চিরচেনা চুঙাপিঠা আর চোঁখে পড়ে না

প্রকাশিত: ১:৩৭ পূর্বাহ্ণ, জানুয়ারি ১৩, ২০১৮

চিরচেনা চুঙাপিঠা আর চোঁখে পড়ে না

হাবিবুর রহমান খান, জুড়ী থেকে।
আমাদের দেশের চিরচেনা পিঠা চুঙাপুড়া।দেশের ঐতিহ্যবাহী কয়েকটি দেশীয় পিঠার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে চুঙাপুড়া পিঠা। চুঙাপুড়া পিঠা বা চুঙ্গা পিঠা সিলেট অঞ্চলের একটি প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী পিঠা।আগেকার দিনে অগ্রহায়ণ ও পৌষ মাসের শীতের সময়ে গ্রাম বাংলার প্রতিটি ঘরে ঘরে এ পিঠার ব্যাপক প্রচলন ছিল।

চুঙ্গাপিঠা তৈরির উপকরণ” ঢলু বাঁশ ও বিন্নি ধানের চাল (বিরইন ধানের চাল) হলেও বিন্নি চাল, দুধ, চিনি, নারিকেল, ঢলুবাঁশ ও চালের গুড়া দিয়ে তৈরি এই খাবারটি সিলেটের একটি নিজস্ব এবং ঐতিহ্যবাহী খাবার হিসেবে সুপরিচিত।পাহাড়ী চুঙার বাঁশের (ঢলু) ভিতরে নতুন চালের গুড়ো ঢুকিয়ে, আমন ধানের খড়ের আগুনে পুড়ে সাধারণত এ পিঠা তৈরি করা হয়। চুঙা পিঠা আগুন দিয়ে পুড়ার সময় ছোট, বড় ও মাঝারি পরিবারের সকলের হইচই জমে উঠতো। আশপাশ থেকে ছুটে এসে যোগ দিতেন পাড়া প্রতিবেশীরাও। গ্রাম বাংলার চিরচেনা ঐতিহ্যবাহী সেই দৃশ্য এখন আর চোখে পড়ে না। সময়ের ব্যবধান আজ প্রায় বিলুপ্ত হয়ে গেছে।

এখন সেই আগের মতো পাহাড়-জঙ্গল না থাকায় ঐতিহ্যবাহী চুঙা পিঠার বাঁশ (ঢলু বাঁশ) পাওয়া কষ্ঠকর হয়ে পড়েছে। দিন যত গড়াচ্ছে পাহাড়-জঙ্গলের সংখ্যা ততই কমছে।পাহাড়-জঙ্গলের স্থলে স্থান করে নিচ্ছে অর্থ উপার্জনকারী বিভিন্ন ধরণের গাছ ও বাগানের সংখ্যা।

অনুসন্ধান করলে জানা যায়,উপজেলার ছোট-বড় স্থানীয় বিভিন্ন পাহাড়, লাঠিটিলা, হরমা ও উজান পাহাড়ই ছিল ঢলুবাঁশের জন্য বিখ্যাত ছিল।বন ও ভ’মি দস্যুদের কবলে পড়ে সেই পাহাড়গুলো হারিয়েছে স্বসৌন্দর্য্য, অস্তিত ও পাহাড়ী অনেক ঐতিহ্য।

স্থানীয় সচেতন মহল মনে করেন, বিগত কয়েক বছরে মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলায় প্রতিযোগীতা মূলক যেভাবে পাহাড় কাটা হয়েছে, সে অনুযায়ী অত্রাঞ্চলে ঢলু বাঁশসহ অনেক ঐতিহ্যবাহী পাহাড়ী সম্পদ অদৃশ্য থেকে অদৃশ্য হয়ে গেছে। এ কারণেই অদূর ভবিষ্যতে চুঙা পিঠার নামও থাকবে কি না, তা আজ দূশ্চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

 

 

 

এই সংবাদটি 953 বার পঠিত হয়েছে

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ