এম,এ সাঈদ পঞ্চগড়ঃ
পঞ্চগড়জেলার দেবীগঞ্জে নবম শ্রেণির এক ছাত্রীকে যৌন হয়রানির দায়ে আজিজুল ইসলাম (৪৬) নামে এক শিক্ষককে উত্তম মাধ্যম দিয়ে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে স্থানীয়রা। সোমবার ওই শিক্ষককে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।
রোববার রাতে জেলার দেবীগঞ্জ উপজেলার ভাউলাগঞ্জ এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত শিক্ষক ভাউলাগঞ্জ আদর্শ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক।
মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, রোববার রাতে ভাউলাগঞ্জ আদর্শ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আজিজুল ইসলাম কোন কারণ ছাড়াই ভাউলাগঞ্জ সরকারপাড়া এলাকার একই স্কুলের নবম শ্রেণির ওই ছাত্রীর বাসায় যান। কক্ষে একা পেয়ে ওই ছাত্রীকে যৌন হয়রানি করেন ওই শিক্ষক। এ সময় ছাত্রীর চিৎকারে পরিবারের লোকজন এসে ওই শিক্ষককে হাতে নাতে আটক করে। পরে ওই শিক্ষককে উত্তম মাধ্যম দিয়ে চিলাহাটি ইউনিয়ন পরিষদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। স্থানীয়দের ক্ষোভের মুখে ইউপি চেয়ারম্যান কামাল মোস্তাহারুল হাসান নয়ন ওই শিক্ষককে পুলিশের হাতে তুলে দেন।
সোমবার ওই স্কুল ছাত্রীর বাবা দেবীগঞ্জ থানায় যৌন হয়রানির একটি মামলা দায়ের করেন। এ ঘটনায় ওই এলাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
এ বিষয়ে ভাউলাগঞ্জ আদর্শ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাহাবুদ্দিন জানান, ছাত্রীকে যৌন হয়রানি করায় বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটি ও শিক্ষকদের নিয়ে মিটিং করে ওই শিক্ষককে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে।
চিলাহাটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামাল মোস্তাহারুল হাসান নয়ন জানান, ওই শিক্ষক মূলত একজন লম্পট চরিত্রের মানুষ। এর আগেও সে একাধিকবার এরকম ঘটনা ঘটিয়েছে। আমি শালিসও করে দিয়েছি। তার আচরণ পরিবর্তন না হওয়ায় তাকে এবার থানায় সোপর্দ করেছি।
দেবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম জানান, ওই শিক্ষককে স্থানীয়রা আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। এ বিষয়ে দেবীগঞ্জ থানায় ওই ছাত্রীর বাবা যৌনহয়রানির একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার প্রেক্ষিতে আদালতের মাধ্যমে ওই শিক্ষককে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।
জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শঙ্কর কুমার ঘোষ জানান, এ বিষয়ে আমি কিছুই জানিনা। আমি খোঁজ খবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।