জিয়ার মাজারে নেতাকর্মীদের ঢল গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার পুনরুদ্ধারের শপথ নিয়েছে বিএনপি-মির্জা ফখরুল

প্রকাশিত: ৪:০৬ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২, ২০১৬

জিয়ার মাজারে নেতাকর্মীদের ঢল গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার পুনরুদ্ধারের শপথ নিয়েছে বিএনপি-মির্জা ফখরুল

স্টাফ রিপোর্টার : দলের চেয়ারপার্সনের বিরুদ্ধে মামলা, নেতাকর্মীদের গণহারে গ্রেফতার, সভা-সমাবেশের অনুমতি না পাওয়াসহ সরকারি দলের অব্যাহত বাধা সত্ত্বেও রাজধানী ঢাকাসহ দেশব্যাপী বর্ণাঢ্য আয়োজনে পালিত হয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির ৩৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন, আনন্দ র‌্যালি, শোভাযাত্রা, পুষ্পস্তবক অর্পণ, আলোকচিত্র প্রদর্শনী, রক্তদান, দোয়া মাহফিলসহ নানা আয়োজনে দিনটি পালন করেছে বিএনপিসহ দলটির অঙ্গসংগঠনগুলো। বিএনপি ৩৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ৬টায় রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। ভবনটি আলোকসজ্জিতও করা হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে দলের পক্ষ থেকে বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করা হয়েছে। ক্ষমতাসীন আওয়ামী সরকারের নির্মম নির্যাতনের পাশাপাশি শত বাধা উপেক্ষা করে হারানো গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের শপথের মধ্য দিয়ে বিএনপি তাদের ৩৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করেছে। দলটির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মাজারে পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, স্বাধীনতার ৪৪ বছর পরও দেশে গণতন্ত্র এখন অনুপস্থিত। তিনি বলেছেন, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে আমরা গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের শপথ নিয়েছি। আমরা আশা করি বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে আমরা গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হবো।
গতকাল বেলা সাড়ে ১১টার দিকে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের মাজারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন বিএনপির চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। বেলা সোয়া এগারোটার পর চন্দ্রিমা উদ্যানে জিয়ার মাজারে দলের নেতা-কর্মীদের নিয়ে তিনি এই শ্রদ্ধা জানান। মাজারে বেগম খালেদা জিয়া ফাতেহা পাঠ করেন। পরে তার রূহের মাগফিরাত কামনা করে মোনাজাতে অংশ নেন তিনি। খালেদা জিয়া যখন আসেন তখন সেখানে নেতা-কর্মীদের ঢল নামে। দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিনে দেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য অঙ্গীকারের ঘোষণা দেন নেতা-কর্মীরা। সংক্ষিপ্ত দোয়া ও মোনাজাতের পর খালেদা জিয়া তার গাড়ি যোগে বাসার উদ্দেশে রওয়ানা হন। পরে দলের অন্যান্য অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলো জিয়াউর রহমানের মাজারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করে। তারা জিয়াউর রহমান, খালেদা জিয়া, তারেক রহমান ও নিজ নিজ এলাকার নেতাদের ছবি সংবলিত ব্যানার ও ফেস্টুন নিয়ে অবস্থান নেন।
এ সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অভিযোগ করেন, দেশে গণতন্ত্র একেবারেই অনুপস্থিত। সরকার জনগণের অধিকারগুলো খর্ব করছে। অন্যদিকে বিরোধী দলের ওপর নির্যাতন নিপীড়নের স্টিম রোলার চালিয়ে বিএনপিকে নির্মূল করার ষড়যন্ত্র করছে। কিন্তু সরকার জানে না এ ষড়যন্ত্রে কোনো কাজ হবে না। জনগণকে সাথে নিয়ে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে অবশ্যই গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার আন্দোলন সফল হবে।
মহাসচিব বলেন, ৭৫ সালে একদলীয় শাসনের কারণে দেশে রাজনৈতিক শূন্যতা তৈরি হয়েছিলো। সেই রাজনৈতিক শূন্যতার সময়ে জিয়াউর রহমান দূরদর্শিতার পরিচয় দিয়ে দলগঠন করেছেন। স্বাধীনতার এতবছর পরও এখনো গণতন্ত্র সুপ্রতিষ্ঠিত হয়নি। তবে এসময় তিনি সাংবাদিকদের কোনো প্রশ্ন নেননি।
মির্জা ফখরুল বলেন, স্বৈরাচারী শাসকেরা জনগণের অধিকার হরণ করেছে। তারা বিরোধী রাজনৈতিক দল বিশেষ করে বিএনপির ওপরে নির্যাতনের স্টিম রোলার চালিয়ে এই দলকে নির্মূল করে দিতে চায়। আমরা বলতে চাই, বিএনপি জনগণের সমর্থিত রাজনৈতিক দল, সেই কারণে বিএনপি কখনোই পরাজিত হবে না। বিএনপি প্রতিবারই বিভিন্ন বাধা উপেক্ষা করে প্রতিকূল অবস্থার মধ্য দিয়ে ঘুরে দাঁড়িয়েছে। এবারো ইনশাল্লাহ দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে জনগণের সক্রিয় সহযোগিতায় আমরা অবশ্যই গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হবে। এই হচ্ছে এবারের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে শহীদ জিয়ার মাজারে আমাদের শপথ।
জিয়াউর রহমানের কবরে ফুল দেয়ার সময় খালেদা জিয়ার সঙ্গে মির্জা ফখরুল ছাড়াও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার, আসম হান্নান শাহ, মির্জা আব্বাস, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান বেগম সেলিমা রহমান, মোহাম্মদ শাহজাহান, রুহুল আলম চৌধুরী, ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, আহমেদ আজম খান, গিয়াসউদ্দিন কাদের চৌধুরী, চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান, জয়নুল আবদীন ফারুক, গাজী মাজহারুল আনোয়ার, কবির মুরাদ, কেন্দ্রীয় নেতা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবীর খোকন, ফজলুল হক মিলন, সানাউল্লাহ মিয়া, মাসুদ আহমেদ তালুকদারসহ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সহযোগী সংগঠনগুলোর মধ্যে ছিলেন, মীর সরফত আলী সপু, সাইফুল আলম নিরব, নুরী আরা সাফা, শিরিন সুলতানা, হাফেজ আবদুল মালেক ও রফিকুল ইসলাম মাহতাব। নেতা-কর্মীরা ‘শুভ শুভ জন্মদিন, বিএনপির জন্মদিন’, লও লও লও সালাম, জিয়া তুমি লও সালাম’ ইত্যাদি স্লোগান দেয়।
উল্লেখ্য, ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকাকালে জিয়াউর রহমান বিভিন্ন রাজনৈতিক মত ও পথের অনুসারীদের এক মঞ্চে এনে বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রামে এক ব্যর্থ সামরিক অভ্যুত্থানে জিয়াউর রহমান শহীদ হলেও তার প্রতিষ্ঠিত দলটি এখনও দেশের প্রধান দুটি দলের একটি।

এই সংবাদটি 718 বার পঠিত হয়েছে

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ