চান্দগ্রাম মাদ্রাসায় হামলা ও ভাংচুরের সুষ্ঠু সমাধান না হলে কঠোর কর্মসূচি —ছাত্র ঐক্য পরিষদ

প্রকাশিত: ২:০৬ পূর্বাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১১, ২০১৮

চান্দগ্রাম মাদ্রাসায় হামলা ও ভাংচুরের সুষ্ঠু সমাধান না হলে কঠোর কর্মসূচি —ছাত্র ঐক্য পরিষদ

ছাদেক আহমদ:: মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা উপজেলার চান্দগ্রাম আনোয়ারুল উলুম ফাজিল (ডিগ্রী) মাদ্রাসায় অতর্কিত বহিরাগত সন্ত্রাসী হামলায় ১০ জনকে আহত, ও ভাংচুরের প্রতিবাদে মানববন্ধন,বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে “ছাত্র ঐক্য পরিষদ বড়লেখা- বিয়ানীবাজার”।  শনিবার (১০ ফেব্রুয়ারি ) দুপুরে এক বিশাল বিক্ষোভ মিছিল চান্দগ্রাম মাদ্রাসা থেকে বের হয়ে,চান্দগ্রাম বাজার ও গ্রামের প্রধান রাস্তা প্রদক্ষিণ শেষে মাদ্রাসা মাঠে এসে প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। ছাত্র ঐক্য পরিষদ বড়লেখা-বিয়ানীবাজার এর আহবায়ক মোঃ ইকবাল হোসেনের সভাপতিত্বে ও যুগ্ম আহবায়ক আলী হোসেনের পরিচালনায় সভায় বক্তারা বলেন, অনেক ঘাতপ্রতিঘাতের পর ও তার স্বমহিমায় দ্বীন দরদীদের ঐকান্তিক প্রচ্ছেষ্টায় মাদরাসাটি উত্তরোত্তর উন্নতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, এই মাদ্রাসায় লেখাপড়া করে অনেকেই ডাক্তার, ইন্জিনিয়ার ও শিক্ষকতা সহ, রাষ্ট্রীয় অনেক গুরুত্বপৃর্ণ জায়গায় কাজ করছেন, ঐতিহ্যবাহী এই দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ১৯৫৯ সনে প্রতিষ্ঠিত হয়ে আজও এতদঅঞ্চলের দ্বীনি শিক্ষা বিস্তারে অনন্য ভূমিকা রাখছে। বক্তারা আরো বলেন – বিগত ২৭ ( জানুয়ারি) শনিবার সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটের সময় পুর্ব পরিকল্পিত ভাবে সন্ত্রাসীরা দলবদ্ধ হয়ে দেশীয় অস্ত্র -শস্ত্র নিয়ে অতর্কিতে উপাধ্যক্ষের (ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ) র অফিসে প্রবেশ করে আসবাবপত্র ভাংচুর ও মাদ্রাসার জরুরী ফাইলপত্র তছনছ ও উপাধ্যক্ষের (ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ) উপর হামলার আমরা তিব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। উপাধ্যক্ষ ওহীদুজ্জামান চৌধুরি (ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ) কে সন্ত্রাসীদের বেধড়ক মারপিটের হাত থেকে রক্ষা করতে, উপস্থিত থাকা মাদ্রাসার আরবি প্রভাষক মাওঃ মোঃ আসাব উদ্দিন ও সহকারি শিক্ষক মোঃ আমিনুল ইসলাম এগিয়ে আসলে সন্ত্রাসীরা তাদের উপরে হামলা করে, মাদ্রাসায় থাকা ছাত্ররা তাদের চিৎকারে এগিয়ে আসলে তাদেরকেও বেধড়ক মারপিট করে শিক্ষক ও ছাত্র সহ ১০/১২ জনকে আহত করে সন্ত্রাসীরা। সন্ত্রাসীদের হাত থেকে রক্ষা পায়নি কর্তব্যরত বড়লেখা পুলিশের এস,আই,দেবাশিষ সূত্রধর, যা মাদ্রাসা ও অত্র এলাকার জন্য অত্যন্ত দুঃখজনক জনক ঘটনা। বক্তারা বলেন- ঘটনার সংবাদ পেয়ে গর্ভনিং বডির সভাপতি ৩নং নিজবাহাদুপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ময়নুল হক মাষ্টার ও বড়লেখা থানার ওসি (তদন্ত) দেবদুলাল ধর দীর্ঘক্ষণ চেষ্টা করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং আহতদের উদ্ধার করে বিয়ানীবাজার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। ভারপ্রাপ্ত আধ্যক্ষ ওহীদুজ্জামান চৌধুরি ও সহকারি শিক্ষক আমিনুল ইসলামের অবস্থা আশংখাজনক হওয়ায় তাদেরকে সিলেট ওসমানি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। বক্তারা বহিরাগত সন্ত্রাসী দের হামলায় ভাংচুর, অফিসের গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র তছনছ ও বিনা অপরাধে, ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ অহীদুজ্জামান চৌধুরি ও আরবী প্রভাষক মাওঃ মোঃ আছহাব উদ্দিন সহ আহত ছাত্র দের এলাকার মুরব্বি ও দায়িত্বশীল ব্যাক্তিবর্গ খোজ খবর না নেয়ায়, ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ বাদী হয়ে মৌলভী বাজার দ্রুত বিচার আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন মামলা নং ০২/২০১৮, আহত আরবী প্রভাষক মাওঃ মোঃ আছহাব উদ্দিন বাদী হয়ে বড়লেখা সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করেন বলে উল্লেখ করেন মামলা নং ২৫/২০১৮ এবং এজহার ভুক্ত চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের অবিলম্বে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানান। চিহ্নিত বহিরাগত সন্ত্রাসী তাদের হীন ব্যাক্তি স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য মাদ্রাসার মঙ্গল কামী ছাত্র – শিক্ষকের উপর বারবার সন্ত্রাসী হামলা ঘটিয়েছে। তাদের স্থানীয় ভাবে কোন বিচার করা সম্ভব হয়নি, সন্ত্রাসীদের প্রভাবের কারণে, আইনের আওতায় নেয়া যাচ্ছেনা। ফলে মাদ্রাসায় স্বাভাবিক লেখা পড়ার পরিবেশ বিঘিœত হচ্ছে। দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি রক্ষার স্বার্থে,মাদ্রাসার স্বাভাবিক গতি সচল রাখতে ছাত্র-শিক্ষক অভিভাবকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবী জানান । অন্যথায় সুষ্ঠ সমাধান না হলে ছাত্র ঐক্যপরিষদ বড়লেখা- বিয়ানীবাজার, এর পক্ষ থেকে কঠোর কর্মসূচী নেয়ার হুসিয়ারি জানানো হয়। প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, সাবেক ছাত্র আলমগির হোসেন,আমির হোসেন, জয়নুল ইসলাম,গুলজার আহমদ,জুবেদ আহমদ,মামুনুর রশিদ,মোঃফজলে,রাব্বি,।,সিদ্দিকুর রহমান বিয়ানীবাজার, সাহেদ আহমদ সাবেক ভি,পি।সুরমান আলী ভি,পি,।জুনেদ আহমদ ছাত্র,সাবেক ছাত্র অলি উররহমান প্রমুখ। উল্লেখ্য : ১০ ফেব্রুয়ারী বড়লেখা -বিয়ানীবাজার ছাত্র ঐক্য পরিষদ উল্লেখিত ঘটনার সুষ্টু বিচারের দাবীতে সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে স্মারকলিপি প্রদান করে।

এই সংবাদটি 692 বার পঠিত হয়েছে

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ