের হিসাবে মাহমদ আলীর নৌকা- আমির হোসেন চৌধুরীর চমশা প্রতীকের চেয়ে অনেক এগিয়ে রয়েছে। চারখাই ইউনিয়নের ভোটাররা ষ্পষ্টভাবে মাহমদ আলীকে এগিয়ে রাখছেন। তবে বিএনপি’র দলীয় কোন প্রার্থী না থাকার সুবিধা কাজে লাগাতে পারেন আমির। এ সুযোগ কাজে লাগালেও জয়-পরাজয়ে বিশাল একটা ভূমিকা রাখতে পারে প্রার্থী বিহীন বিএনপি’র ভোট।
৩নং দুবাগ: বর্তমান চেয়ারম্যান আব্দুস সালামের প্রবল প্রতিপক্ষ সাবেক চেয়ারম্যান নাজিম উদ্দিন ও নুরুল কিবরীয়া। নৌকা প্রতীকের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আব্দুস সালামকে চ্যালেঞ্জ জানাতে ভোটের মাঠে তৎপর স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী নাজিম উদ্দিনের আনারস। বিএনপি’র দলীয় প্রার্থী ধানের শীষের নুরুল কিবরীয়কেও ভোটাররা গগণায় রেখেছেন। এখানে ত্রিমূখী লড়াই হবে এ প্রত্যাশা ইউনিয়নবাসীর। মেওয়া ও দক্ষিণ চরিয়া এলাকায় যেমন নাজিম উদ্দিনের জনসমর্থন বেশি। ঠিক একইভাবে নয়াদুবাগও আশপাশ এলাকায় আব্দুল সালামের জনসমর্থন রয়েছে। ৪ ও ৫ নং ওয়ার্ডে নুরুল কিবরীয়ার অবস্থান বেশ ভালো। এ ইউনিয়নে ত্রিমূখী প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস দিয়েছেন ভোটাররা। শেষ মুহূর্তে এসে ধানের শীষ যদি হোচট খায় তবে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে আনারসের সাথে নৌকার।
৪নং শেওলা : কুশিয়ারার নদীর বিভাজন এ ইউনিয়নে বরাবরের মতো ফ্যাক্টর হয়ে দাড়ায়। নৌকা ও ধানের শীষ নিয়ে দুই চেয়ারম্যান পদপ্রার্থীর বাড়ি নদীর পশ্চিমপাড়ে হওয়ায় প্রতিদ্বন্দ্বিতার উত্তেজনা নদীর পশ্চিমপাড়ে বেশি। তবে কিছুটা উত্তেজনার বাতাস পূর্বপাড়ে ঠেকছে। শেওলায় কুশিয়ারা নদীর পূর্বপাড়ের খেজুর প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থী পিছিয়ে নেই। বর্তমান চেয়ারম্যান আখতার হোসেন খান জাহেদের ধানের শীষের প্রবল প্রতিপক্ষ জহুর উদ্দিনের নৌকা ও আব্দুল হামিদ খানের খেজুর গাছ। বিএনপি. আওয়ামী লীগ ও জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের তিন প্রারর্থীর মধ্যে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। এ ত্রিমূখী লড়াইয়ে ধানের শীষ ও নৌকার প্রতীকে নদীর পূর্বপাড়ের ভোট প্রাত্তীর উপর ফলাফল নির্ভর করবে। ঠিক একইভাবে পশ্চিম পাড়ের ভোটে কতটুকু ভাগ বসাতে পারেন সে হিসাবের উপর নির্ভর করবে খেজুর গাছের সাফল্য। এখানে বর্তমান চেয়ারম্যান হোচট খেলে অবাক হওয়ার কিছু নেই, বিজয়ী হলেও অবাক হওয়ার কোন সুযোগ নেই। তবে বাজিমাত করতে পারেন নৌকার প্রতীকের জহুর উদ্দিন ও খেজুর গাছের আব্দুল হামিদ।
৫নং কুড়ারবাজার : আলকাছ আলী, আবু তাহের ও মাহমদ আলী। ভোটের মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে এ তিন জনের মধ্যে। লাঙ্গল, ধানের শীষ ও নৌকা প্রতীকের জনসমর্থন এলাকা ভিত্তিক কমবেশি রয়েছে। তবে আলকাছ আলী নিজ এলাকা বৈরাগীর ভোট কতটুক ধরে রাখেন তার উপর নির্ভর করছে তার জয় পরাজয়। ঠিক আবু তাহের ও মাহমদ আলী বৈরাগীবাজার অঞ্চল থেকে দলের প্রতীকে কতটুকু ভোট টানতে পারেন তার উপর অনেক কিছু নির্ভর করবে। আপাতত ধানের শীষ প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থী আবু তাহেরের ভোটের মাঠ অন্য প্রার্থীদের চেয়ে কিছুটা ভালো অবস্থানে রয়েছেন। ভোটের বর্তমান হিসাব শেষ মুহূর্তে এসে এ ইউনিয়নে বিশাল অদল বদল ঘটে বলে জানান ইউনিয়নের ভোটাররা।
৭নং মাথিউরা : বর্তমান চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সিহাব উদ্দিনের প্রতিপক্ষ স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী কছির আলী। নৌকার সাথে আনারসের মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হওয়ার আভাস দিয়েছেন ইউনিয়নের ভোটাররা। ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে জোর প্রচারণা চালাচ্ছেন জাকির হোসেন সুমন। তিনি দলীয় ভোটে কতটুকু ভাগ বসাতে পারেন তার উপর নির্ভর করবে তার প্রতিদ্বন্দ্বিতা ঠিকে থাকার বিষয়টি। মাথিউরায় বরাবর ইউপি নির্বাচনে আঞ্চলিকতার প্রভাব থাকে। তবে এবার দলীয় নির্বাচন হওয়া এ প্রভাব অনেকটা কম। ফলে ভোটের মাঠে কিছুটা হলেও সুবিধা আদায় করছেন সিহাব উদ্দিন। কিন্তু কছির আলীও পিছিয়ে নেই। এ দুই প্রার্থীর জোর প্রচারণা ভোটের মাঠে প্রভাব পড়ছে। বাড়ছে কর্মীদের চাঞ্চল্য।
৮নং তিলপাড়া : নৌকার জোয়ার তিলপাড়া যেনো এসে থমকে গেছে। ভোটের হিসাবে এমাদ উদ্দিনের নৌকার পালে তেমন একটা বাতাস নেই। একই অবস্থা ধানের শীষের আব্দুছ ছাত্তারের। তাদের ভোটের বাতাসের উল্টো স্রোত কাঝে লাগাতে মরিয়া তিন স্বতন্ত্র প্রার্থী। বর্তমান চেয়ারম্যান মাহমবুবুর রহমানের চশমা প্রতীকের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস দিচ্ছেন স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী ইসলাম উদ্দিনের ঘোড়া। সিএনজি প্রতীক নিয়ে জোর প্রচারণা চালাচ্ছেন জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী এড. আজিম উদ্দিন। শেষ পর্যন্ত নৌকার পালে বাতাস না লাগলে এবং ধানের শীষ নিয়ে আব্দুছ ছাত্তার বেগমান না হলে তিন স্বতন্ত্র প্রার্থীর মধ্যে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে।
৯নং মোল্লাপুর : নৌকা, ধানের শীষ ও আনারস। ভোটের মাঠে আশরাফের নৌকা, মতলিবের ধানের শীষ ও মান্নানের আনারস রয়েছে। অন্য প্রার্থীদের সোরগোল তেমন একটা নেই। এ তিন প্রার্থীর মধ্যে শেষ তিন দিনে ব্যবদান ষ্পষ্ট হবে। প্রতিদ্বন্দ্বিতা দুইজনে নেমে আসতে পারে। আওয়ামী লীগের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি না হলে যেমন আশরাফের সুযোগ রয়েছে। তেমনী বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে থাকা বিএনপি নেতাকর্মীর টেনে আনতে পারলে একই সুযোগ রয়েছে মতলিবের সামনে। আনারস নিয়ে আব্দুল মান্নানও রয়েছেন শক্ত অবস্থানে।
১০নং মুড়িয়া : নৌকার মাঝি সামছুদ্দিন মাখনের সাথে মুড়িয়ায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আবুল খায়েরের। বর্তমান চেয়ারম্যান খায়ের (আনারস) জামায়াতে ইসলামী রাজনীতির সাথে সরাসরি যুক্ত রয়েছেন। ফলে মুড়িয়া দক্ষিণ ও পূর্বপাড়ের একটি অংশের ভোটাররা তার দিকে বেশি ঝুকছেন। নৌকার পালে হাওয়া থাকলেও মাখনকে বিজয়ী হতে হলে নিজ কেন্দ্রের ফলাফল নিজের দিকে নিয়ে আসতে হবে। এ দুই প্রার্থী ছাড়া ধানের শীষের ছাদ উদ্দিনের নাম কিছুটা হলেও আলো ছড়াচ্ছে।
১১নং লাউতা : বর্তমান চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা এম এ জলিলকে ভোটের মাঠে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে যুবলীগ নেতা গৌছ উদ্দিন ও জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থী দেলোয়ার হোসেন। জলিলের নৌকার পালের রাশ টেনে ধরেছে গৌছ উদ্দিনের আনারস। দেলোয়ারের ঘোড়ার লাগামও বেশ শ্কত। তবে ধানের শীষ প্রতীকের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আব্দুল হক আখতার বেশ জোরে শোরে প্রচারণা চালাচ্ছেন। বিভাজন আওয়ামী লীগের মধ্যে বিএনপি’র ভোট দলীয় প্রতীক ধানের শীষে না থাকলে দুই স্বতন্ত্র প্রার্থীর সাথে এম এ জলিলের প্রবল প্রতিদ্নন্দ্বিতা হবে।

এই সংবাদটি 1212 বার পঠিত হয়েছে

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ