ঢাকা |
প্রকাশিত: ১:১০ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ৩০, ২০১৮
ফয়জুল হক শিমুলঃ সেপ্টেম্বর জুড়েই চলবে নির্বাচন নিয়ে সরকার দল সহ অন্যান্য দলগুলোর প্রচার প্রচারণা ও জোট গঠনে ভিন্ন প্রক্রিয়া। শীর্ষ দলগুলোর সিনিয়র নেতাদের বক্তব্য অনুযায়ী এ আভাস পাওয়া যাচ্ছে । কৌশলের অংশ হিসেবে ভোটে বড় দলগুলোর অংশগ্রহণের ওপর নির্ভর করবে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে জোট বা মহাজোট গঠনের বিষয়। বিএনপি নির্বাচনে অংশ নিলে মহাজোট নিয়ে অগ্রসর হবে ক্ষমতাসীনরা। আর না নিলে হিসাব হবে অন্যরকম। বাম এবং ইসলামী ঘরানার দলগুলোর সঙ্গেও ক্ষমতাসীনদের ঐক্য হতে পারে। অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য নেয়া হবে নানা ধরনের পদক্ষেপ। বোঝাপড়ার মাধ্যমে এসব দল আওয়ামী লীগের কাছে ‘নির্বাচনী’ ছাড়ও পেতে পারে। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের গণমাধ্যমকে বলেন, আগামী নির্বাচন প্রশ্নে অনেক দলের সঙ্গেই আলোচনা হচ্ছে। আরও অনেকের সঙ্গে হবে। এদের কেউ জোটে আসবে, কেউ আসবে না। আমরা আশা করি নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হবে। আসন্ন নির্বাচনে বিএনপি যদি অংশ নেয় তবে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন জোটের আকার যতটা সম্ভব বড় করার কৌশল নেবে ক্ষমতাসীনরা এমন আভাস পাওয়া গেছে। নির্ভরযোগ্য সূত্রে প্রকাশঃ জাতীয় পার্টি, ১৪ দলের সব শরিকসহ আরও বেশ কয়েকটি দলের সমন্বয়ে গড়ে উঠবে মহাজোট। আর বিএনপি ভোটে না এলে আওয়ামী লীগ শুধু ১৪ দলগতভাবে নির্বাচন করবে। জাতীয় পার্টির নেতৃত্বে একটি জোট তৈরী হবে এবং অন্যান্য দল আলাদাভাবে নির্বাচন করবে। ছোট ছোট দল নির্বাচনে অংশ নেয়ার বিষয়ে উৎসাহ দেয়া হবে। বিএনপি নির্বাচনে এলে জোটের হিসাব পাল্টে যাবে বলে জানান আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ১৪ দলের মুখপাত্র মোহাম্মদ নাসিম। তিনি বলেন জোটের পরিধি বাড়বে তবে সেটা নির্বাচনের আগ মুহূর্তে। খবর দৈনিক যুগান্তরের। তিনি আরও বলেন, এই মুহূর্তে আমাদের দু’ভাবে নির্বাচনী প্রস্তুতি আছে। বিএনপি নির্বাচনে এলে জাতীয় পার্টিসহ একটি বৃহৎ জোট গঠন করব। এখানে জোটের বাইরে আলোচনা চলছে এমন দলও থাকবে। আর বিএনপি শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে না এলে আওয়ামী লীগ ১৪ দলীয় জোটের ব্যানারে নির্বাচনে অংশ নেবে। জাতীয় পার্টির নেতৃত্বে আরেকটি জোট পৃথকভাবে নির্বাচন করবে। একাদশ জাতীয় নির্বাচন সবার অংশগ্রহণেই হবে বলেও আত্মবিশ্বাস ব্যক্ত করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম। দুই জোটের বাইরে ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে গঠিত জোটকেও কাছে টানতে নানা কৌশল নেয়া হচ্ছে।
পাশাপাশি ইসলামিক ফ্রন্ট, তৃণমূল বিএনপি এবং ইসলামভিত্তিক সাতটি দলের একটি জোট আলাদাভাবে নির্বাচনে অংশ নেবে। সব মিলে আগামী নির্বাচনে বিএনপি না এলে যত বেশি সম্ভব দলের অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় যাওয়ার সব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার প্রস্তুতিই থাকছে ক্ষমতাসীনদের। বিএনপিবিহীন নির্বাচনে অংশ নিতে ছোট ছোট অনেক দলকে নানাভাবে উৎসাহিত করা হবে।
বসে নেই মাঠের বিরোধী দল বিএনপিও। নির্বাচন সামনে রেখে তারাও শুরু করেছে নানা হিসাব-নিকাশ। সরকারবিরোধী দলগুলো নিয়ে বৃহত্তর ঐক্য গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছেন দলটির নেতারা। আপাতত দলটির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি ছাড়া তারা নির্বাচনে যাবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে। তবে খালেদা জিয়া কারাগারে থাকলেও ভেতরে ভেতরে তারা জোটবদ্ধভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রস্তুতি নিয়ে রাখছে। বিএনপি ও তাদের জোট গঠনে কাজ করে যাচ্ছে বলে দলের একাধিক সূত্র জানিয়েছে। তবে শেষ পর্যস্ত বিএনপি , জামাত সহ ২০ দলীয় জোট কোন পথে মোাড় নিচ্ছে নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করছে কিনা সে বিষয়টি স্পস্ট নয়। বিএনপি ও জাময়াতের একাধিক সূত্র থেকে জানা গেছে তারা নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করছে এবং সংসদ নির্বাচনে তাদের জোট বরাবরের মতো ভীত মজবুত রয়েছে সুষ্টু নির্বাচন হলে তারা আবার ক্ষমতার মসনদে আসীন হচ্ছে । বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্ঠা ও নিখোঁজ বিএনপি নেতা এম. ইলিয়াস আলীর সহধর্মীনি তাহসিনা রুশদীর লুনা বলেছেন, বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ছাড়া বিএনপি অন্য কিছু ভাবছে না। তবে বিএনপি যদি নির্বাচনে আসে আর আমাকে দলীয় মনোনয়ন প্রদান করে, তবে তৃণমূলের নেতাকর্মীকে সাথে নিয়ে কাজ করে ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করব। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিএনপির আগামী নির্বাচনে অংশ নেয়া না-নেয়ায় বদলে যাবে ভোটের হিসাব-নিকাশ। দলটি নির্বাচনে অংশ নিলে এক ধরনের দৃশ্যপট মঞ্চস্থ হবে। নির্বাচন বর্জন করলে দেখা যাবে আরেক ধরনের দৃশ্যপট। এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য কর্নেল (অব.) ফারুক খান বলেন, ‘কে এলো কে এলো না তার জন্য নির্বাচন থেমে থাকবে না। আমরা নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য পুরোদমে প্রস্তুতি শুরু করেছি। বিএনপিরও উচিত সময়ক্ষেপণ না করে ভোটের প্রস্তুতি শুরু করা।’তিনি আরও বলেন, ‘বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কারাগারে যাওয়ার সঙ্গে সরকারের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তিনি দুর্নীতি করেছেন। আদালতে তা প্রমাণিত হয়েছে। আর তাই দ-প্রাপ্ত হয়ে কারাগারে গেছেন। এখানে সরকারের কিছুই করার নেই। সরকার চাইলেই তাকে মুক্তি দিতে পারে না। মুক্তি চাইলে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই চাইতে হবে। এর সঙ্গে ভোটে অংশগ্রহণ করা না-করার কোনো সম্পর্ক নেই। কর্নেল (অব.) ফারুক খান বলেন, বিএনপি নির্বাচনে না এলে নিজেরাই দল হিসেবে হারিয়ে যাবে। তাই তারা অস্তিত্ব রক্ষার স্বার্থেই আগামী নির্বাচনে অংশ নেবে বলে আমি মনে করি।
এ প্রসঙ্গে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘আমাদের অবস্থান পরিষ্কার। চেয়ারপারসনকে (খালেদা জিয়া) কারাগারে রেখে আমরা নির্বাচনে যাব না। ২০ দলীয় জোটের শরিরকরা যাবে না।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের নির্বাচনের শতভাগ প্রস্তুতি আছে। জনসমর্থনও আমাদের পক্ষে। কিন্তু চেয়ারপারসনকে জেলে রেখে আমরা নির্বাচনে যাব না। এখানে আমরা অনড়।’ খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, বিএনপি খালেদা জিয়াকে নিয়েই নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনে যাবে। বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের অন্যতম শরিক দল লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) মহাসচিব রেদোয়ান আহমেদও একই কথা বলেন। তিনি বলেন, খালেদা জিয়া আমাদের জোটের নেত্রী। তাকে কারাগারে রেখে আমরা নির্বাচনে যাব না।
এদিকে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা না-করার বিষয়ে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের অবস্থান এখনও ধোঁয়াশে। নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার ও খালেদা জিয়ার মুক্তি ছাড়া বিএনপি নির্বাচনে যাবে না- দলের দায়িত্বশীল নেতাদের কেউ কেউ মাঝেমধ্যে এমন অবস্থানের কথা বললেও পরক্ষণেই আবার বলছেন এবার আর একতরফা নির্বাচন হতে দেয়া হবে না।
যদিও বিএনপি শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে অংশ নেবে বলে মনে করেন আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের অন্যতম শরিক ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা এমপি। তিনি বলেন, ‘বিএনপি তাদের অস্তিত্ব রক্ষার স্বার্থেই নির্বাচনে অংশ নেবে। অতএব, এ নিয়ে এত দুশ্চিন্তার কিছু নেই। সংশ্লিষ্টদের মতে, বিএনপি আগামী নির্বাচনে অংশ নেবে এমনটা ধরেই ভোটের মেরুকরণ শুরু করেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ, প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টিসহ অধিকাংশ রাজনৈতিক দল। ক্ষমতাসীন দলের দায়িত্বশীল নেতারাও বারবার বলছেন, আগামী নির্বাচন হবে অংশগ্রহণমূলক ও প্রতিযোগিতাপূর্ণ। এমনটা ধরে নিয়েই তারা রণকৌশল চূড়ান্ত করছেন। সূত্রে জানা গেছে, আগামী নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপি প্রস্তুতিও শুরু করেছে। দলীয় মনোনয়ন, ইশতেহার তৈরিসহ প্রাথমিক কাজ তারা অনেক আগেই শুরু করেছে। এবার সবার অংশগ্রহণে একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে চায় দলটি। সেই নির্বাচনে ক্ষমতাসীনদের বিরুদ্ধে একটা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেয়ার চিন্তাভাবনাও রয়েছে। এ লক্ষ্যে নজর দেয়া হয়েছে বৃহত্তর ঐক্যের দিকে। সরকারবিরোধী নানা ইস্যুতে এক প্লাটফর্মে আসার কথা বলা হলেও তাদের মূল লক্ষ্য নির্বাচন। বৃহত্তর ঐক্য হলে সেটা নির্বাচনী ঐক্যে রূপ নেবে।
রেজিঃ নং চ-৭৩৫
সম্পাদক ও প্রকাশক: এম.ফয়জুল হক শিমুল
সহ: সম্পাদক : হাবিবুর রহমান সুলতান
সহ: সম্পাদক : নুরুল হক মাসুদ
সম্পাদক ও প্রকাশক কর্তৃক নিউ বর্ণমালা অফসেট প্রিন্টিং প্রেস, রাজা ম্যানশন জিন্দাবাজার, সিলেট থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত।

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: * সি-৮/৩০ বনশ্রী ঢাকা।
সিলেট অফিস: কমন মার্কেট (৫ম তলা ) বন্দর বাজার, সিলেট।
বিয়ানীবাজার অফিস: ছফর কমপ্লেক্স, দক্ষিণ বিয়ানীবাজার, সিলেট।
যোগাযোগ মোবাইলঃ +88-01713813124
ই-মেইল ॥ somoychitro@gmail.com
বড়লেখা অফিস: নেহার মার্কেট, ( ২য় তলা), বড়লেখা, মৌলভীবাজার।