ঢাকা কলেজে ছাত্রলীগের সংঘর্ষের পর অভিযানে পুলিশ

প্রকাশিত: ১:৪৫ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২১, ২০১৭

ঢাকা কলেজে ছাত্রলীগের সংঘর্ষের পর অভিযানে পুলিশ

কলেজ ছাত্রলীগের আহ্বায়ক নূরে আলম ভূঁইয়া রাজুর নেতৃত্বে শনিবার সন্ধ্যা য় একযোগে পাঁচটি হলে হামলা হয় বলে অভিযোগ প্রতিপক্ষের। এ সময় গুলিবর্ষণের ঘটনাও ঘটে বলে প্রত্যতক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।

সংঘর্ষে কলেজ ছাত্রলীগের এক যুগ্ম আহ্বায়কসহ সংগঠনটির অন্তত ১০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

সংঘর্ষের পর পুরো কলেজে পুলিশ তল্লাশি চালাচ্ছে বলে নিউমার্কেট থানার ওসি আতিকুর রহমান জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, “কারা অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটিয়েছে তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।”

কলেজ ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. হিরন ভূঁইয়া  বলেন, ছাত্রলীগের পুনর্মিলনী উপলক্ষে কলেজ শাখার অপর দুই যুগ্ম আহ্বায়ক রাসেল মাহমুদ ও হুমায়ূন কবির রানাসহ তিনি সন্ধ্যার দিকে কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে দেখা করতে যান।

“তখন জানতে পারি কলেজ ছাত্রলীগের আহ্বায়ক নূরে আলম ভূঁইয়া রাজু বহিরাগত ২০ থেকে ২৫ জনকে নিয়ে পাঁচটি হলে আক্রমণ করেছে। তারা এই সময় নর্থ হলের আরেক যুগ্ম আহ্বায়ক শেখ রাসেলকে ঘুমন্ত অবস্থায় পিটিয়ে ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে আহত করেছে।”

এ সময় গুলির শব্দে শিক্ষার্থীদের মধ্যে  আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঢাকা কলেজের এক শিক্ষার্থী জানান।

তিনি বলেন, “সংঘর্ষের সময় বেশ কয়েকটি মটরসাইকেলে আগুন দেওয়া হয়। অনেকেই তাৎক্ষণিকভাবে হল ছেড়ে চলে গেছেন।”

হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে কলেজ ছাত্রলীগ আহ্বায়ক রাজু  বলেন, “ঘটনার সময় আমি কলেজেই ছিলাম না। সাধারণ কিছু ছাত্রের মধ্যে ঝামেলা হয়েছে।

“আমি প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছি।”

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ছাত্রলীগের এক নেতা  বলেন, কয়েকদিন আগে নূরে আলম ভূঁইয়া রাজুকে আহ্বায়ক এবং ৩৫ জনকে যুগ্ম আহ্বায়ক করে ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগের কমিটি হয়।

“কলেজের পাঁচটি হলের নিয়ন্ত্রণ ছয়জন যুগ্ম আহ্বায়কের হাতে থাকায় রাজু অনেকটাই কোণঠাসা ছিলেন।”

ওই ছয় যুগ্ম আহ্বায়ক হলেন- হিরন ভূঁইয়া, রাসেল মাহমুদ, হুমায়ূন কবির রানা, শেখ রাসেল, সুলতান মাহমুদ ও ইমরুল হাসান লেনিন।

পুলিশের তল্লাশির সময় ছয় যুগ্ম আহ্বায়কই হলের বাইরে অবস্থান করছিলেন।

“কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের নেতারা পুলিশের সহায়তা নিয়ে আমাদের হলে উঠতে বলেছেন। হলে এখন পুলিশের তল্লাশি চলছে। আমরা হলে ওঠার জন্য অপেক্ষায় আছি,” বলেন হিরন ভূইয়া।

এ বিষয়ে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয়য়্ সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ  বলেন, “শুনেছি বহিরাগত কিছু সন্ত্রাসী কলেজে প্রবেশ করে সাধারণ শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের উপর হামলা করেছে।”

ঘটনাটি খতিয়ে দেখতে তাৎক্ষণিকভাবে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি কাজী এনায়েত হোসেনকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে বলে জানান তিনি।

“সংঘর্ষে ছাত্রলীগের কেউ জড়িত থাকলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে,” বলেন ছাত্রলীগ সভাপতি।

রাত ১০টার দিকেও সেখানে অভিযান চলছিল বলে জানান পুলিশের রমনা বিভাগের উপ-কমিশনার মারুফ হোসেন সরদার।

এই সংবাদটি 474 বার পঠিত হয়েছে

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ