বিষ খেয়ে হজম করি আমরা হলাম বীর জাতি

প্রকাশিত: ১:১২ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ৩০, ২০১৮

বিষ খেয়ে নীল কন্ঠ । রাশিয়ার বিল্পব পূর্ব জার আমালে ‘রাশপুটিন’ ছিল বিখ্যাত। গুলি খেয়েও মরে না। এমন মানুষ কি আছে? সিনেমায় মাঝে মাঝে একেকটি চরিত্রে দেখা মেলে। আগুনে পুড়েনা বিষ খেলেও মরে না। জনপ্রিয় টিভি সিরিয়াল আলিফ লায়লায় দেখেছেন ‘শোপানিজবা’ ছদ্ম বেশে ডাইনি বউ সেজে বংশ ধংস করে। ধরা পড়ার পর তাকে সাপের বিষ খাওয়ানো হয়। মৃত্যুদন্ড কার্যকর করা হয় গরল খাইয়ে। কিন্তু বিষ খেয়ে তার তেজ বেড়ে যায়। বিষের তেজে ছটফট করে মরবে কি,সে অট্রোহাসিতে ফেটে পড়ে জানায়— এতে আমার লাভই হলো। আমরা বাংলাদেশের মানুষ কি এমন অলৌকিক ক্ষমতায় বেচেঁ আছি ? বিশ^ ব্যাংক জানিয়েছে, কেবল ঢাকায় বায়ু দুষনে বছরে পাঁচ হাজার মানুষ মারা যায়। অলৌকিক ক্ষমতায় বিশ^াসীরা বলবেন, ধুত্তরি, রাখ তোর বাজে থিওরি। মানুষ তো মরে হায়াত ফুরালে । এখানে বাতাসের কি দোষ। বস্তির জীবন দেখেছেন। রেল স্টেশনে, ফুটপাতে যারা জীবন যাপন করে। তাদের দেখে আমরা বলি ইস ওরা বাচে কেমনে? এমন পরিবেশে কি ওদের রোগ বালাই হয়না। আসলে দেখবেন ওদের বাচ্চা কাচ্চা কম নাদুস নুদুস না। সামান্য ঠান্ডায় আপনার বাচ্চা কাচ্চার সর্দি কাশি লেগে যায়। ওরা তো প্রচন্ড ঠান্ডায় আরামসে ঘুমায়। এদের দেখে আমাদের বিস্ময় এরা বাঁচে কেমনে? জানেন কি উন্নত বিশে^র মানুষ আপনাকে আমাকে কোন চোখে দেখে? যে চোখে আমরা বস্তিবাসীদের দেখি।
বিষ খাচ্ছি প্রতিদিন। বাতাসে বিষ । টাকা দিয়ে কেনা খাদ্য দ্রব্যে ভেজাল বিষ। ঔষুধে ও বিষ । বিষের ঘরেই করি বসবাস। আমরা খাচ্ছি বিষাক্ত মাছ। মরা মুরগী। ভেজাল তেল ঘি, তবুও বেচেঁ আছি। একটু বেয়াদবির মতো মনে হয় তবুও বলি। শেখ সাদীর গল্প । মেথর একদিন বাজারে আতরের গলিতে ঢুকে পড়েছে। ঘ্রানে জ্ঞান হারিয়ে গিয়ে পথে পড়ে মরমর হাল। কেউ কেউ আরো সুঘ্রাণ দিয়ে তার জ্ঞান ফেরানোর চেষ্ঠা করছেন। কিন্তু সে নড়ে না । কোথা থেকে তার এক সহকর্মী দূর্দশা দেখে ছুটে আসে। দৌড়ে গিয়ে নিয়ে আসে শুকরের এক দলা বিষ্টা, নাকের কাছে উঠতেই গা ঝাড়া দিয়ে উঠে সে। আল্লাহ না করুক বিষ খেতে খেতে এক সময় যেন আমাদেরও বিষের সাথে এমন পিরিতি না হয়ে যায়।
লেখক : আব্দুল হামিদ মানিক

এই সংবাদটি 766 বার পঠিত হয়েছে

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ