ঢাকা |
প্রকাশিত: ৬:১২ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ৩১, ২০১৮
‘কর্তার গাই, কেতাবে আছে; গোয়ালে নাই’- এমন একটি কথা ছোটবেলায় পড়েছিলাম, যা জীবন চলার পথে এসে উপলব্ধি করলাম।
আমাদের দেশে এমন কিছু প্রতিষ্ঠান আছে, যেগুলো কেবল নামেমাত্র; কাজের বেলায় ঠনঠনা।
এমনই একটি প্রতিষ্ঠান হচ্ছে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)।
২০০৫ সালে একটি সঠিক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য গঠন করা হয়েছিল প্রতিষ্ঠানটি। কিন্তু সাফল্যের দ্বারে পৌঁছতে পারেনি।
ইতিমধ্যে সীমাহীন দুর্নীতি ও জাল সনদ বিক্রিসহ বিভিন্ন কারণে প্রতিষ্ঠানটি অনেক দুর্নাম কুড়িয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটি সঠিকভাবে কাজ করলে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো মুখ থুবড়ে পড়ত না। দেশের প্রায় প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে।
এর ফলে নিয়মিত শিক্ষাদান ব্যাহত হচ্ছে।
শিক্ষকের অভাব হলে ছাত্রছাত্রীদের পড়াশোনা কোনোভাবেই সঠিকভাবে চলতে পারে না। অথচ দেশে কয়েক লাখ নিবন্ধনধারী বেকার জীবনযাপন করছে। শেষ আশা হিসেবে অনেকেই স্বপ্ন দেখেছিলেন শিক্ষক হওয়ার।
কিন্তু সে আশা কি আদৌ পূরণ হবে?
২০১৫ সালের ২২ অক্টোবর হতে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়োগ বন্ধ রয়েছে। ২০১৬ সালে গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে মাত্র কয়েক হাজার নিবন্ধিতকে নিয়োগ দেয়া হয়েছিল, যেখানে ছিল হ-য-ব-র-ল অবস্থা।
বর্তমান যুগকে ডিজিটাল যুগ হিসেবে ধরা হচ্ছে, অথচ কম্পিউটার (আইসিটি) শিক্ষক নিবন্ধিতরা নিয়মানুযায়ী আবেদন করার পর গত তিন বছরেও ফলাফল প্রকাশিত হয়নি। তারা কর্তৃপক্ষের দ্বারে দ্বারে ঘুরে ফল না পেয়ে আদালতে রিট করেছে।
আদালত তাদের পক্ষে রায় দিলেও কর্তৃপক্ষ অজানা কারণে তাদের নিয়োগ দিচ্ছে না। বেকারদের বোবাকান্না দেখার যেন কেউ নেই।
চূড়ান্তভাবে প্রিলিমিনারি, লিখিত ও ভাইভা পাস করেও নিয়োগ হয় না- এমন ঘটনা বিরল।
কিন্তু ত্রয়োদশ নিবন্ধনধারীদের কপালে এমনটিই ঘটেছে। গেজেট ও পরিপত্র অনুযায়ী শূন্যপদে ত্রয়োদশ নিবন্ধনধারীদের এখনও নিয়োগ দেয়া হয়নি।
ভাইভা পরীক্ষায় পাস করার পর তাদের বাবা-মা ও আত্মীয়স্বজন অনেক খুশি হয়েছিল। কিন্তু আজ তারা হতাশায় নিমজ্জিত হচ্ছে।
১ থেকে ১২তম শিক্ষক নিবন্ধিতরা নিয়োগের আশায় আদালতে প্রায় ২০০ রিট দায়ের করেন। ২০১৭ সালের ১৪ ডিসেম্বর ১৬৬টি রিটের রায় দেয় আদালত, যেখানে নির্দেশনা ছিল- ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয়ভাবে মেধা তালিকা করে নিয়োগ দেয়ার জন্য।
কিন্তু দিন যায়, মাস যায়; নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি আর আসে না। আর কত দেরি, আর কত গড়িমসি করবে এনটিআরসিএ? শিক্ষা মন্ত্রণালয় কেন কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না?
এমন হাজারও প্রশ্ন বেকার শিক্ষক নিবন্ধিতদের মাথায় বারবার ঘোরপাক খাচ্ছে।
দ্রুত গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে মেধাবী নিবন্ধিতদের নিয়োগ দেয়া হলে শিক্ষাক্ষেত্রে আসবে সাফল্যের বন্যা, এমনটাই মনে করি আমরা।
সহকারী শিক্ষক
মমিনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ধনবাড়ী, টাঙ্গাইল
রেজিঃ নং চ-৭৩৫
সম্পাদক ও প্রকাশক: এম.ফয়জুল হক শিমুল
সহ: সম্পাদক : হাবিবুর রহমান সুলতান
সহ: সম্পাদক : নুরুল হক মাসুদ
সম্পাদক ও প্রকাশক কর্তৃক নিউ বর্ণমালা অফসেট প্রিন্টিং প্রেস, রাজা ম্যানশন জিন্দাবাজার, সিলেট থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত।

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: * সি-৮/৩০ বনশ্রী ঢাকা।
সিলেট অফিস: কমন মার্কেট (৫ম তলা ) বন্দর বাজার, সিলেট।
বিয়ানীবাজার অফিস: ছফর কমপ্লেক্স, দক্ষিণ বিয়ানীবাজার, সিলেট।
যোগাযোগ মোবাইলঃ +88-01713813124
ই-মেইল ॥ somoychitro@gmail.com
বড়লেখা অফিস: নেহার মার্কেট, ( ২য় তলা), বড়লেখা, মৌলভীবাজার।