প্রভাবশালী ইজারাদারদের নিকট জিম্মী সাড়ে ১০ হাজার তাঁতী

প্রকাশিত: ১:১০ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১০, ২০১৭

প্রভাবশালী ইজারাদারদের নিকট জিম্মী সাড়ে ১০ হাজার তাঁতী

রাজশাহী বিভাগীয় চীফ :
সিরাজগঞ্জের তাঁত সমৃদ্ধ এনায়েতপুর থানার এনায়েতপুর কাপড়ের হাটটি এখন মুখ থুবড়ে পড়ার উপক্রম হয়েছে। দেশের সর্ববৃহত এ হাটটি এখন একদিকে মামলা-মোকদ্দমায় বিধ্বস্ত কর্তৃপক্ষ ও জেলা প্রশাসন। অপরদিকে প্রভাবশালী ইজারাদারদের নিকট জিম্মী হয়ে পড়েছেন এ হাটের সাথে সম্পৃক্ত প্রায় সাড়ে ১০ হাজার তাঁতী এবং তাঁত কাপড় ব্যবসায়ী। তাঁত কাপড় ব্যবসায়ীদের দাবী সকল মামলা মোকদ্দমার নিস্পত্তি ঘটিয়ে এনায়েতপুর কাপড়ের হাটটি সমিতির নামে ইজারা দিলে সরকারের রাজস্ব পরিশোধ করার পরও প্রমিন্যান্স টেক্সটাইল কোম্পানীর বিনিয়োগকৃত অর্থ সমিতিই ফেরত দিতে পারবে।
এতে সরকারী কোষাগার থেকে বিনিয়োগকারী কোম্পানীকে টাকা ফেরত দেয়ার প্রয়োজন হবে না বলেও মনে করছে সমিতি কর্তৃপক্ষ।এনায়েতপুর হাট তাঁত-কাপড় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেডের পক্ষ থেকে মোকদ্দমা মিমাংসা করার মাধ্যমে তাঁত কাপড় ব্যবসা স¤প্রসারণের আদেশ প্রার্থনা করে প্রধানমন্ত্রী ও ভূমিমন্ত্রী বরাবর লিখিত আবেদন করেছেন। গত ৪ এপ্রিল সংশি¬ষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে প্রেরণ করা লিখিত আবেদনে এনায়েতপুর হাট তাঁত-কাপড় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেডের সভাপতি নজরুল ইসলাম উলে¬খ করেন, তাঁতশিল্পের বিকাশ ও ক্ষুদ্র তাঁত কাপড় ব্যবসায়ীদের ব্যবসা প্রসারের লক্ষ্যে জেলা সমবায় কর্মকর্তার কার্যালয় নিবন্ধিত এ সমিতি গঠন করা হয়। এনায়েতপুর হাট স¤প্রসারণ ও উন্নয়নের জন্য ওই সময় তৎকালীন সদিয়া চাঁদপুর ইউপি চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী এনায়েতপুর হাটে ব্যবসারত প্রমিন্যান্ট টেক্সটাইলস্ লিমিটেড কোম্পানীর সাথে সমঝোতা চুক্তিপত্র করেন।
২০০৬ সালের ২৭ ফেব্র“য়ারী চৌহালী উপজেলা মাসিক সমন্বয় কমিটির সভায় এনায়েতপুর তাঁত কাপড়ের হাটের জায়গা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে পানি উন্নয়ন বোর্ডের অব্যবহৃত নিচু জায়গা পেরিফেরিতে অন্তর্ভূক্তির প্রস্তাব পাশ করা হয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ২০০৬ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর ব্যক্তিগত বিনিয়োগকারীর অর্থায়নে গভীর খাদ ভরাটের জন্য অনুমোদন দেন ভূমি মন্ত্রণালয়। ওই বছরই বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান প্রমিন্যান্ট টেক্সটাইলস্ লিমিটেড কোম্পানী নিজ অর্থায়নে গভীর খাদ ভরাট করে হাটের জায়গা সম্প্রসারণের করেন। তবে হাটের জায়গা সম্প্রসারণ ও উন্নয়নে প্রমিন্যান্ট টেক্সটাইলস্ লিমিটেড কোম্পানীর বিনিয়োগকৃত অর্থ ফেরত দেয়ার জন্য এনায়েতপুর হাট তাঁত-কাপড় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেডের সাথে সম্পৃক্ত প্রায় সাড়ে ১০ হাজার তাঁত কাপড় ব্যবসায়ী চুক্তিবদ্ধ হয়।
আবেদনপত্রে আরও বলা হয়, হাটটি পেরিফেরিতে অন্তর্ভূক্ত হওয়ার পর থেকে জেলা প্রশাসন দরপত্র বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ইজারা দেয়া হচ্ছে। তবে বিনিয়োগকারী কোম্পানীর বিনিয়োগকৃত অর্থ ফেরত প্রদানে কোন প্রকার ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। পরে প্রমিন্যান্ট টেক্সটাইলস্ লিমিটেড কোম্পানী তাদের বিনিয়োগকৃত অর্থ ফেরত পাওয়ার জন্য এনায়েতপুর হাট বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি, ভূমি মন্ত্রণালয়, সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক ও অন্যান্যদের বিবাদী করে উচ্চ আদালতে রিট পিটিশন দায়ের করেন। রিটের শুনানী শেষে আদালত ২০০৮ সালের ১৯ আগষ্ট আবেদনকারীর দাবী সেটেল করে টাকা ফেরত প্রদানের আদেশ দেন। কিন্তু জেলা প্রশাসক ওই আদেশের বিরুদ্ধে এক বছর ৪ মাস পর সুপ্রিমকোর্টের আপীল বিভাগে লীভ টু আপিল ফাইল করেন। লিখিত আবেদনে আরও উলে¬খ করা হয়, এনায়েতপুর হাটের নিয়োগকৃত ইজারাদার ও তার প্রভাবশালী সহযোগীরা হাটের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের উপর প্রতিনিয়ত উৎপাত ও অবৈধভাবে হাটের জায়গা দথল করে ব্যক্তিগত কার্যালয় নির্মাণ করেন। বাধ্য হয়ে সমিতির পক্ষ থেকে অবৈধ দখলমুক্ত করার দাবীতে একটি পিটিশন দায়ের করা হয়।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন করলে শুনানী শেষে বিচারক দখলদারদের উচ্ছেদের নির্দেশ দিয়ে রুল নিস্পত্তি করেন। ওই আদেশ আংশিক কার্যকর হলেও এখনও বেআইনীভাবে হাটের জায়গা দখল করে ব্যক্তিগত কার্যালয় নির্মাণ করে বিভিন্ন কার্যকলাপ চালিয়ে যাচ্ছেন কতিপয় প্রভাবশালীরা।
এ বিষয়ে সমিতির সভাপতি নজরুল ইসলাম জানান, প্রধানমন্ত্রী বরাবরে আমাদের আবেদনে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনা দেয়া হয়েছে। ওই প্রস্তাব গ্রহণ করলে সরকারী কোষাগারে বিপুল অর্থ জমা হওয়ার পাশাপাশি লাইসেন্স ফি বাবদও প্রতি বছর সরকার অর্থ পেতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

এই সংবাদটি 332 বার পঠিত হয়েছে

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ