গাইড নির্ভর শিক্ষক- শিক্ষার্থী লেখাপড়ার মান উন্নয়নে প্রধান অন্তরায়-১

প্রকাশিত: ৪:১১ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ২৯, ২০১৮

গাইড নির্ভর শিক্ষক- শিক্ষার্থী লেখাপড়ার মান উন্নয়নে প্রধান অন্তরায়-১

ফয়জুল হক শিমুল: সরকার লেখাপড়ার মান উন্নয়নে যে পদ্ধতি, চেষ্ঠা, শ্রম, অর্থব্যয় করে যাচ্ছে সে অনুযায়ী লেখা পড়ার মান উন্নয়নে প্রধান অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে গাইড বই। অনুসন্ধানে দেখা যায়, এমন কোন প্রতিষ্ঠান নেই যেখানে ক্লাসে গাইড বই ছাত্র-ছাত্রীরা ব্যবহার করছে না, বা গাইড নিয়ে স্কুলে আসছে না। অথচ সরকার সৃজনশীল পদ্ধতির যে রুপরেখা প্রণয়ন করছে তা এখন গাইডের কারনে বিফল হচ্ছে। নিষিদ্ধ ঘোষিত গাইড বই অবাধে বাজারে পাওয়া যাচ্ছে। তা ও আবার বিভিন্ন মোড়কে অসাধু শিক্ষকদের ছত্র ছায়ায়। এসব থেকে বিভিন্ন প্রকাশনীগুলি হাতিয়ে নিচ্ছে কোটি কোটি টাকা। বাজারের বিভিন্ন লাইব্রেরীতে খোঁজ নিয়ে দেখা যায় সমাপনী, জেএসসি, জেডিসি, এসএসসি, দাখিল এসব পরীক্ষার্থীদের জন্য বছরে কয়েক বার গাইড, সাজেশনের নামে টাকা হাতানোর কুট কৌশল। প্রায় একই মোড়কে ভিন্ন ভিন্ন নামে যেমন, সাজেশন, মডেল টেস্ট,টেস্ট পেপার, শেষ মুহুর্তের প্রস্তুতি, ইত্যাদি নাম দিয়ে লাইব্রেরী গুলি এসব বই বিক্রি করছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে সরেজমীনে গেলে দেখা যায় ছাত্র- ছাত্রীদের ক্লাসে বা কোচিং সেন্টারে শুধুমাত্র গাইড বই। মেইন বই খুব কম শিক্ষার্থী প্রতিষ্ঠানে নিয়ে আসে। প্রশ্ন করলে জবাবে বলে স্যাররা গাইড বই পড়ান। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি সূত্রের সাথে আলাপকালে জানা যায় সংশ্লিষ্ট কিছু স্কুলের প্রধান শিক্ষকরাই জানেন না সৃজনশীল কি ? এবং কেনই বা সরকার তথা শিক্ষা মন্ত্রনালয় এসব পদ্ধতি প্রণয়ন করেছে । যা উপভোগ্য বিষয় মূখ্য না হয়ে পরীক্ষা পাশ ও এ প্লাস ই এখন তাদের কাছে মূখ্য বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। অথচ শিক্ষা মন্ত্রনালয়ে সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বপদস্থ কর্মকর্তাদের এসব পদ্ধতি বিদেশে প্রশিক্ষনের মাধ্যমে ও প্রণয়ণে সরকারের খরচ হয়েছে কোটি কোটি টাকা। সৃজনশীল পদ্ধতির শিক্ষক প্রশিক্ষণে খরচ হয়েছে তার চেয়ে অনেক বেশী । কিন্তু বাস্তবে তার সিকিভাগও প্রতিফলন হয়নি বলে লক্ষ্য করা গেছে। আর তার প্রধান কারণ হচ্ছে এমসিকিউ পদ্ধতির শিক্ষকরাই সৃজনশীল পদ্ধতির পাঠদানকারী হওয়া। কিছু কিছু (নাম প্রকাশে অনিহা) স্কুলে দেখা যায় গাইড নির্ভর শিক্ষকরাই সরকারের মুল বিষয় থেকে সরিয়ে গেছেন তো বটে এমনকি চলমান প্রক্রিয়ার সিলেবাস ও পরীক্ষা পদ্ধতির রুপরেখা বা সিলেবাসের পরিবর্তন, পরিবর্ধন, সংযোজন, বিয়োজন ভূলে গেছেন। সংযোজন, বিয়োজন, নির্দেশনা শিক্ষা মন্ত্রনালয় থেকে জারীকৃত পরিপত্র বা প্রশ্ন পদ্ধতি ভূলে গাইড অনুসরন করেই যাচ্ছেন। আর শিক্ষকদের গাইডপ্রীতি ও প্রকাশনীগুলোর ফাঁকিবাজিতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা হচ্ছেন মারাত্মক ভাবে প্রতারিত। আবার কিছু কিছু রিউমার ছড়িয়ে গাইড,কোচিং, কিন্ডার গার্টেন কে স্বজনপ্রীতি দেখাচ্ছেন তৃতীয় মহল। রিউমার হচ্ছে এমনটি – এসবের কারণে ছাত্র- ছাত্রীরা এ প্লাসের মতো ভাল রিজাল্ট করছে। যা অনেক সরকারী স্কুলে হচ্ছে না । এ রিউমার অনুসন্ধানে দুটি কারণ পাওয়া গেছে প্রথমত অর্থশালী অভিভাবকরা তাদের মেধাবী ছেলে-মেয়েকে কিন্ডার গার্টেন বা নামকরা ঐ সব স্কুলে ভর্তি করেন। ফলশ্রুতিতে মেধাবীদের পরিশ্রম ও অর্থশালী অভিভাবকদের অতিরিক্ত অর্থ ও ভাল শিক্ষক দিয়ে সকাল বিকাল প্রাইভেট, কোচিং থাকায় কিছুটা এ প্লাস আসে। কিন্তু মেধার বিকাশ ঘটছে না । পরীক্ষা পাশের বা এ প্লাস পাওয়ার প্রতিযোগিতায় মত্ত সবাই। যেমন শিক্ষক তেমন অভিভাবক। আমরা এ থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। মেধার বিকাশে সরকার কর্তৃক সৃজনশীল পদ্ধতি অনুধাবন ও বাস্তবায়ন করতে হবে। তবেই শিক্ষার মূল লক্ষ্যে পৌঁছা সম্ভব। (চলবে)
লেখক:
সম্পাদক ও প্রকাশক
সাপ্তাহিক আমাদের সময়চিত্র
ও সময়চিত্র ডট কম

এই সংবাদটি 721 বার পঠিত হয়েছে

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ