কুকুর মানুষ কামড়ালে সংবাদ হয় না; কিন্তু মানুষ কুকুরকে কামড়ালে সংবাদ হয়

প্রকাশিত: ১:০৪ অপরাহ্ণ, জুলাই ২৮, ২০১৭

কুকুর মানুষ কামড়ালে সংবাদ হয় না; কিন্তু মানুষ কুকুরকে কামড়ালে সংবাদ হয়

#আতাউর রহমান
একটি জাতীয় দৈনিকের অব্যাহত অপপ্রচারের বিরুদ্ধে মুখ খুলেছেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ এমপি।গেল সোমবার মন্ত্রীসভার বৈঠকে তিনি প্রধানমন্ত্রীকে অপপ্রচারের কারণ ব্যখ্যা করেন। শিক্ষামন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীকে জানান,-‘একটি পত্রিকার মালিক একজন সংসদ সদস্য। তিনি আমার কাছে টেকনিক্যাল কলেজ স্থাপনের তদবীরে এসেছিলেন।’ টিকনিক্যাল কলেজ স্থাপনের জায়গাটি শিক্ষামন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীকে দেখান এবং বলেন-‘এ স্থানে টেকনিক্যাল কলেজ স্থাপনের অনুমতি দেয়া যায় না। এরপর ওই মিডিয়া হাউজের বিভিন্ন ব্যক্তি নানাভাবে চাপ দিতে থাকে। তাদের তদবীর না শোনার কারণে আমার বিরুদ্ধে সিরিজ রিপোর্ট হচ্ছে। রিপোর্টে যেসব তথ্য আসছে তা আদতে সত্য নয়। আমার পরিবারের কেউ শিক্ষা সেক্টরে ব্যবসা বাণিজ্যের সাথে সংযুক্ত নয়।’

এরই ধারাবাহিকতায় সিলেট শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক গোলাম কিবরিয়া তাপাদারকে জড়িয়ে মুখরোচক কল্পকাহিনী নির্ভর একটি খবর গত মংগলবার প্রকাশ পেয়েছে। খবরে নানা আশ্রয়- প্রশ্রয়ে একজন নিবেদিত শিক্ষকের নামে যেভাবে অপবাদ লেপন করা হচ্ছে তা জাতির জন্য কলংকজনক এক অধ্যায়।
প্রফেসর গোলাম কিবরিয়া তাপাদার একজন সৎ, নির্লোভ মানুষ। তিনি দায়িত্ব গ্রহন পরবর্তী সিলেট বিভাগের লেখাপড়ার মান দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। আর বোর্ড একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান। বোর্ডের চেয়ারম্যানের দৈনন্দিনের কাজ একটি রুটিন ওয়ার্ক। তিনি নিজ যোগ্যতা বলেই চেয়ারম্যান হয়েছেন। তিনি তো উড়ে এসে জোড়ে বসেন নি। “সিলেট শিক্ষা বোর্ডকে দুর্নীতির আখড়া বানিয়েছেন কিবরিয়া”- এ ধরণের সংবাদ প্রকাশ উদ্দেশ্যমূলক এবং মান হানির সামিল।

জেনে রাখা ভাল, কুকুর মানুষ কামড়ালে এটি সংবাদ হয় না। কারণ এটি কুকুরের স্বভাবজাত অভ্যাস। কিন্তু মানুষ যদি কুকুরকে কামড়ায় তখন সেটি সংবাদ হয়। তাই এই প্রেক্ষাপটে প্রকাশিত সংবাদটি স্বকীয়তা ও যোগ্যতা হারিয়েছে।

স্যার আপনার বক্তৃতা ওরা শোনতে দিবে না। তাই বলে আপনি কী থেমে যাবেন? মোটেই না। দেশে-বিদেশে আপনার অসংখ্য শিষ্য এই সংবাদটি পড়ে আহত হয়েছে। সিলেটের শিক্ষকসমাজ এহেন সংবাদের প্রতিবাদ জানাবে। এর প্রস্তুতি চলছে।

স্যার,
রবীন্দ্রনাথ স্কুল পালিয়েছেন। নজরুল তো বেশি পড়তেই পারলো না। লালন তো বুঝলই না স্কুল কি জিনিস? আজ মানুষ তাঁদেরকে নিয়ে গবেষণা করে পিএইচডি করছে।
সুন্দর চেহারার কথা ভাবছেন? শেখ সাদী (রাঃ) এর চেহারা যথেষ্ট কদাকার ছিল, আবার লতা মুংগেস্কারের চেহারা মোটেই সুশ্রী ছিল না!! তৈমুর লং খোঁড়া ছিলেন,
নেপোলিয়ন বেটে ছিলেন। শচীন টেল্ডুল্কারের উচ্চতা তো জানাই আছে 5 ft 5 inch!
আর স্মৃতি শক্তির কথা ভাবছেন? আইনস্টাইন নিজের বাড়ীর ঠিকানা ও ফোন নাম্বার মনে রাখতে পারতেন না। কিন্তু তাদের অবস্থান ও যোগ্যতার জন্য তথাকথিত ১ম বিভাগ কিংবা ফাস্ট ক্লাসের প্রয়োজনও পড়ে নাই।

♦ শিক্ষণীয় বিষয়:
কোন কিছুই আপনার উন্নতির পিছনে বাঁধা হতে পারে না। যদি কোন কিছু বাঁধা হয়ে দাঁড়ায় তবে তা আপনার ভিতরের ভয়। ভয়কে দূরে রেখে জয় করা শিখতে হবে, তাহলে সাফল্য ধরা দিবেই।

লেখক: সভাপতি,বিয়ানীবাজার প্রেসক্লাব, সিলেট।

এই সংবাদটি 484 বার পঠিত হয়েছে

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ