ঢাকা |
প্রকাশিত: ১১:৪৪ অপরাহ্ণ, মার্চ ৭, ২০১৭
রাজশাহী বিভাগীয় চীফ :
‘চার দিন ধইরা এক দাগ ধান শুকালে ১৫ কেজি খুদ ও ১৫ কেজি ধানের গুঁড়া পাই। অনেক সময় খুদ ও ধানের গুঁড়া না দিয়া মহাজন অ্যামাগরে এক দাগ ধান শুকানোর জন্যে ৪৫০ ট্যাহা মজুরি দেয়। কিন্তু পুরুষরা পায় প্রতিদিন ৫০০ ট্যাহা করি মজুরি।’
ধানের চাতালের নারী শ্রমিকদের এই মজুরিবৈষম্য ও কষ্টের কথা জানাতে গিয়ে কথাগুলো বলেন পাবনার ঈশ্বরদীর জয়নগর মোকামের চাতালের নারী শ্রমিক সাহারা খাতুন।
শুধু সাহারা খাতুন নন, তাঁর মতো এখানকার তিন হাজার চাতালের নারী শ্রমিকেরা মজুরিবৈষম্যের শিকার হচ্ছেন।
ঈশ্বরদী চালকল মালিক গ্রুপের সভাপতি ফজলুল হক মালিথা বলেন, ঈশ্বরদীতে ছোট-বড় মিলে ৭০০ ধানের চাতাল রয়েছে। এসব চাতালে পুরুষ শ্রমিকের পাশাপাশি ৩ হাজার নারী শ্রমিক রয়েছেন। তবে চাতাল ব্যবসা মন্দার কারণে অনেক মহাজন ও চাতাল মালিক ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন। এই অবস্থায় ন্যায্য মজুরি না পাওয়ায় অনেক নারী শ্রমিক পেশা পরিবর্তন করছেন।
ঈশ্বরদী উপজেলার আইকে সড়কের ছলিমপুর, বড়ইচড়া, মিরকামারী, জয়নগর, দিয়াড় বাঘইল, চরসাহাপুর এলাকায় গতকাল মঙ্গলবার সরেজমিন ঘুরে জানা গেছে, বর্তমানে ঈশ্বরদীর মোকামে ৬০ ভাগ ধানের চাতাল চালু রয়েছে।
বাকিগুলো বিভিন্ন কারণে বন্ধ। চালু থাকা চাতালগুলোতে ৬০ ভাগ শ্রমিক নারী। কিন্তু মজুরি পাওয়ার ক্ষেত্রে নারী শ্রমিকেরা পুরুষের তুলনায় অনেক কম পারিশ্রমিক পান বলে নারীরা অভিযোগ করেন।
ছলিমপুর ইউনিয়নের মানিকনগর গ্রামের মালেকা বেগম বলেন, এক দাগ (এক খোলা ধানকে এক দাগ বলা হয়) ধান শুকানোর পর ১৫ কেজি খুদ ও ১৫ কেজি ধানের গুঁড়া দেওয়া হয় তাঁকে।
অনেকে এর পরিবর্তে ৫৭০ টাকা পারিশ্রমিক নিয়ে থাকেন। নাটোরের লালপুর উপজেলার মাঝগ্রামের ইনসান খাতুন বলেন, ‘যে খুদ আর চাল পাই, তা দিয়ে সংসার চলে না। কোনো বাড়তি টাকাও আমাদের নাই। বছর শেষ হলি রোজার ঈদে মহাজন একটা করি শাড়ি আর কোরবানির ঈদে এক শ করি ট্যাকা দেয়।’
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চাতালের নারী শ্রমিকেরা প্রতিদিন ১০ ঘণ্টা কাজ করেও ন্যায্য পারিশ্রমিক থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
নারী শ্রমিকদের চার দিন কাজ করানোর পর পারিশ্রমিক হিসেবে খুদ ও চালের গুঁড়া দেওয়া হয়। প্রতি কেজি ধানের গুঁড়া ১২ ও খুদের দাম ২৬ টাকা। সেই হিসাবে চার দিন কাজ করার পর চাতালের একজন নারী শ্রমিক মজুরি পান ৫৭০ টাকা।
আর পুরুষ শ্রমিক এক দিন কাজ করেই মজুরি পান ৫০০ টাকা। নারী শ্রমিকেরা বলেন, প্রতিদিন সকাল সাতটায় ধানের চাতালে কাজে আসেন। বাড়ি ফেরেন সন্ধ্যা সাতটায়।
এ সময়ের মধ্যে ধান শুকানো, চাতাল পরিষ্কার করা, ধান মেলানোসহ যাবতীয় কাজ করতে হয়। কেউ অসুস্থ হয়ে দু-তিন দিন বাড়িতে পড়ে থাকলে চাতালের মালিক অনেক সময় তাঁদের কাজ থেকে বাদও দিয়ে দেন।
আয়ের ভালো উৎস না থাকায় বাধ্য হয়ে তাঁরা বছরের পর বছর ধানের চাতালে কাজ করে আসছেন। কিন্তু পুরুষের তুলনায় পাচ্ছেন কম মজুরি।
কথা হয় তিন-চারজন চাতালের মালিকের সঙ্গে। তাঁরা বলেন, নারীদের তুলনায় পুরুষ শ্রমিকেরা বেশি পরিশ্রম করতে পারেন। এ জন্য পুরুষদের মজুরি বেশি।
মিরকামারী গ্রামের চাতালের মালিক নবাব আলী বলেন, বর্তমানে এখানকার চাতাল ব্যবসার অবস্থা শোচনীয়। আগের মতো ব্যবসা নেই। তাই বেশি মজুরির আশায় এখানকার চাতালের নারী শ্রমিকেরা পেশা ছেড়ে অন্য পেশায় চলে যাচ্ছেন।
সুত্র: প্রথম আলো
রেজিঃ নং চ-৭৩৫
সম্পাদক ও প্রকাশক: এম.ফয়জুল হক শিমুল
সহ: সম্পাদক : হাবিবুর রহমান সুলতান
সহ: সম্পাদক : নুরুল হক মাসুদ
সম্পাদক ও প্রকাশক কর্তৃক নিউ বর্ণমালা অফসেট প্রিন্টিং প্রেস, রাজা ম্যানশন জিন্দাবাজার, সিলেট থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত।

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: * সি-৮/৩০ বনশ্রী ঢাকা।
সিলেট অফিস: কমন মার্কেট (৫ম তলা ) বন্দর বাজার, সিলেট।
বিয়ানীবাজার অফিস: ছফর কমপ্লেক্স, দক্ষিণ বিয়ানীবাজার, সিলেট।
যোগাযোগ মোবাইলঃ +88-01713813124
ই-মেইল ॥ somoychitro@gmail.com
বড়লেখা অফিস: নেহার মার্কেট, ( ২য় তলা), বড়লেখা, মৌলভীবাজার।