এক অদম্য কৃষক জহরলালের গল্প

প্রকাশিত: ১২:৫১ পূর্বাহ্ণ, জানুয়ারি ১২, ২০১৮

কামরুল ইসলাম: রোদ বৃষ্টি, খরার সাথে মিলে মিশে কাজ করাই হলো কৃষি কর্ম। আর এই কর্মে প্রচেষ্টা, শ্রম আর মেধা খাঁটিয়ে হত দরিদ্র জহরলাল এখন লাখপতি। মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা উপজেলার দাশের বাজার ইউনিয়নের দক্ষিণ বাগিরপার গ্রামের নিরীহ-আলবোলা হত দরিদ্র বেকার যুবক জহরলাল চাষাবাদের মাধ্যমে ভাগ্যকে জয় ক’রে জিতে নিয়েছে সমাজের মান-সম্মান আরবিত্ত বৈভব। আর অনুকরনীয় আদর্শে পরিনত হয়েছে বাগিরপার সহ আশে পাশের সকল গ্রামের চাষীদের নিকট জহরলালের বয়স এখন ৩২ তিনি ১৭ বৎসর থেকে কৃষি কাজের সাথে জড়িত । জহরলাল এখন অত্যন্ত ব্যস্ত সময় পার করছে ফসল সংগ্রহ আর পরিচর্যা ও বোরো ধান চাষে ।
আমি ২০০০ ইং সালে প্রথম মাত্র ৮ শতাংশ জায়গাতে টমেটো চাষ শুরু করি। প্রথম টমেটো চাষ করতে আমার ব্যায় হয় ১৫ হাজার টাকা, বিক্রি হয় ২৫ হাজার টাকা। আমার সব খরচ শেষে লাভ হয় ১০ হাজার টাকা। তখন থেকেই আমি কৃষকে বাণিজ্যিক ভাবে চিন্তা করতে শুরু করি। এখন আমি টমেটো আর বেগুন সব মিলিয়ে শীতকালীন সবজি প্রায় ১৫ বিঘার মত চাষ করি। গতবছর শীতকালীন সবজিতে প্রায় ৫ লক্ষ টাকার মত ক্ষতি দাড়ায় যা ছিল ভিবিন্ন এনজিও ও বিভিন্ন লোকের কাছ থেকে ১০% সুদে এই টাকা আমি এখনো পযর্ন্ত পরিশোধ করতে পারি নাই। এই বছর ও আমি জায়গার পরিমাণ বাড়িতে ১৫ বিঘাতে নিয়েছি। এবছর চাষাবাদ না করতে আমার পরিবার একচেটিয়া ভাবে না করে আসছিল সাথে সমাজের লোকজনও সবকিছু উপেক্ষা করে আমি আবার পুনরায় সেই ক্ষতি পোষিয়ে নেওয়ার জন্য দিন রাত পরিশ্রম করে যাচ্ছি। কিন্ত বতর্মান এই ১৫ বিঘা জায়গার মাঝে আমার নিজের হলো মাএ ১ বিঘা বাকি সব জায়গা আমন মৌসুমের আগ পযর্ন্ত বিঘা প্রতি ৮ হাজার টাকা দিতে হয়। আমি এইবার শীতকালীন সবজির পাশাপাশি বোরো ধান চাষের জন্য ২৫ বিঘা জায়গা নিয়ে তাতে রোরো ধান চাষ শুরু করেছি। আমার সাথে প্রতিদিন ৪০ জন কামলা কাজে করে। দিন শেষে মজুরী হিসেবে তাদেরকে ২শত টাকা ৩ শত টাকা করে দিতে হয়। উনাকে প্রশ্ন করা হলে এত টাকা আপনি প্রতিদিন কোথা থেকে দেন। উত্তরে তিনি বলেন আমি ঋন দাতা সংস্থা টিএমএসএস বড়লেখা শাখা থেকে ৫০ হাজার টাকা ও গ্রামীণ ব্যাংক দাসের বাজার শাখা থেকে ১ লক্ষ টাকা আর বিভিন্ন লোকের কাজ থেকে ১০% হার সুদে আমি টাকা নিয়েছি যা আমি এই শীতকালীন সবজি বিক্রি করে তাদেরকে দিয়ে দিতে হবে। তবে এবার প্রাকৃতিক দূর্যোগ আর ভাইরাস জনিত রোগ যদি আমার সবজির কোন ধরনের ক্ষয়ক্ষতি না করে আমি আশা করছি ১০ লক্ষ থেকে ৪০ লক্ষ টাকা পাব। এই বয়সে আপনি এতকিছুর কিভাবে সামলে নেন জবাবে জহরলাল বলেন আমার সাথে যে ৪০ জন লোক আছে তারাই আমার নিজের না হলে নিজের মানুষের মত কাজ করে তাদের উপর ভরসা করেই আমি এতদূর এগিয়ে যাচ্ছি। একজন কামলার সাথে কথা হলে তিনি বলেন আমি জহরলাল বাবুর এখানে কাজ করে আমার সংসার চালাই আমার মত বাকি সবাই এরকম এখানে কাজ করে তাদের সংসার চালায়। গ্রামের বিভিন্ন লোকের সাথে কথা বলে জানা যায় গ্রামের ভিতর দিয়ে মাইজমজুরী নালা প্রবাহীত যার দুই পাশেই জহরলাল বাবু সহ আরও অনেকের সবজি সহ বিভিন্ন চাষাবাদ করে। বিগত ১৭ বৎসর থেকে এই নালা বাধ দিয়ে পানি আটকিয়ে চাষাবাদ করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছে গ্রামের হাজারও কৃষক আবার এই নালা থেকে পানি তুলে বোরো ধান চাষ করে। এদিকে কিছু প্রভাবশালী লোকেরা এই নালা লিজ নিয়ে সেচ করে শুকিয়ে মাছ ধরার পায়তারা করতেছে। তাকে দেখে উৎসাহিত হয়ে আরোও অনেক কৃষি কাজের দিকে মননিবেশ করছেন। তিনি অভিযোগ করে বলেন আমরা জানি বতর্মান সরকার কৃষি বান্ধব কিন্তু দুঃখের বিষয় সরকারি ভাবে আমি বা আমরা কেউই কোন ধরনের সহযোগিতা পাইনা পেলে আরোও হয়তো লাভবান হতাম সাথে খাদ্য চাহিদা মিটাতে অংশীদার হতে পারতাম। তিনি বলেন উপজেলা কৃষি অফিস থেকে কোন ধরনের সহযোগিতা পাইনা তিনি বড়লেখা উপজেলা কৃষি অফিসের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন যাতে তাদের প্রতি একটু সুদৃষ্টি দেওয়া হয়।

এই সংবাদটি 616 বার পঠিত হয়েছে

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ