একদিনে ১১ ‘জঙ্গি’ নিহত

প্রকাশিত: ৩:৪১ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ৮, ২০১৬

একদিনে ১১ ‘জঙ্গি’ নিহত

Vision Led ad on bangla Tribune

গাজীপুর ও টাঙ্গাইলে আইন-শৃঙ্খলাবাহিনীর পৃথক তিনটি অভিযানে ১১ ‘জঙ্গি’ নিহত হয়েছে। শনিবার সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত এ অভিযানগুলো পরিচালনা করা হয়। একদিনে এত ‘জঙ্গি’ নিহত হওয়ার ঘটনা এটিই প্রথম। এরমধ্যে গাজীপুরের পাতারটেকে ‘অপারেশন শরতের তুফান’ নামের অভিযানে সাত জন, একই জেলার হাড়িনাল এলাকার আরেকটি বাড়িতে র‌্যাবের অভিযানে দু’জন এবং টাঙ্গাইলের কাগমারা এলাকায় পৃথক অভিযানে আরও দুজন নিহত হয়।

গাজীপুরের পাতারটেক অভিযান

গাজীপুরের নোয়াগাঁও পাতারটেক এলাকায় ‘অপারেশন শরতের তুফান’ নামের অভিযানে  সাত জঙ্গি নিহত হয়েছে। ওই এলাকার একটি তিন তলা বাড়িতে ওই অভিযান চালানো হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়েছেন।

শনিবার সকাল থেকে বিকাল পৌনে চারটা পর্যন্ত সেখানে অভিযান চালায় কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট।

তিনি বলেন, সোয়াত, বম্ব ডিস্পোজাল টিম, কাউন্টার টেররিজম, জেলা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস যৌথভাবে এ অভিযান পরিচালনা করে।

নব্য জেএমবির ঢাকা বিভাগের কমান্ডার ফরিদুল ইসলাম আকাশ ও তার সহযোগীরা সেখানে অবস্থান করছেন এমন তথ্যের ভিত্তিতে শনিবার সকালে ওই আস্তানাটি ঘিরে ফেলে সিটিটিসির সদস্যরা।

সিটিটিসির অতিরিক্ত উপ-কমিশনার ছানোয়ার হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ভেতরে অস্ত্র ও গোলাবারুদ রয়েছে বলে তথ্য রয়েছে তাদের কাছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদ্দুজামান খাঁন কামাল জানান, জব্দ হয়েছে তিনটি অস্ত্র , কয়েকটি চাপাতি ও একটি গ্যাস সিলিন্ডার। গোলাগুলির মধ্যে ১৪টি গ্রেনেড বিস্ফোরিত হয়েছে। তবে কী ধরনের অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে তাৎক্ষণিক ভাবে সেগুলোর নাম প্রকাশ করেননি তিনি। আরও জানান, এ সময় কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটে একজন সদস্য আহত হয়। তার হাতে গুলি লেগেছে। তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তিনি সুস্থ আছেন।

গাজীপুরের পশ্চিম হাড়িনাল অভিযান

এদিন সকালে গাজীপুরের পশ্চিম হাড়িনালে একটি বাসায় পৃথক অভিযান চালায় র‌্যাব।  ওই অভিযানে দুই ‘জঙ্গি’ নিহত ও একে-২২সহ কিছু অস্ত্র ও সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।  র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার মুফতি মাহমুদ খান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, গাজীপুরের হাড়িনালের জঙ্গি আস্তানায় নিহতদের প্রাথমিক পরিচয় মিলেছে।  তারা হচ্ছেন রাশেদ মিয়া ও তৌহিদুল ইসলাম। তবে বাড়িওয়ালার কাছে থাকা ভাড়াটিয়া তথ্য ফরমের এই তথ্য সঠিক কিনা তা এখনও যাচাই বাছাই চলছে। ওই বাড়ি থেকে একটি একে-২২, একটি নাইন এমএম পিস্তল, গুলিসহ আরও কিছু দ্রব্য উদ্ধার করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

মুফতি মাহমুদ জানান, বাড়ির মালিক আতাউর রহমানের কাছে থাকা ভাড়াটিয়া তথ্য ফরম অনুযায়ী নিহতরা হচ্ছে রাশেদ মিয়া এবং তৌহিদুল ইসলাম। তাদের বাড়ি নরসিংদীতে।  তবে তাদের এ পরিচয় সঠিক কিনা সে ব্যাপারে আমরা খোঁজ খবর নিচ্ছি।  তিনি আরও জানান,  বাড়িওয়ালাকে রাশেদ মিয়া জানিয়েছিল সে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা পাস করে এবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। তবে পরীক্ষা দিয়েছে কিনা সে ব্যাপারে বাড়িওয়ালা নিশ্চিত নন। আর আতাউর রহমান গাজীপুরের জয়দেবপুরের ঢাকা ইউনিভার্সিটি অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি (ডুয়েট) এর ছাত্র ছিল।

এছাড়াও, পশ্চিম হারিনালের ওই জঙ্গি আস্তানা থেকে একটি একে- ২২ রাইফেল, একটি নাইন এমএম পিস্তল, বোমা তৈরির সরঞ্জাম, চাপাতি ও বেশ কয়েক রাউন্ড গুলিও উদ্ধার করা হয়েছে।

শনিবার দুপুরে দুই জঙ্গি নিহত হওয়ার পর আস্তানা থেকে এসব অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।

র‌্যাব-১ এর উপ পরিচালক মাহিউল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বেলা পৌনে ১২টার দিকে ওই বাড়ির ভেতর থেকে এসব অস্ত্র ও সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।

এর আগে, গোপন সূত্রের খবরে ভোর বেলা থেকে ওই বাড়িটিতে অভিযান চালায় র‌্যাব।

টাঙ্গাইলের কাগমারা অভিযান

এদিকে টাঙ্গাইলের কাগমারার অভিযান শুরু হয় শনিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে। সেখানে সন্দেহভাজন দুই জঙ্গি নিহত হওয়ার পাশাপাশি র‌্যাবের দুই সদস্য আহত হয়েছে বলে জানিয়েছেন কমান্ডার মুফতি মাহমুদ খান। নিহতদের পরিচয় এখনও নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হয়নি। এদের একজনের বয়স ২৫ ও অপরজনের ২০ বছর হবে বলে ধারণা করছেন তিনি।

এই সংবাদটি 512 বার পঠিত হয়েছে

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ