প্রধানমন্ত্রীর কাছে মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধার সন্তানরা ‘গুটউড়া হাওর খাল বদ্ধ জল মহাল’ পাবার জন্য আবেদন

প্রকাশিত: ৫:৫৫ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৮, ২০১৬

প্রধানমন্ত্রীর কাছে মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধার সন্তানরা  ‘গুটউড়া হাওর খাল বদ্ধ জল মহাল’ পাবার জন্য আবেদন

স্টাপ রির্পোটারঃ

বড়লেখা উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধার সন্তানরা একত্রিত হয়ে “সোনার বাংলা মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধার সন্তান মৎস্যজীবি সমবায় সমিতি লিঃ” গ্রাম- খুটাউড়া, ডাক- হাকালুকি, উপজেলা- বড়লেখা, জেলা- মৌলভীবাজার নামক একটি নিবন্ধিত মৎস্যজীবি সমবায় সমিতি গঠন করে যার নিবন্ধন নং- ৩২৩।

জানা যায়, বিগত ১৪২২ বাংলা সন হইতে ১৪২৭ বাংলা সন পর্যন্ত সরকারী নীতিমালার আলোকে বড়লেখা উপজেলার বিভিন্ন বিল ও জলমহাল ইজারামুক্ত হয়। এরই ধারাবাহিকতায় হাকালুকি হাওরের ‘গুটাউড়া হাওরখাল বদ্ধ জল মহাল’ অন্তর্ভূক্ত থাকায় ইহাতে আবেদন করেন। “সোনার বাংলা মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধার সন্তান মৎস্যজীবি সমবায় সমিতি লিঃ” সহ নিবন্ধিত মোট আরোও ৪টি মৎস্যজীবি সমিতি। জাতীয় সংসদে পাস হওয়া ‘জাল যার জলা তার’ ২০০৯ এর নীতিমালা বাস্তবায়ন করার প্রেক্ষিতে ইজারা পরবর্তী কার্যক্রম প্রক্রিয়া ভূমি মন্ত্রনালয় হইতে জেলা প্রশাসক হয়ে উপজেলা প্রশাসন পর্যন্ত লীজ কার্যক্রম শুরু হয়। মাঠ পর্যায়ে তদন্ত করেন উপজেলা ভূমি অফিসার উপজেলা মৎস্য অফিসার ও উপজেলা সমবায় অফিসার বিগত ১৯/০২/২০১৪ইং তারিখে উপজেলা জল মহাল কমিটিতে রিপোর্ট পেশ করেন।

মৎস্যজীবি ৪টি সমিতির মধ্যে সর্ব্বোচ্চ দরদাতা “দেশ বাংলা মৎস্যজীবি সমাবয় সমিতি” নীতিমালা বর্হিভূত কাজে জড়িত থাকায় উপজেলা জলমহাল কমিটির তদন্তে তা বাতিল হয়ে যায়। পরবর্তীতে সর্ব্বোচ্চ দরদাতা সমিতি “সোনার বাংলা মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধার সন্তান মৎস্যজীবি সমবায় সমিতি লিঃ” এই সমিতির পক্ষে উপজেলা জল মহাল কমিটির সদস্য জনাব রানালাল সরকার ও জনাব মোঃ নুর উদ্দিন অভিমত ব্যক্ত করেন। উনারা বলেন, মুক্তিযোদ্ধারা দেশের জন্য জীবন বাজি রেখে এদেশ স্বাধীন করেছেন। তাদের কাছে আমরা ঋৃণী অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এই সমিতিরই ইহা প্রাপ্য। কিন্তু উপজেলা জলমহাল কমিটির নিষ্ঠুরতার কারণে ৩নং দরদাতা “ভোলারকান্দি মৎস্যজীবি সমবায় সমিতি লিঃ” পক্ষে সুপারিশ করে জেলা কমিটির কাছে সিদ্ধান্ত পাঠান।

ঐ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে উপজেলা জলমহাল কমিটির সদস্য জনাব রানালাল সরকার, জনাব নুর উদ্দিন ও মুক্তিযোদ্ধা সমবায় সমিতি লিঃ বিগত ১০/০৩/২০১৫ইং তারিখে জেলা জল মহাল কমিটির কাছে আপত্তি আবেদন করেন। ঐ আপত্তি আবেদন পর্যালোচনা করে জেলা জলমহাল কমিটি ১২/০৪/২০১৫ইং “সোনার বাংলা মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধার সন্তান মৎস্যজীবি সমবায় সমিতি লিঃ” এর পক্ষে ইজারা দেওয়ার জন্য ভূমি মন্ত্রনালয়ে সুপারিশ করে একটি রিপোর্ট প্রেরণ করেন।

কিন্তু দুঃখ জনক ব্যাপার হল জেলা কমিটির সুপারিশ ও সর্ব্বোচ্চ দরদাতা থাকা সত্ত্বেও ২৭/০৫/২০১৫ইং তারিখে ভূমি মন্ত্রনালয়ের ৩২নং সভায় নীতিমালা লংঙ্ঘন করে মাননীয় সমাজ কল্যাণ মন্ত্রীর সুপারিশে ৪নং দরদাতা সমিতি “পানকৌড়ি মৎস্যজীবি সমবায় সমিতি লিঃ” কে ইজারা প্রদান করেন। যাহা সরকারী আইন এবং নীতিমালার পরিপন্থী।

মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধার সন্তানরা অনুতপ্ত হয়ে ঐ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে মহামান্য সুপ্রীম কোর্টের হাইকোর্ট ডিভিশনে ৮০৩৪ নং মামলায় রিট পিটিশন দায়ের করে ইজারার উপর দুই মাসের রোল ষ্টে প্রদান করেন এবং ৩নং দরদাতা সমিতি “ভোলারকান্দি মৎস্যজীবি সমবায় সমিতি” ঐ ব্যাপারে আর একটি মামলা দায়ের করেন মামলা নং সিঃরিঃপিঃ নং- ৩৫৫৮/২০১৫ইং। ঐসব মামলা চেম্বার জজ হয়ে মহামান্য হাইকোর্ট বিগত ১৯/১১/২০১৫ইং তারিখে রায় প্রদান করেন যে, রিট পিটিশন নং- ৮০৩৪/২০১৫ ও রিট পিশিন নং- ৮০৭৮/২০১৫ এ আইনের অভিন্ন প্রশ্ন ও বিষয় অর্ন্তভূক্ত করা হয়েছে। রিট পিটিশন সমূহের পক্ষ কম বা বেশি তাই উপরোক্ত রিট পিটিশন সমূহ একই সাথে শুনানি করা হয়েছে এবং সাধারণ রায়ের দ্বারা নিষ্পত্তি হয় ও ইজারা বাতিল করা হয়।

মহামান্য সুপ্রীম কোর্টের আপীল বিভাগ মহামান্য হাইকোর্টের রায় বহাল রেখে বিগত ১২/০৭/২০১৬ইং তারিখে রায় প্রদান করেন যে, পূর্বের রায়ই বহাল থাকিবে। সুতরাং “সোনার বাংলা মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধার সন্তান মৎস্যজীবি সমবায় সমিতি লিঃ” কে ইজারা প্রদান করিতে কোন বাধা নাই।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছেও মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধার সন্তানরা এই ‘গুটউড়া হাওর খাল বদ্ধ জল মহাল’ পাবার জন্য আবেদন করেছেন। বিগত ১৪/০৮/২০১৬ইং তারিখে ডাক যুগে এ.ডির মাধ্যমে ও প্রশাসনের কাছে মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের শুধু একটিই দাবী বড়লেখা উপজেলার ২৩২টি বিলের মধ্যে একটিই বিল যার নাম ‘গুটাউরা হাওরখাল বদ্ধ জল মহাল’। ঐ জলমহালটি পাবার জন্য ওদের আকুল আবেদন।

এই সংবাদটি 713 বার পঠিত হয়েছে

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ