ছুটি চাওয়ায় সহকারি শিক্ষককে মেরে হাসতাপাতেল পাঠালেন প্রধান শিক্ষক

প্রকাশিত: ১১:৫১ অপরাহ্ণ, মার্চ ১১, ২০১৭

ছুটি চাওয়ায় সহকারি শিক্ষককে মেরে হাসতাপাতেল পাঠালেন প্রধান শিক্ষক

রাজশাহী বিভাগীয় চীফ :
নওগাঁর পোরশা উপজেলার কড়িদহ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কাঞ্চন চন্দ্র দেবনাথের বিরুদ্ধে সহকারি প্রধান শিক্ষককে মারপিটের অভিযোগ উঠেছে। আহত শিক্ষক সেকান্দার আলী (৫০) পোরশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি রয়েছেন। প্রধান শিক্ষক কাঞ্চন চন্দ্র দেবনাথ ওই শিক্ষককে মারার অভিযোগ স্বীকার করেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানাযায়, বুধবার দুপুরে ওই বিদ্যালয়ে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরষ্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত হয়। পুরষ্কার বিতরণী শেষে দুপুরে বিদ্যালয়টির হল রুমে স্টাফ ও ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা শুরু হয়। ওই সভায় বিদ্যালয়ের সহকারি প্রধান শিক্ষক সেকান্দার আলী প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ঐচ্ছিক ছুটি না দেওয়ার অভিযোগ করেন। বিষয়টি নিয়ে প্রধান শিক্ষক কাঞ্চন চন্দ্র দেবনাথের সঙ্গে ওই শিক্ষকের কথা কাটাকাটি শুরু হয়।
কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে প্রধান শিক্ষক সেকান্দার আলীকে লক্ষ্য করে চেয়ার ছুঁড়ে মারলে তিনি পড়ে যান। পরে প্রধান শিক্ষক স্ট্যাপলার মেশিন দিয়ে সেকান্দারের মাথায় উপর্যুপরি আঘাত করলে তিনি অজ্ঞান হয়ে পড়েন। তাৎক্ষণিকভাবে অন্যান্য শিক্ষক ও স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে পোরশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করান।
বুধবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে সেকান্দার আলীর মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তার শ্যালক রেজাউল করিম ফোনটি ধরেন। তিনি জানান, সন্ধ্যা পর্যন্ত সেকান্দারের জ্ঞান ফেরেনি। তিনি অভিযোগ করেন, প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয়ে প্রায় সময়ই সেকান্দার আলীর সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করতেন। ছুটি চাইতে গেলে ছুটি দিতেন না। একটু দেরীতে বিদ্যালয়ে গেলে অপমান করতেন, শাস্তি দিতেন। এসব বিষয় নিয়ে ঘটনার দিন ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় অভিযোগ করতে গেলে প্রধান শিক্ষক তার ওপর ক্ষীপ্ত হয়ে মারপিট করেন। এ ব্যাপারে থানায় মামলা দায়ের প্রস্তুতি চলছে।
বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি শহিদুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, বিদ্যালয়ে ঘটে যাওয়া এই অপ্রীতিকর ঘটনা সম্পর্কে ব্যবস্থাপনা কমিটির পক্ষ থেকে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে লিখিতভাবে জানানো হবে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক কাঞ্চন চন্দ্র দেবনাথ বলেন, সভা চলা অবস্থায় উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার নির্দেশ অনুসারে আমি বিদ্যালয়ের সকল স্টাফকে বিদ্যালয়ের সময়সূচি মেনে চলতে বলি। এতে সহকারি প্রধান শিক্ষক সেকান্দার আলী এই নির্দেশ মানবেন না জানায়। বিষয়টি কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে তিনি উদ্ধত হয়ে আমাকে মারতে আসেন। এক পর্যায়ে উপায়ান্তর না পেয়ে আমি স্টাপলার মেশিন দিয়ে তার মাথায় আঘাত করি। এতে তার কপালের অল্প একটু অংশ কেটে গিয়ে রক্তপাত হয় মাত্র।
পোরশা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোসাব্বেরুল হক বলেন, বিষয়টি নিয়ে মৌখিকভাবে একটা অভিযোগ পেয়েছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ব্যাপারে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মুসহাক আলী বলেন, বিষয়টি জেনেছি। এ ব্যাপারে বিভাগীয় তদন্ত করা হবে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এই সংবাদটি 713 বার পঠিত হয়েছে

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ