অল্প সময়ে পাবনাবাসীর ধারণা বদলে দিলেন           ডিসি রেখা রানী বালো

প্রকাশিত: ৩:১৫ অপরাহ্ণ, মার্চ ৯, ২০১৭

অল্প সময়ে পাবনাবাসীর ধারণা বদলে দিলেন           ডিসি রেখা রানী বালো

রাজশাহী বিভাগীয় চীফ:
প্রায় দুইশ বছরের পুরনো জেলা শহর পাবনা। নানা কারণে গুরুত্বপূর্ণ এ জেলায় সামাজিক ও রাজনৈতিক বাধায় প্রশাসন পরিচালনায় স্বস্তিবোধ করেননি অনেক জেলা প্রশাসক।
প্রভাবশালীদের বিরাগভাজন হবার ভয়ে জনগুরুত্বপূর্ণ অনেক সমস্যার সমাধানেই তাদের ছিল না আগ্রহ। এসব কারণে গতিহীন হয়ে পড়া প্রশাসনের সর্বোচ্চ পদে রেখা রাণী বালোর পদায়নে অনেকেই ছিলেন হতাশ। কেউ বা করেছেন ব্যঙ্গ বিদ্রুপ। এসব সমস্যাকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েই কাজে যোগ দেন ১৫ তম বিসিএসের এই কর্মকর্তা।
তবে নারী প্রশাসকের যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা মানুষের ধারণা পাল্টাতে খুব বেশি সময় লাগেনি তার। কেবল প্রশাসনের রুটিন কাজই নয়, ফেসবুক পেজ খুলে জনগণের নানা সমস্যার দ্রুত সমাধান করে জেলা প্রশাসনকে নিয়ে গেছেন জনগণের দোরগোরায়।
নাগরিক সেবা প্রদানের স্বীকৃতি স্বরূপ মিলেছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এটুআই পুরস্কার।
নাগরিক সেবা প্রদানে এ উদ্ভাবনের জন্য স্বীকৃতি মিলেছে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের এটুআই পুরস্কার। এছাড়া শ্রেষ্ঠ জেলা ওয়েব পোর্টাল পুরস্কার, শতভাগ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শতভাগ শহীদ মিনার নির্মাণ, কথাসাহিত্যিক প্রমথ চৌধুরীর বাড়ি উদ্ধারসহ নানা সাফল্যে যোগদানের বছর না পেরুতেই তিনি এখন দারুণ জনপ্রিয়।
এ প্রসঙ্গে পাবনা সরকারি এডওয়ার্ড কলেজের অধ্যক্ষ হুমায়ুন কবীর মজুমদার বলেন, পাবনার জেলা প্রশাসক হিসেবে রেখা রাণী বালো ইতোমধ্যেই তার দক্ষতার প্রমাণ দিয়েছেন। প্রযুক্তির ব্যবহারে প্রশাসনকে জনবান্ধব করে সহজেই সমস্যার সমাধান দিচ্ছেন। এসব কারণে স্বল্প সময়েই প্রশাসনের কর্মকর্তা হয়েও সাধারণ মানুষের কাছে এত বেশি জনপ্রিয়।
পাবনা প্রেসক্লাবের সাবেক সম্পাদক সাংবাদিক উৎপল মির্জা বলেন, পাবনায় নারী জেলা প্রশাসক কতটা কাজ করতে পারবেন তা নিয়ে আমাদের যথেষ্ট সন্দেহ ছিল। রাজনৈতিক বাকবিতণ্ডায় অতীতে পদায়নের পরও অনেক পুরুষ কর্মকর্তাও পাবনায় আসতে চাননি।
কিন্তু আমরা অবাক বিস্ময়ে লক্ষ্য করলাম, রেখা রানী বালো যোগদানের পর একের পর এক জটিল সমস্যার সমাধান করছেন। প্রশাসনকে ডিজিটালাইজড করে জনগণের হাতের নাগালে নিয়ে গেছেন। এক সময়ের মৌলবাদের আঁতুর ঘর এই পাবনায় সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নির্মাণ করেছেন শহীদ মিনার। কাজেই পাবনার প্রশাসন পরিচালনায় তিনি অনেক পুরুষ প্রশাসকের চেয়েও সফল, তা এখন বলাই যায়।’
সফল এই নারীর দক্ষতা প্রেরণা যোগাচ্ছে জেলার সর্বস্তরের নারীদের। সংকীর্ণ সমাজে প্রতিষ্ঠা পেতে আগামীর নারীদের দৃঢ় প্রতিজ্ঞ ও আত্মপ্রত্যয়ী হবার পরামর্শ তার।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক রেখা বলেন, ‘ছোটবেলা থেকেই নানা প্রতিবন্ধকতা ডিঙিয়েই সমাজে বড় হতে হয়েছে। আমাদের সময় গ্রামীণ সমাজ আরো বেশি রক্ষণশীল ছিল। কিন্তু কোনো বাধাকেই আমি ভয় করিনি। আমার পরিবার আমার সঙ্গে ছিল। নিজেকে নারী না ভেবে মানুষ হিসেবে সমাজে প্রতিষ্ঠিত করতে চেয়েছি সব সময়। হয়তো এ মনোভাবই আমাকে সফল হতে শক্তি যুগিয়েছে।

এই সংবাদটি 430 বার পঠিত হয়েছে

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ