ঢাকা |
প্রকাশিত: ৪:৫১ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ১৭, ২০১৬

রাসেল চেীধুরী ঢাকা অফিস: আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, পিতার কাছে কথা দিচ্ছি, দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফুটিয়ে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়তে কাজ করে যাব। আরও আঘাত আসবে। কখনও জঙ্গিবাদ, কখনও সন্ত্রাসবাদ, নানা কিছু আসবে। এগুলো মোকাবিলায় আমার একটাই শক্তি। তা হলো, আমি মানুষের জন্য কাজ করছি।
গতকাল মঙ্গলবার বিকালে রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে আওয়ামী লীগ আয়োজিত শোক দিবসের আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। আওয়ামী লীগের সভাপতি মন্ডলীর সদস্য ও সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর সভাপতিত্বে দলের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, সভাপতিমন্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী, মোহাম্মদ নাসিম, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ, জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক আফজাল হোসেন, কেন্দ্রীয় সদস্য এসএম কামাল হোসেন প্রমুখ বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ, উপ-প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক অসীম কুমার উকিল।
এর আগে অনুষ্ঠানের শুরুতেই বঙ্গবন্ধু ও ১৫ আগস্ট শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করেন আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা।
শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগের দায়িত্বে থাকব এ বিষয়ে কখনও ভাবিনি। ভেবেছি, দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে হবে। হত্যার বিচার করতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৫ই আগস্টের হত্যাকাণ্ড এবং পরবর্তী সময়ে নিজের শোক, কষ্ট আর দুর্ভোগের বর্ণনা দিয়ে বলেন, সব কষ্ট বুকে চেপে রেখেছি। কিন্তু, কোনও দিন কারও কাছে নত হইনি। তিনি বলেন, ১৯৮১ সালে যখন আওয়ামী লীগের সভানেত্রী নির্বাচিত হই তখন আমি দিল্লীতে ছিলাম। আমার অবর্তমানেই আমাকে সভানেত্রীর দায়িত্ব দেয়া হয়। তারপর ১৭ই মে আমি দেশে আসি।
সেদিনের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, লাখো মানুষ আমার জন্য বৃষ্টিতে ভিজে বিমানবন্দরে গেছেন। লাখো মানুষের মধ্যে আমি আমার হারানো মা-বাবা, ভাই-বোন কাউকে পাইনি। কিন্তু, বাংলার মানুষের ভালবাসা, সমর্থন আমি পেয়েছি। আওয়ামী লীগের অগণিত কর্মীর সহযোগিতা পেয়েছি।
শেখ হাসিনা অভিযোগ করে বলেন, ১৯৮০ সালের ১৭ মে দেশে আসার পর আমি ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে যেতে চাইলাম। মিলাদ পড়ব। জিয়াউর রহমান আমাকে ঢুকতে দেয়নি। আমার জন্য ৩২ নম্বর ছিল নিষিদ্ধ। আমরা বাইরে দাঁড়িয়ে মিলাদ পড়ে চলে এলাম । যতদিন জিয়া রাষ্ট্রপতি ছিল, আমাকে ওই বাড়িতে ঢুকতে দেয়নি। বিনিময়ে বাড়ি-গাড়িসহ অনেক কিছু দিতে চেয়েছে, আমি নেইনি।
তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান এখানে ওখানে বাড়ি দিতে চেয়েছে। কিন্তু, খুনির কাছ থেকে কিছু নেয়ার আমার রুচি হয়নি। জিয়াউর রহমান দিল্লীতে ও লন্ডনে আমার সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছেন। কিন্তু, আমি বলেছি খুনির সঙ্গে আমার কোনও সাক্ষাৎ হবে না। আমি দেখা করিনি। কারণ একজন খুনির চেহারা আমি দেখতে চাইনি।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১২ আগস্ট কোকোর জন্মদিন, সেদিন কোকোর জন্মদিন পালন করতে পারবে না বলে ১৫ আগস্ট নিজের জন্মদিন পালন করেনি। তাছাড়া এটা তো তার জন্মদিন নয়। এখানে কোনো রাজনৈতিক উদারতা নেই যোগ করেন তিনি।
আওয়ামী লীগের সভাপতি বলেন, ’৭৫ থেকে ৮১ সাল পর্যন্ত দেশের বাইরে ছিলাম। দেশে ফিরে আমি চেয়েছি গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে, বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ডের তদন্ত করতে। তিনি যাদের জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করেছেন সে মানুষদের জন্য কিছু করাই আমার একমাত্র আকাক্সক্ষা।
১৯৭৫ সালের ১৫ অগাস্টের পর ভারতে রাজনৈতিক আশ্রয়ে থাকার সময় নিজের ছোট বোন শেখ রেহানার বিয়ের সময় লন্ডনে যেতে না পারার মনোকষ্টের কথা তুলে ধরেন শেখ হাসিনা।
তিনি বলেন, তার (শেখ হাসিনা) বিয়ের সময় আমি যেতে পারি নাই। যেতে পারি নাই একটা কারণ। টিকেটের খরচ জোগাড় করা, লন্ডনে যেয়ে থাকার খরচ কাছে ছিল না।
আবেগাল্পুত হয়ে তিনি বলেন, “আমি পরিবারের একমাত্র সদস্য। ওর বিয়েতে থাকতে পারিনি। যেতে পারলাম না। ভারতের রাজনৈতিক অবস্থা ওরকম ছিল না। কার কাছে বলব। আর আমাদের যে স্বভাব, কারো কাছে হাত পাতার… কিছু নেওয়া…কষ্ট করে বুকে চেপে রেখেছি কারো কাছে নত হয়নি। ’৮০ সালে ইন্দিরা গান্ধী আবার ক্ষমতায় আসলেন। উনি শুনলেন, রেহানা সন্তান সম্ভবা… তিনি আমার টিকিটের ব্যবস্থা, থাকার ব্যবস্থা সব করে দিলেন।
রেজিঃ নং চ-৭৩৫
সম্পাদক ও প্রকাশক: এম.ফয়জুল হক শিমুল
সহ: সম্পাদক : হাবিবুর রহমান সুলতান
সহ: সম্পাদক : নুরুল হক মাসুদ
সম্পাদক ও প্রকাশক কর্তৃক নিউ বর্ণমালা অফসেট প্রিন্টিং প্রেস, রাজা ম্যানশন জিন্দাবাজার, সিলেট থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত।

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: * সি-৮/৩০ বনশ্রী ঢাকা।
সিলেট অফিস: কমন মার্কেট (৫ম তলা ) বন্দর বাজার, সিলেট।
বিয়ানীবাজার অফিস: ছফর কমপ্লেক্স, দক্ষিণ বিয়ানীবাজার, সিলেট।
যোগাযোগ মোবাইলঃ +88-01713813124
ই-মেইল ॥ somoychitro@gmail.com
বড়লেখা অফিস: নেহার মার্কেট, ( ২য় তলা), বড়লেখা, মৌলভীবাজার।