পঞ্চগড় বোদায় মাদরাসার সুপারের কক্ষে তালা

প্রকাশিত: ৫:৩২ অপরাহ্ণ, মে ৭, ২০১৭

পঞ্চগড় বোদায় মাদরাসার সুপারের কক্ষে তালা
 এম,সাঈদ
 বোদা নাশির মন্ডলহাট ছালেহিয়া দাখিল মাদরাসার সুপারের বিচারের দাবিতে সড়ক অবরোধ, সুপারের কক্ষে তালা ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসী।
শনিবার বেংহারী ও বোদা সড়কে ২ ঘন্টাব্যাপি অবরোধ কর্মসুচী পালন করে। এসময় আন্দোলনকারীরা সুপারের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও প্রতিষ্ঠান থেকে অপসারণ দাবি করেন। পরে উপজেলা প্রশাসনের আশ্বাসে অবরোধ তুলে নেওয়া হয়।
পরিক্ষার্থীরা জানায়, ইতোপূর্বে আমাদের কৃষি শিক্ষা বিষয়ে পড়াশুনা করানো হয়। কিন্তু পরিক্ষার পূর্ব মুহুতে আমরা জানতে পারি আমাদের বিষয় বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচিতি। বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচিতি বিষয়ে পরিক্ষায় অংশ নেওয়ায় ১৭ জন পরিক্ষার্থীর মধ্যে ১৪ জনই ফেল করি। এ ক্ষতির জন্য আন্দোলনকারীরা দায়ি করেন সুপার ইউসুফ আলীকে।
এলাকাবাসী জানান, সুপারকে বিষয় কোর্ড পরির্বতনের বিষয়টি পরিক্ষার ৩ মাস পূর্বে জানানো হয়। এসময় সুপার পরিক্ষার আগে এটি সুরাহ করা হবে বলে অভিভাবকদের আশ্বাস দেন। কিন্তু দেখা যায়, পরিক্ষার প্রবেশ প্রত্র হাতে পাওয়ার পর জানতে পারি আমাদের ছেলে মেয়েদের কৃষি শিক্ষা বিষয় পরিক্ষায় অংশ নিতে পারবে না তাদেরকে বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচিতি বিষয়ে অংশ নিতে হবে।
পরিক্ষার্থী মনিরা আক্তার, মেশকাত ও সুমি জানান, আমাদের এ ফলাফলের দায়িত্ব কে নিবে। আমাদের ভবিষৎ অন্ধকার। আমাদের রেজিষ্টেশন ফরম পুরণের সময় আমাদের বিষয়টি জানিয়ে দিলে আমাদের এ সর্বনাশ হতো না।
অভিভাবক সোহেল জানান, এ সুপারের গাফিলতির কারণে আমার বোনের এ অবস্থা, ফলাফল শুনার পর হতে সে মানষিক ভাবে ভেঙ্গে পড়েছে। বর্তমানে তাকে নিয়ে সারাদিন আতঙ্কে রয়েছে পরিবারের সদস্যরা। যে মানষিক অবস্থা তাতে যে কোন সময় অঘটন ঘটতে পারে তাই তার নিরাপত্তার কথা ভেবে সারাক্ষণ তাকে চোখের সামনে রাখতে হচ্ছে। রাত হলে চিন্তা আরো প্রকোট হয়। নিশ্চিন্তে কেউ ঘুমাতে পারছিনা।
এলাকাবাসী আরও অভিযোগ করেন, সুপার ইউসুফ আলী ক্লাসে তেমন সময় দেন না। সারাদিন চায়ের হোটেল, জমির দালালী আর রাজনীতির আলোচনা নিয়ে স্কুলের বাইরে সময় কাটান। শুধু মাত্র এমপিও বিল খাওয়ার জন্য প্রত্যহ হাজিরা খাতায় সই করেন। এছাড়া প্রতিষ্ঠানটিতে শিক্ষক প্রক্রিয়া নিয়োগেও শুভংকরের ফাকি রয়েছে।
উপরোক্ত বিষয়ে সুপার ইউসুফ আলী জানান, আমি শিক্ষার্থীদের আগে জানিয়ে দিয়েছি এ বিষয় তাদের দাখিল পরিক্ষায় অংশ নিতে হবে।
বোদা সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মশিউর রহমান মানিক জানান, এলাকার মানুষের অভিযোগ সুপারের বিরুদ্ধে। আর বিষয়টি উর্দ্ধতন কতৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। আমি আন্দোলন কারীদের সাথে একমত প্রকাশ করছি।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার সনিমুল্লাহ জানান, বিষয়টি আসলে দুঃখজনক। যাদের ফলাফল এরকম হয়েছে তারাই জানে এর যন্ত্রনা কি? এছাড়া সুপারের বিরুদ্ধে অভিযোগের তদন্ত করা হবে।

এই সংবাদটি 460 বার পঠিত হয়েছে

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ