বন্যা পরিস্থিতি ॥ দুবাগে ডাইক মেরামতের ঘোষণা দিলেন শিক্ষামন্ত্রী

প্রকাশিত: ১:৫০ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ৫, ২০১৭

বন্যা পরিস্থিতি ॥  দুবাগে ডাইক মেরামতের ঘোষণা দিলেন শিক্ষামন্ত্রী

 

মঙ্গলবার (আজ) দিনব্যাপী দুবাগ, শেওলা ও কুড়ারবাজার ইউনিয়নের বন্যা কবলিত কয়েকটি এলাকা পরিদর্শন করেছেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ এমপি। এ সময় তিনি আগামী এক মাসের মধ্যে দুবাগ ইউনিয়নে কুশিয়ারা নদীর ভেঙ্গে যাওয়া ৫টি ডাইক মেরামত করার ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি বলেন, শেখ হাসিনা সরকারের আমলে না খেয়ে কেউ মারা যায়নি। এবারও তার ব্যত্যয় ঘটবে না। এখন যারা বন্যায় সাময়িক অসুবিধার মধ্যে আছেন তাদেরকে চাল দেওয়া হচ্ছে। বন্যা নেমে গেলে রাস্তাঘাট, স্কুল-কলেজ, বাড়িঘর মেরামতের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, আগে বৃষ্টি মৌসুমে পানি হলে ‘বরসা’ বলা হতো। প্রায় সারা বছরই মানুষ খালি পায়ে হাঁটতো, স্কুল-কলেজে যেতো। আমরাও লুঙ্গি পড়ে খালি পায়ে স্কুলে গেছি। এখন আর সে যুগ নেই। মানুষের জীবনমান পাল্টেছে। একটু পানি হলেই বন্যা হওয়ার আওয়াজ উঠে। বন্যা হলেই একটু কষ্ট হবে, এটাই স্বাভাবিক। বাস্তবতা মেনে নিয়েই চলতে হবে।

তিনি বলেন, আমি আপনাদের কর্মী। অতীতে আপনাদের পাশে ছিলাম, এখন আছি, আগামীতেও পাশে থাকবো। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আ’লীগ সরকার যেকোন দুর্যোগে মানুষের পাশে দাঁড়ায়। তাদের প্রতি সহমর্মিতা জানিয়ে সাহায্যের হাত প্রসারিত করে। কারণ আ’লীগের মূল শক্তিই হচ্ছে জনগণ। তিনি দলীয় নেতাকর্মীদেও বন্যার্তদের পাশে থাকার আহ্বান জানান।

বন্যাদুর্গত এলাকা পরিদর্শনকালে শিক্ষামন্ত্রীর সাথে ছিলেন বিয়ানীবাজার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আতাউর রহমান খান, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান রোকশানা বেগম লিমা, উপজেলা আ’লীগের সহ সভাপতি হাজি আব্দুল আহাদ কলা মিয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন বাবুল, শিক্ষামন্ত্রীর এপিএস দেওয়ান মাকসুদুল ইসলাম আউয়াল, দুবাগ ইউপি চেয়ারম্যান এম এ সালাম, শেওলা ইউপি চেয়ারম্যান জহুর উদ্দিন, আ’লীগ নেতা আলমগীর হোসেন রুনু, পৌর আ’লীগের সভাপতি হাজি সামছুল হক, যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক আব্দুল হান্নান, দপ্তর সম্পাদক মাছুম আহমদ, উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক জুবের আহমদ, যুবলীগ নেতা জহিরুল হক রাজু, জেলা ছাত্রলীগের সদস্য কাওছার আহমদ প্রমুখ।

বিয়ানীবাজারে বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। কুশিয়ারা নদীর পানি কমতে থাকায় বাড়িঘর ও রাস্তাঘাট থেকে পানি নামতে শুরু করেছে। ফলে আশ্রয়কেন্দ্র থেকে মানুষ বাড়ি ফেরার স্বপ্ন দেখছেন। পরপর দু’বারের বন্যায় ধানক্ষেত পুরোপুরি বিনষ্ট হওয়ায় কৃষককূল দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। সর্বস্ব হারিয়ে তারা সরকারের কাছে সার্বিক সাহায্য কামনা করেছেন।

এদিকে বন্যার্তদের মধ্যে সরকারি সাহায্য ‘চাল’ প্রত্যেক ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে বিতরণ অব্যাহত রয়েছে।

উপজেলা আ’লীগ সভাপতি হাজি আব্দুল হাছিব মনিয়া, জেলা বিএনপির সভাপতি আবুল কাহের শামীম ও উপদেষ্টা মাওলানা আব্দুর রশীদের অর্থায়নে পৃথকভাবে বন্যার্তদের মধ্যে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হচ্ছে। বিভিন্ন দেশ থেকে প্রবাসীরাও ত্রাণ সামগ্রী পাঠাচ্ছেন বলে খবর পাওয়া গেছে।

 

এই সংবাদটি 734 বার পঠিত হয়েছে

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ