চাটমোহরসহ চলনবিলে রসুনের বাম্পার ফলন ॥ কৃষকের মুখে হাসি

প্রকাশিত: ১২:৫২ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ৪, ২০১৭

এম এ সাইদ ( তন্ময়)  রাজশাহী বিভাগীয় চীফ :
শস্যভান্ডার খ্যাত পাবনার চাটমোহরসহ চলনবিলাঞ্চলে এবারও রসুনর বাম্পার ফলন হয়েছে। সাদা সোনা রসুনের আশাতীত ফলনে এবার কৃষকের মুখের হাসিটা একটু বেশিই। ধান আবাদে মার খাওয়া কৃষক ঝুঁকেছে রসুন আবাদের প্রতি। চাটমোহর তথা চলনবিলের প্রধান অর্থকরী মসলা জাতীয় ফসল রসুন কৃষকের মুখে এ হাসি এনে দিয়েছে। চলনবিলের এ সময়ের সাদা সোনা হিসেবে পরিচিত রসুনের এবার শুধু ভালো ফলনই হয়নি, বাজার মূল্যটাও গত বছরের চেয়ে অনেক বেশি। শুধু তাই নয়, চলতি মৌসুমে রসুনের আবাদ হয়েছে গত বছরের চেয়ে তিনগুণ বেশি। কৃষাণ-কৃষাণীরা এখন মাঠে ভীষণ ব্যস্ত রসুন ঘরে তুলতে।
বিনা হালের রসুন আবাদ চলনবিলে ১৫ বছর ধরে জনপ্রিয় ও লাভজনক আবাদ হিসেবে প্রতিবছরই রসুনের আবাদ বেড়েছে। বোরো ধানের পরেই রসুন এখন চলনবিলের কৃষকদের মুখে হাসি আর অভাবী সংসারে সচ্ছলতা এনে দেয়ার অন্যতম প্রধান ফসল হয়ে দাঁড়িয়েছে।
চলতি মৌসুমে চাটমোহরে রসুনের বাম্পার ফলনের আশা করছেন কৃষক ও কৃষি বিভাগ। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় রসুনচাষিদের মুখে দেখা যাচ্ছে স্বস্তির আমেজ। গত ২ সপ্তাহ থেকেই রসুন তোলার কাজ শুরু হয়েছে। দাম ও ফলন মোটামুটি ভালো হওয়ায় গত কয়েক বছরে বেড়েছে রসুন আবাদের জমি। চাটমোহরে এবার ৬ হাজার ৫শ’ হক্টর জমিতে রসুনের আবাদ হয়েছে। বিনাহালে রসুন আবাদের পদ্ধতিতে জমি চাষের কোনো প্রয়োজন হয় না। বিল থেকে পানি নেমে যাওয়ার পর শুরু হয় আমন ধান কাটা। সেই কাদামাটির জমিতেই কৃষক পুঁতে দেন রসুন কোয়া (কোষ)। এরপর নাড়া (খড়) দিয়ে ঢেকে দেয়া হয় রসুনের ক্ষেত। কয়েক দিনের মধ্যে নাড়ার ফাঁক দিয়ে উঁকি মারে সবুজ রসুনের চারা গাছ।
চাটমোহর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোঃ রওশন আলম জানান, চলতি মৌসুমে উপজেলায় রসুন চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৫ হাজার হেক্টর জমিতে। ৬ হাজার ৫শ’ হেক্টর জমিতে রসুন চাষবাদ হয়েছে এবার। গত বছর উপজেলায় রসুন চাষ হয়েছিল ২ হাজার ১০০ হেক্টর জমিতে। গতবারের চেয়ে এবার ৪ হাজার ৪০০ হেক্টর জমিতে রসুন চাষ বেশি হয়েছে।
তিনি জানান, ৬ হাজার ৫শ’ হেক্টর জমিতে রসুন উৎপাদন হবে গড়ে ৩০ মণ, হেক্টরে ১০ টন হিসাবে প্রায় ৬৫ হাজার মেট্রিক টন। তিনি বলেন, বর্তমানে কাঁচা রসুন বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৭০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকা মণ। গত বছর এ রসুন এ সময় বিক্রি হয়েছিল ১ হাজার ২শ’/৩শ’ টাকা মণ। আনুমানিক সাড়ে ৫ কোটি টাকার রসুন ঘরে উঠবে এবার কৃষকদের।
চাটমোহর উপজেলার ধানকুনিয়া গ্রামের রসুন চাষি আঃ গণি জানান, রসুন চাষ লাভবান হওয়ায় কৃষকেরা রসুনের আবাদে ঝুঁকছেন। তবে ফলন ও বাজার খারাপ হলে কৃষককে লোকসানও গুনতে হয়। একই এলাকার রসুনচাষি মতিউর রহমান বলেন, রসুন আবাদ প্রান্তিক চাষিদের সচ্ছলতা এনে দিয়েছে। তিনি আরো বলেন, অধিকাংশ জমি আমরা লিজ নিয়ে আবাদ করি বড় কৃষকদের কাছ থেকে। রসুনই এলাকার ছোট কৃষকদের ভাগ্য বদলে দিয়েছে। সব টিনের আধাপাকা ঘর রসুনচাষিদের। রসুন রাখার ঘরই আলাদা বানানো হয়েছে। চাটমোহর ছাড়াও চলনবিলের গুরুদাসপুর, বড়াইগ্রাম, সিংড়া ও তাড়াশ উপজেলায় বিনাহালে রসুন আবাদ হয়ে থাকে।

এই সংবাদটি 603 বার পঠিত হয়েছে

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ