পুলিশের সাঁড়াশি অভিযানে বিএনপির দুই হাজারের বেশী নেতাকর্মীকে গ্রেফতার: চলমান অভিযান গণতন্ত্রকামী রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের ওপর জুলুম করার জন্য -রিজভী

প্রকাশিত: ৭:০২ পূর্বাহ্ণ, জুন ১৪, ২০১৬

পুলিশের সাঁড়াশি অভিযানে বিএনপির দুই হাজারের বেশী নেতাকর্মীকে গ্রেফতার: চলমান অভিযান গণতন্ত্রকামী রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের ওপর জুলুম করার জন্য -রিজভী

স্টাফ রিপোর্টার : পুলিশের সাঁড়াশি অভিযানে বিএনপির দুই হাজারের বেশী নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে জানিয়ে দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী অভিযোগ করেছেন, জঙ্গিবাদ আড়াল করতে চলমান পুলিশী অভিযানের স্টিম রোলার দেশবাসীর ওপর চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, আসলে ধারাবাহিক হত্যাকাণ্ড বন্ধ করা নয়, চলমান অভিযান গণতন্ত্রকামী রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের ওপর জুলুম করার জন্যই চালানো হচ্ছে। গতকাল সোমবার দুপুরে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

সাংবাদিক সম্মেলনে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মজিবুর রহমান সারোয়ার, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস জাহান শিরিন, সহসাংগঠনিক আব্দুস সালাম আজাদ, মাহবুবুল হক নান্নু, সহ-দফতর সম্পাদক আসাদুল করিম শাহীন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

রিজভী বলেন, বাংলাদেশে উগ্রবাদীদের হত্যাকাণ্ড নিয়ে প্রায় সাত হাজারের অধিক মানুষকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর মধ্যে ২১শর অধিক বিএনপি নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতার করা হচ্ছে অসংখ্য নিরীহ ও সাধারণ মানুষকে। অথচ মূল জঙ্গিদের এখনও চিহ্নিত করতে পারেনি, মাত্র ৮৫ জন সন্দেহভাজনকে জঙ্গি হিসেবে আটক করা হয়েছে বলে পুলিশ সদর দফতর থেকে প্রেরিত বার্তায় বলা হয়েছে।

বিএনপির প্রখ্যাত কোনো নেতা আছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে রিজভী বলেন, আমাদের কাছে প্রাপ্ত তথ্যগুলো আপনাদের অবহিত করেছি। চাপে রাখতে শীর্ষ নেতা থেকে শুরু করে ভাইস চেয়ারম্যান, যুগ্ম মহাসচিবদের বাড়ির সামনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাদা পোশাকের সদস্যদের দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। তিনি বলেন, পুলিশের সন্ত্রাস বিরোধী অভিযানে গণ গ্রেফতারের এবং বন্দুকযুদ্ধের নামে বেশ কিছু প্রাণহানির ঘটনা ঈদের আগে দেশের মানুষকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে ভীতি আর আতঙ্কের রাজ্যে।

বিগত আন্দোলনে পেট্টোলবোমা নিক্ষেপ কারার জন্য আওয়ামী লীগকে দায়ী করে তিনি বলেন, যেখানেই পেট্ট্ােলবোমা ও আগুন সেখানেই আওয়ামীরা। তাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতিই হচ্ছে সন্ত্রাস ও শক্তি প্রয়োগ করা। পাশাপাশি অপপ্রচার ও ষড়যন্ত্রের পথে হাঁটতে আওয়ামী লীগের জুড়ি মেলা ভার। তিনি বলেন, অবৈধ ক্ষমতার গরিমায় থানা পুলিশকে কব্জায় নিয়ে গায়ের জোরে যে কারো বিরুদ্ধে যে কোনো মিথ্যা ও সাজানো মামলা দায়ের করা যায়। তবে তাতে সত্যকে ঢাকা দেওয়া যাবে না।

তিনি আরও বলেন, এই অনাচারকারী ভোটারবিহীন সরকার সমাজ ও রাষ্ট্রের মানবিক চেহারা হরণ করে নিয়েছে। গণতন্ত্রকে উৎখাত করে গোটা সমাজকেই অধঃপতনের শেষ অধ্যায়ে পৌঁছে দিয়েছে তারা। এদের অনাচার, পাপ আর অধিকার হরণের বীভৎসতায় সরকার এখন মৃত্যুযন্ত্রণায় ছটফট করছে। তাই এদের বিরুদ্ধে খুব শিগগির অপরাজেয় মনোবল নিয়ে দেশের মানুষ এক তীব্র প্রতিরোধ গড়া তোলার প্রস্ততি নিচ্ছে। কারণ এদের বিদায়ের তৃতীয় ঘণ্টা বেজে গেছে।

বর্তমান সরকার সমাজ ও রাষ্ট্রের মানবিক চেহারা হরণ করে নিয়ে এখন মৃত্যুর যন্ত্রণায় ছটফট করছে মন্তব্য করে রিজভী বলেন, গণতন্ত্রকে উৎখাত করে গোটা সমাজকেই অধ:পতনের শেষ অধ্যায়ে পৌঁছে দিয়েছে এই সরকার। অনাচার, পাপ আর অধিকার হরণের বিভৎসতায় সরকার এখন মৃত্যুর যন্ত্রনায় ছটপট করছে। সরকারের বিদায়ের থার্ড বেল অর্থাৎ তৃতীয় ঘণ্টা বেজে গেছে বলেও জানান তিনি।

এই সংবাদটি 899 বার পঠিত হয়েছে

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ