ঢাকা |
প্রকাশিত: ১১:৫১ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ১, ২০১৬
সোহান আহমদ : মৌলভীবাজার জেলার সবচেয়ে বেশী কমলা চাষ হতো জুড়ী উপজেলায়। এখানকার কমলা চাষীদের প্রশিক্ষণ থাকা সত্ত্বেও আর্থিক অনটন, আধুনিক যন্ত্রপাতির অভাব এবং মৌসুম শুরুর আগেই বিদেশী কমলা আমদানীর ফলে কমলা চাষিরা ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন। উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নের প্রত্যন্ত অঞ্চলে এখন কমলা চাষ হচ্ছে। বিশেষ করে জেলা শহর থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার দুরে গোয়ালবাড়ী ইউনিয়নের ভারতীয় সীমান্তবর্তী হায়াছড়া, শুকনাছড়া, লালছড়া, কচুরগুল, লাঠিটিলা, দিলকুশ গ্রামগুলোতে ব্যাপক ভিত্তিতে কমলা চাষ হয়। কমলার অতীত ঐতিহ্য রক্ষা ও দেশের চাহিদা পুরনে ২০০১ সালে বৃহত্তর সিলেট জেলায় কমলা ও আনারস উন্নয়নসহ সমন্বিত কৃষি উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহন করা হয়। মৌলভীবাজার কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তর এর মাধ্যমে হায়াছড়া ও কচুরগুল এলাকায় ৬৯ হেক্টর জমি নিয়ে এ প্রকল্পের যাত্রা শুরু হয়। প্রকল্পের উদ্যান উন্নয়ন কর্মকর্তা কৃষকদের পাশে দাঁড়ান।
তাঁরা নতুন করে আশায় বুক বাঁধে। কৃষি অধিদপ্তরের কমলা প্রজেক্ট থেকে চাষিদের প্রশিক্ষণ দেয়া শুরু হয়। প্রশিক্ষণ নিয়েই চাষীরা কমলা চাষে মনোযোগী হন।প্রশিক্ষণের পাশাপাশি চাষিদের বিনামূল্যে চারা ও সার দেওয়া হলে তাঁদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি হয়। এ পর্যন্ত জুড়ী উপজেলায় ৮০হেক্টর জমিতে প্রায় ৪১৫টি কমলা বাগান সৃজন হয়েছে। ২০০৫ সালে উক্ত প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হলে চাষিদের চাহিদা ও দাবিতে প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধি করে ২০০৮ সালের জুন পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়। এর পর সেটি বন্ধ হয়ে যায়।

দীর্ঘ দিন কমলা উন্নয়ন প্রকল্পের কার্যক্রম বন্ধ থাকার বিপাকে পড়েছেন জুড়ীর কমলা চাষিরা। পরামর্শ ও সহযোগিতা না পাওয়ায় নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে কমে গেছে কমলা উৎপাদন। এসব কারণে ক্ষতির মুখে পড়ে বাগান কেটে ফেলারও সিদ্ধান্ত নিয়েছেন চাষিরা। প্রকল্পের সফলতা পাওয়ার প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ায় বন্ধ হয়ে যায় প্রকল্পের সব কার্যক্রম। এর পাশাপাশি প্রকল্পের কর্মকর্তা-কর্মচারীও বদলি করা হয় অন্যত্র-যাওয়া ফলে প্রয়োজনীয় পরামর্শ না পেয়ে বিপাকে পড়েছেন কমলা চাষিরা। ফলনে পচন আর পাতা মোড়ানো রোগে আক্রান্ত হয়ে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে বাগানগুলো। প্রয়োজনীয় পরামর্শ কৃষিবিভাগের কাছে পাচ্ছেনা বলে অভিযোগ চাষিদের। তাই লোকসানের মুখে পড়ে বাগান কেটে ফেলারও সিদ্ধান্ত নিয়েছেন অনেকে।
উপজেলার জুড়ীর উওর কুচাইতল গ্রামের কমলা চাষি মানিক মিয়াও আব্দুল গণি জানান, কমলা গাছের পাতা কুকড়ে যাচ্ছে, লাল হয়ে পাতা পড়ে যাচ্ছে। গতবারের চেয়ে এবার ফলনও কম এসেছে। কি রোগে আক্রান্ত হয়ে এমন অবস্থা তা জানা যাচ্ছেনা? তারা আরও বলেন, ‘এভাবে চলতে থাকলে আগামী বছরের আগেই এ বাগান কেটে অন্য ফসলের আবাদ করতে হবে।’ উন্নত মানের কমলা বাণিজ্যিক ভাবে উৎপাদনে প্রকল্পটি পুনরায় চালুসহ জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় উদ্যাগ গ্রহণ করাল জোড় দাবি জুড়ী উপজেলার কমলা চাষিদের।
রেজিঃ নং চ-৭৩৫
সম্পাদক ও প্রকাশক: এম.ফয়জুল হক শিমুল
সহ: সম্পাদক : হাবিবুর রহমান সুলতান
সহ: সম্পাদক : নুরুল হক মাসুদ
সম্পাদক ও প্রকাশক কর্তৃক নিউ বর্ণমালা অফসেট প্রিন্টিং প্রেস, রাজা ম্যানশন জিন্দাবাজার, সিলেট থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত।

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: * সি-৮/৩০ বনশ্রী ঢাকা।
সিলেট অফিস: কমন মার্কেট (৫ম তলা ) বন্দর বাজার, সিলেট।
বিয়ানীবাজার অফিস: ছফর কমপ্লেক্স, দক্ষিণ বিয়ানীবাজার, সিলেট।
যোগাযোগ মোবাইলঃ +88-01713813124
ই-মেইল ॥ somoychitro@gmail.com
বড়লেখা অফিস: নেহার মার্কেট, ( ২য় তলা), বড়লেখা, মৌলভীবাজার।