ঢাকা |
প্রকাশিত: ১১:৪৫ অপরাহ্ণ, জুলাই ১১, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিবেদক:
গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদের বিদায় নিশ্চিত করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান এমপি। তিনি বলেছেন, বৈষম্য দূর করে বাংলাদেশের পচা রাজনীতির অবসান ঘটিয়ে নতুন বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যেই দেশের মানুষ সংগ্রাম করেছে। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে অনুষ্ঠিত গণভোটের গণরায় কার্যকর করতে হবে এবং এর মাধ্যমেই ফ্যাসিবাদের বিদায় নিশ্চিত করা হবে।

শনিবার (১১ জুলাই) বিকেলে রংপুর জিলা স্কুল মাঠে ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে আয়োজিত বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ, সীমান্ত হত্যা ও পুশ-ইন বন্ধ এবং জনদুর্ভোগ নিরসনের চার দফা দাবিতে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এমপি।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রী গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে রায় চেয়েও তা বাস্তবায়ন করেননি। বিভিন্নভাবে গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবি থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হলেও তারা জাতির সঙ্গে বেঈমানি করবেন না। গণভোটের রায় বাস্তবায়নে আন্দোলন অব্যাহত থাকবে এবং জনগণের রায় কার্যকর করতে সরকারকে বাধ্য করা হবে।
তিনি বলেন, তিস্তা উত্তরাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের দুঃখ। অথচ জাতীয় বাজেটে তিস্তা মহাপরিকল্পনার জন্য দশ টাকারও বরাদ্দ নেই। কথার ফুলঝুড়ি নয়, তিস্তা নিয়ে বাস্তব পদক্ষেপ দেখতে চান এ অঞ্চলের মানুষ। সরকার ব্যর্থ হলে ভবিষ্যতে ১১ দলীয় ঐক্য রাষ্ট্রক্ষমতায় গিয়ে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে।
সীমান্ত পরিস্থিতি প্রসঙ্গে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, প্রতিবেশী ভারতের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে সীমান্ত এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হলেও সরকার নীরব ভূমিকা পালন করছে। জনগণ ও বিজিবি একসঙ্গে সীমান্ত রক্ষায় ভূমিকা রাখছে। জনগণের আকাঙ্ক্ষার বিরুদ্ধে অবস্থান নিলে তার পরিণতি সাম্প্রতিক ইতিহাস থেকেই শিক্ষা নেওয়া উচিত বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে রংপুর বিভাগকে কৃষির রাজধানী গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। কৃষিভিত্তিক মহাপরিকল্পনা গ্রহণের পাশাপাশি আলুসহ কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে হবে। হিমাগারে আলু সংরক্ষণে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধ করে কৃষকদের জন্য ন্যায্য ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।
দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি ও চাঁদাবাজির সমালোচনা করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জনগণ চাঁদাবাজি করে না, বরং চাঁদাবাজদের কারণেই সাধারণ মানুষ দুর্ভোগে রয়েছে। ভবিষ্যতে ১১ দলীয় ঐক্য সরকার গঠন করতে পারলে চাঁদাবাজ ও দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রধানমন্ত্রী হলেও আইনের ঊর্ধ্বে কেউ থাকবেন না।
দেশের সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে তিনি বলেন, বাংলাদেশের এক ইঞ্চি ভূখণ্ডের ওপরও কাউকে কর্তৃত্ব করতে দেওয়া হবে না। দেশ নিয়ে কোনো হুমকি-ধমকি গ্রহণযোগ্য নয়।
তিনি আরও বলেন, পুলিশের সবাই অপরাধী নয়। তবে জুলাই গণঅভ্যুত্থান, শাপলা গণহত্যা, বিডিআর হত্যাকাণ্ড, শরীফ হাদি হত্যাকাণ্ড, আয়নাঘর, গুমসহ সব হত্যাকাণ্ড ও অপরাধের বিচার করতে হবে। বিচার করতে ব্যর্থ হলে সরকারকে দায় নিয়ে ক্ষমতা ছাড়তে হবে।
সমাবেশে বক্তব্য দেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) প্রেসিডেন্ট ও সাবেক মন্ত্রী কর্নেল (অব.) ড. অলি আহমদ বীর বিক্রম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালাল উদ্দিন, নেজামে ইসলাম পার্টির ভারপ্রাপ্ত আমীর আল্লামা আবদুল কাইয়ুম সুবহানী, জাতীয় নাগরিক পার্টির সদস্য সচিব মো. আখতার হোসেন এমপি, জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি) জেনারেল সেক্রেটারি ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট একেএম আনোয়ারুল ইসলাম চান, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সহ-সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান এবং জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মো. দেলোয়ার হোসেন।
রংপুর বিভাগ থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান বেলাল এমপি, গোলাম রব্বানী এমপি, মাওলানা আব্দুস সাত্তার এমপি, আব্দুল করিম সরকার এমপি, ব্যারিস্টার মাহবুবুল আলম সালেহী এমপি ও রায়হান সিরাজী এমপি।
সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চলের সহকারী পরিচালক মাওলানা মমতাজ উদ্দিন, রংপুর বিভাগের বিভিন্ন জেলার জামায়াতের আমীর, ১১ দলীয় ঐক্যের জেলা ও মহানগর নেতৃবৃন্দ এবং কেন্দ্রীয়, বিভাগীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
সমাবেশ পরিচালনা করেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও রংপুর মহানগর আমীর মাওলানা এটিএম আযম খান, মহানগর সেক্রেটারি আনোয়ারুল হক কাজল, রংপুর জেলা সেক্রেটারি মাওলানা এনামুল হক এবং মহানগর সহকারী সেক্রেটারি আল আমিন হাসান।
সমাবেশে কর্নেল (অব.) ড. অলি আহমদ বীর বিক্রম বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে সম্মানজনক সম্পর্ক বজায় রাখতে হলে সীমান্তে পুশ-ইন ও অভিন্ন নদীর পানিবঞ্চনা বন্ধ করতে হবে। তিনি মানবতা, সুশাসন ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানান।
সভাপতির বক্তব্যে নাহিদ ইসলাম এমপি বলেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই রংপুরে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। তিনি বিএনপির রাজনৈতিক ভূমিকার সমালোচনা করে সীমান্ত হত্যা ও পুশ-ইন বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান। একই সঙ্গে দেশের সংস্কার বাস্তবায়ন এবং জুলাইয়ের শহীদদের প্রত্যাশা পূরণের আহ্বান জানান তিনি।
শেখ হাসিনার দেশে প্রত্যাবর্তনের প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম বলেন, তিনি দেশে ফিরলে তার বিচার নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি দিল্লির উদ্দেশে সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট বার্তা দেওয়ার আহ্বানও জানান তিনি।
রেজিঃ নং চ-৭৩৫
সম্পাদক ও প্রকাশক: এম.ফয়জুল হক শিমুল
সহ: সম্পাদক : হাবিবুর রহমান সুলতান
সহ: সম্পাদক : নুরুল হক মাসুদ
সম্পাদক ও প্রকাশক কর্তৃক নিউ বর্ণমালা অফসেট প্রিন্টিং প্রেস, রাজা ম্যানশন জিন্দাবাজার, সিলেট থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত।

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: * সি-৮/৩০ বনশ্রী ঢাকা।
সিলেট অফিস: কমন মার্কেট (৫ম তলা ) বন্দর বাজার, সিলেট।
বিয়ানীবাজার অফিস: ছফর কমপ্লেক্স, দক্ষিণ বিয়ানীবাজার, সিলেট।
যোগাযোগ মোবাইলঃ +88-01713813124
ই-মেইল ॥ somoychitro@gmail.com
বড়লেখা অফিস: নেহার মার্কেট, ( ২য় তলা), বড়লেখা, মৌলভীবাজার।