ফিরে দেখা ২০১৭: বিয়ানীবাজারের আলোচিত হত্যাকান্ড

প্রকাশিত: ১২:৫০ পূর্বাহ্ণ, জানুয়ারি ১, ২০১৮

ফিরে দেখা ২০১৭:  বিয়ানীবাজারের আলোচিত হত্যাকান্ড

 

মিসবাহ উদ্দিন: কালের গর্ভে হারিয়ে গেল আরেকটি বছর। তবে রেখে গেছে অনেক কলঙ্কজনক অধ্যায়ের। বিয়ানীবাজার বাসীর জন্য প্রাপ্তির চেয়ে যেন হারানোটাই ছিলো সবচেয়ে বেশি। প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তি, আশা-হতাশার খাতা নিয়ে হিসাব কষা চলছে। বিদায় নিয়েছে ২০১৭। বছরটি বিয়ানীবাজার- বেশকটি আলোচিত হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটেছে। এখন খুন যেন মামুলি ব্যাপার হয়ে উঠেছে। এই উপজেলায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবণতি ঘটলেও এ নিয়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তেমন কোন পদক্ষেপ চোখে পড়েনি। বেশিরভাগ হত্যা এবং অপরাধ কর্মকান্ডের আসামিরা রয়েছে ধরা ছোয়ার বাইরে। আবার কেউ কেউ রয়েছেন জামিনে।  পারিবারিক বিরোধের জের ধরে, নির্যাতনের পর হত্যা, আধিপত্যবিস্তারকে কেন্দ্র করে এসব হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটেছে। হত্যাকান্ডের পর শরীরের বিভিন্ন অংশ খন্ড বিখন্ডের ঘটনাও রয়েছে। এসব হত্যাকান্ডের কেউ কেউ আইনের আওতায় এলেও বেরিয়ে যায় নানা ফাঁক ফোঁকরে। গেল বছর জুড়ে চলেছে হত্যা এবং অজ্ঞাত লাশ উদ্ধারের ঘটনা। খুনের হিংস্রতা, বর্বরতা, নৃশংসতা ও পৈশাচিকতায় হত বিহব্বল হয়ে পড়েছে এখানকার মানুষ।  জমি সংক্রান্ত বিরোধে, পূর্ব শত্রুতা, শ্রেনীকক্ষে খুন, পান দোকানের সম্মুখে খুনের  মতো ঘটনা হরহামেশায় ঘটেছে এ  উপজেলায়। একের পর এক লোমহর্ষক ও নৃশংস হত্যাকান্ডের  কারণে আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন এখানকার মানুষ। পুলিশ প্রশাসন আইন শৃংখলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অনেকটা ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। ২০১৭ সালে বিয়ানীবাজার  উপজেলায় মোট ৬ টি হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটে। এসব হত্যাকান্ডের মধ্যে একাধিক আলোচিত হত্যাকান্ডের ঘটনাও রয়েছে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, গত বছরের  ২৫ নভেম্বর শনিবার বিয়ানীবাজার পৌর-শহরের মোকাম রোড মসজিদ এলাকায় পূর্ব শত্রুতার কারনে  দিন দুপুরে পান খেতে এসে খুন হন ছাত্রলীগ কর্মী আনোয়ার হুসেন (২৬) স্বজনদের অভিযোগ,  বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে পরিকল্পিত ভাবে খুন করা হয়েছে তাকে খুনের ঘটনায় ১৮ জনের নাম উল্লেখ্য করে থানায় মামলা দায়ের করেছে তারর পরিবার,  ঘটনার দিনে পুলিশ  ২ জন ও পরে অভিযান চালিয়ে ১ জন কে আটক করে বর্তমানে তারা জেল হাজতে রয়েছে কিন্তু প্রধান আসামী এখনো পলাতক

১৭ জুলাই বিয়ানীবাজার সরকারী কলেজ ক্যাম্পাসের শ্রেণীকক্ষে ছাত্রলীগ কর্মী খালেদ আহমদ লিটু (২৪)’র গুলিবিদ্ধ লাশ পাওয়া যায়। এ ঘটনায় পুলিশ চারজনকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতকারকৃতদের মধ্যে ছাত্রলীগ নেতা কামরান হোসেন ও এমদাদুর রহমান দেলওয়ার হুসেন মিষ্টু, জামিনে মুক্ত হয়েছেন। অপর আসামী ফাহাদ আহমদ জামিনে মুক্ত হলে ফের থাকে আদালত জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে প্রেরন করে  । এ হত্যাকান্ডের ময়না তদন্ত প্রতিবেদনে একনলা বন্ধুকের গুলিতে লিটুর মৃত্যু হয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্রটি এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। মামলার ৭ আসামীর মধ্যে অপর ২ আসামী পলাতক। ৩১ জুলাই উপজেলার চারখাই এলাকার কনকলস থেকে অটোরিক্সা চালক মাসুদ আহমদ (১৮) এর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় ছিনতাই হওয়া অটোরিক্সাটি উদ্ধার করতে পারেনি আইনশৃংখলা বাহিনী। তবে ঘটনায় জড়িত সন্দেহে দু’জনকে গ্রেফতার করে রিমান্ডে নিয়ে আসা হয়। নিহত মাসুদ শেওলা ইউনিয়নের চারাবই গ্রামের সুজন মিয়ার পুত্র। লাশ উদ্ধারের চারদিন পূর্ব থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। ২৬জুন চারখাই ইউনিয়নে ফরহাদ আহমদ (২২) এর এক যুবকের লাশ স্থানীয় একটি জলাশয় থেকে উদ্ধার করা হয়। তাকে পূর্ব বিরোধের জের ধরে খুন করা হয়েছে বলে মামলার তৎকালীন তদন্ত কর্মকর্তা এসআই শাফিউল ইসলাম পাটোয়ারী জানান। এ ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার সব আসামী পলাতক। নিহত ফরহাদ গিয়াস উদ্দিনের ছেলে। তিনিও পেশায় অটোরিক্সা চালক ছিলেন। ১২জুন মোল্লাপুর ইউনিয়নের পাতন গ্রামে মসজিদ এলাকার ভিতওে সৃষ্ট সংঘর্ষে খুন হন দিনমজুর মহিদুর রহমান মিন্টু (৪৮)। এটিও একটি পরিকল্পিত হত্যাকান্ড বলে তদন্ত সূত্রের দাবী। পূর্ব থেকে মারামারির জন্য মসজিদ এলাকায় অস্ত্র জড়ো করে রাখা হয় বলে পুলিশ জানায়। এ হত্যাকান্ডের ঘটনায় পুলিশ মোট ৫জনকে গ্রেফতার করে।  তারা এখনো জামিনে রয়েছেন তবে হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। ২৩ জুন উপজেলার লাউতা ইউনিয়নের কালাইউরায় রাতে ইউপি সদস্য মুমিনুল ইসলাম রুমনের বাড়িতে গৃহপরিচারিকা রেশম বেগম (৪৫) এর লাশ উদ্ধার করা হয়। বড় ধরনের আঘাতে তার মৃত্যু হয়েছে বলে ময়না তদন্ত প্রতিবেদনে ওঠে এসেছে। এ মামলায় দুই আসামীর একজন মুমিনুল ইসলাম রুমন কারাগারে আছেন। অপর আসামী তার স্ত্রী ফারহানা ইসলাম পলাতক। ২৭ অক্টোবর শেওলা ইউনিয়নের শালেস্বর থেকে ব্যবসায়ী আব্দুল গফুর (৬০) এর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। রহস্য উদঘাটনে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই সিরাজুল ইসলাম নিহত ব্যক্তির মোবাইল ফোনের ‘কললিষ্ট’ সংগ্রহের জন্য আবেদন করেছেন। কিন্তু ওই তালিকাটি দীর্ঘদিনেও পুলিশের কাছে না আসায় রহস্য আরো ঘনিভূত হচ্ছে।  বিয়ানীবাজার থানার অফিসার ইনচার্জ শাহজালাল মুন্সি ও  পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো: জাহিদুল হক  জানান, ‘বেশীরভাগ হত্যাকান্ড পরিকল্পিত। আমরা রহস্য উদঘাটনে কাজ করছি। আসামীদের গ্রেফতারে আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান পরিচালনা করছি। অচিরেই সকল হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটন করা সম্ভব হবে।’

 

এই সংবাদটি 1039 বার পঠিত হয়েছে

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ