ঢাকা |
প্রকাশিত: ১২:৫৮ পূর্বাহ্ণ, মে ১২, ২০১৮
“স্পেসএক্স আজ আবার উৎক্ষেপণের প্রস্তুতি শুরু করেছে। আশা করছি সবকিছু ঠিক থাকলে সফলভাবে উৎক্ষেপণ হবে। এখন পর্যন্ত সব পরীক্ষার ফলাফল ইতিবাচক। তবে আবারও বলছি, এসব ক্ষেত্রে আবহাওয়া ও কারিগরি বিষয়গুলো খুব গুরুত্বপূর্ণ।”
কেনেডি স্পেস সেন্টারের লঞ্চ প্যাড ৩৯ এ থেকে বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় রাত ৩টা ৪৭ মিনিটে উৎক্ষেপণের কথা ছিল জিওস্টেশনারি স্যাটেলাইট বঙ্গবন্ধু -১ এর। আর সেজন্য স্পেসএএক্সর ফ্যালকন-৯ রকেটের নতুন সংস্করণ ব্লক ফাইভকে যাত্রার জন্য প্রস্তুত করে কাউন্ট ডাউনও চলছিল।
কিন্তু শেষ মিনিটে সমস্যা দেখা দেওয়ায় স্যাটেলাইটটি আর ওড়েনি লঞ্চ প্যাড থেকে। এরপর স্পেসএক্স উৎক্ষেপণ পিছিয়ে শুক্রবার বাংলাদেশ সময় রাত ২টা ১৪ থেকে ৪টা ২১ মিনিটের মধ্যে নতুন সময় রাখে।
ঠিক কী ধরনের সমস্যার কারণে উৎক্ষেপণ বিলম্বিত হয়েছে তা স্পষ্ট করেনি স্পেসএক্স। তবে তারা জানিয়েছে, রকেট আর স্যাটেলাইটের কোনো ক্ষতি হয়নি।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় তার ফেইসবুকে লিখেছেন, “উৎক্ষেপণের শেষ মিনিট পুরোপুরি নিয়ন্ত্রিত হয় কম্পিউটারের মাধ্যমে। কম্পিউটারের হিসাবে কোনো কিছু স্বাভাবিকের বাইরে ধরা পড়লে তা উৎক্ষেপণ কার্যক্রম স্থগিত করে দেয়।”
আর এ কারণেই উৎক্ষেপণের নির্ধারিত সময়ের মিনিটখানেক আগে লঞ্চিং প্রক্রিয়া বন্ধ হয়ে গিয়ে থাকতে পারে বলে জয়ের ধারণা।
স্পেসএক্স জানিয়েছে, আবহাওয়ার পরিস্থিতি বিবেচনা করে আগের দিনের মতই দুই ঘণ্টার একটি অনুকূল সময় ঠিক করে তার মধ্যে রকেট উৎক্ষেপণের চেষ্টা করবে তারা। শুক্রবারও না পারলে ১২ মে শনিবারও স্থানীয় সময় বিকাল সোয়া ৪টায় (বাংলাদেশ সময় রাত ২টা ১৫) আরও একটি ব্যাকআপ উইন্ডো রাখা হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, মহাকাশে পৌঁছার পর বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনতে লাগবে প্রায় এক মাস। এরপর কারিগরি বিভিন্ন বিষয় শেষ করে বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণে আসতে আরও এক মাস সময় লাগবে বলে ধারণা বিটিআরসির।
বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের জন্য গাজীপুরের জয়দেবপুরে এবং রাঙামাটির বেতবুনিয়ায় নির্মিত হয়েছে গ্রাউন্ড স্টেশন।
স্যাটেলাইট মহাকাশে উন্মুক্ত হওয়ার পর প্রাথমিকভাবে নিয়ন্ত্রণ যুক্তরাষ্ট্র, ইতালি এবং কোরিয়ার তিনটি গ্রাউন্ড স্টেশনে চলে যাবে।
প্রকল্প পরিচালক মো. মেজবাহুজ্জামান বলেছেন, এই তিন স্টেশন থেকে স্যাটেলাইটটিকে নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে এর নিজস্ব কক্ষপথে (১১৯.১ পূর্ব দ্রাঘিমাংশে অরবিটাল স্লট) স্থাপন করা হবে। স্যাটেলাইটটি সম্পূর্ণ চালু হওয়ার পর এর নিয়ন্ত্রণ বাংলাদেশের গ্রাউন্ড স্টেশনে হস্তান্তর হতে আরও এক মাস সময় লেগে যাবে।
বাংলাদেশ এতদিন বিদেশি স্যাটেলাইট ভাড়া করে সম্প্রচার ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ বিষয়ে গবেষণার কাজ চালিয়ে আসছিল; বর্তমানে বিদেশি স্যাটেলাইটের ভাড়া বাবদ বাংলাদেশকে গুণতে হয় ১ কোটি ৪০ লাখ ডলার।
অর্থনীতির অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে তাই ৩ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে এই কৃত্রিম উপগ্রহ পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়। নিজস্ব যোগাযোগ স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের পর বাংলাদেশ ভাড়ার নির্ভরশীলতা কাটিয়ে উঠে অর্থ সাশ্রয় করতে পারবে বলে সরকার আশা করছে।
এর আগে ২০১৭ সালে বাংলাদেশের ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগে ব্র্যাক অন্বেষা নামে একটি ন্যানো স্যাটেলাইট মহাকাশে পাঠানো হয়েছিল। তা ছিল মাত্র এক কেজি ওজনের। বিপরীতে বঙ্গবন্ধু-১ এর উৎক্ষেপণ ভর তিন হাজার ৫০০ কেজি।
বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট নির্মিত হয়েছে ফ্রান্সের তালিস এলিনিয়া স্পেস ফ্যাসিলিটিতে। নির্মাণ, পরীক্ষা, পর্যালোচনা ও হস্তান্তর শেষে বিশেষ কার্গো বিমানে করে সেটি কেইপ কেনাভেরালের লঞ্চ সাইটে পাঠানো হয়।
বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের গায়ে বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকার রঙের নকশার ওপর ইংরেজিতে লেখা রয়েছে বাংলাদেশ ও বঙ্গবন্ধু ১। বাংলাদেশ সরকারের একটি মনোগ্রামও সেখানে রয়েছে।
স্পেসএক্সের ইউটিউব চ্যানেলে দেখা যাবে এই উৎক্ষেপণের ‘লাইভ স্ট্রিমিং’। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন চ্যানেল বিটিভি ওই উৎক্ষেপণ সরাসরি সম্প্রচার করবে।
সূত্র : বিডি নিউজ ২৪ ডটকম
রেজিঃ নং চ-৭৩৫
সম্পাদক ও প্রকাশক: এম.ফয়জুল হক শিমুল
সহ: সম্পাদক : হাবিবুর রহমান সুলতান
সহ: সম্পাদক : নুরুল হক মাসুদ
সম্পাদক ও প্রকাশক কর্তৃক নিউ বর্ণমালা অফসেট প্রিন্টিং প্রেস, রাজা ম্যানশন জিন্দাবাজার, সিলেট থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত।

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: * সি-৮/৩০ বনশ্রী ঢাকা।
সিলেট অফিস: কমন মার্কেট (৫ম তলা ) বন্দর বাজার, সিলেট।
বিয়ানীবাজার অফিস: ছফর কমপ্লেক্স, দক্ষিণ বিয়ানীবাজার, সিলেট।
যোগাযোগ মোবাইলঃ +88-01713813124
ই-মেইল ॥ somoychitro@gmail.com
বড়লেখা অফিস: নেহার মার্কেট, ( ২য় তলা), বড়লেখা, মৌলভীবাজার।