ঢাকা |
প্রকাশিত: ৪:০৩ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২, ২০১৬
ইবরাহীম খলিল : আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে রাজধানী থেকে বাড়ি ফেরার ভোগান্তি এড়াতে কিছুদিন আগেই ঢাকা ছাড়তে শুরু করেছে মানুষ। বাস, ট্রেন এবং লঞ্চের টিকিট সংগ্রহ করা নিয়ে যারা ভোগান্তি পোহাতে চাননা তারা নিজেদের পরিবারের সদস্যদের গ্রামের বাড়িতে পাঠিয়ে দিচ্ছেন। বিশেষ করে পরিবারের যেসব সদস্য চাকরি করেন না এবং স্কুল-কলেজ ছুটি হয়ে গেছে তারা গ্রামের বাড়ির দিকে আগেই চলে যাচ্ছেন।
উল্লেখ্য, আজ ২ সেপ্টেম্বর শুক্রবার জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা গেলে আগামি ১২ সেপ্টেম্বর ঈদুল আজহা উদযাপন করবেন বাংলাদেশের মুসলমানরা। ঈদ উদযাপন করতে নাড়ির টানে গ্রামে ফিরবেন ঢাকার লাখ লাখ মানুষ। যাত্রা নির্বিঘœ করতে কয়েকদিন আগেই নির্ধারিত দিনের টিকিট বিক্রি করছে রেলওয়ে, বাস এবং লঞ্চ কৃর্তপক্ষ। ঈদুল আজহা উপলক্ষে ট্রেনে ৭ সেপ্টেম্বরের যাত্রার টিকিট ২৯ আগস্ট, ৮ সেপ্টেম্বরের যাত্রার টিকিট ৩০ আগস্ট, ৯ সেপ্টেম্বরের যাত্রার টিকেট ৩১ আগস্ট, ১০ সেপ্টেম্বরের যাত্রার টিকিট ১ সেপ্টেম্বর এবং ১১ সেপ্টেম্বরের যাত্রার টিকিট ২ সেপ্টেম্বর (আজ শুক্রবার) বিক্রি করছে। এর আগে বাসের টিকিট বিক্রি করা হয়। টিকিট প্রাপ্তি নিয়ে প্রতিবারই ব্যাপক ভোগান্তি হয় ঘরমুখো মানুষের।
ফলে যারা সপরিবারে ঢাকায় থাকেন তারা তাদের পরিবারের চাকরি করেন না এমন সদস্যদের একটু আগেই পাঠিয়ে দিচ্ছেন।
রাজধানীর আন্ত:জেলা বাস টার্মিনাল, কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন, সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে যাত্রীদের সঙ্গে আলাপ করে এমনটাই জানা গেছে। তারা জানিয়েছেন, পরিবারের চাকরিজীবী সদস্যরা বাধ্য হয়েই ঢাকায় থেকে যাচ্ছেন। মূলত যাত্রাকালীন ভোগান্তি এড়াতেই পরিবারের মহিলা ও শিশু সদস্যদের আগেই পাঠিয়ে দিচ্ছেন।
সরকারি চাকরিজীবী আবদুল মান্নানের সঙ্গে গত বুধবার কথা হয় গাবতলী বাস টার্মিনালে। পরিবার সদস্যদের আগেই গ্রামের বাড়ি গোপালগঞ্জে পাঠিয়ে দিচ্ছেন তিনি। ঈদের আগে শেষ অফিস করে তিনি বাড়িতে যাবেন।
কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে কথা হয়, রিতা-সাব্বির দম্পতির সঙ্গে। সাব্বির জানান, ঝামেলার কারণে ১০/১২ দিন আগেই স্ত্রী-সন্তানকে রাজশাহী পাঠিয়ে দিচ্ছি। কারণ, ঈদ যতই ঘনিয়ে আসে বাড়িতে ফেরার ভোগান্তি ততই বাড়তে থাকে। আর বাড়তে থাকে দুর্ঘটনা। এই চিন্তা করে পরিবারের সদস্যদের আগেই বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
রফিকুল ইসলাম নামের আরেক যাত্রী বলেন, রমযানের ঈদে ১০ দিনের বেশি ছুটি ছিল। এরপরও অনেকে গ্রামের বাড়ি যাননি। কিন্তু বড় ঈদে (ঈদুল আজহা) মানুষ বেশি যাবে। কারণ এই ঈদে কোরবানি দেওয়ার বিষয়টি জড়িত। তাই এই ঈদকে মানুষ একটু বেশি গুরুত্ব দিয়ে থাকেন। তিনি মনে করেন, এবারের ঈদে ভোগান্তি হবে বেশি। তাই পরিবারের লোকজন আগেই পাঠানো বুদ্ধিমানের কাজ।
গতকাল বৃহস্পতিকার কমলাপুরে দূরপাল্লার পরিবহনের কয়েকটি টিকিট কাউন্টারের লোকজনের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেল, কয়েকদিন ধরে বাস কাউন্টারগুলোতে মহিলা ও শিশু যাত্রী কিছুটা বেশি। সঙ্গে পুটলাপাটলিও বেশি। বোঝা যাচ্ছে এসব যাত্রী ঈদের আগে আর ফিরবেন না। কথা হয় ব্রাহ্মণবাড়িয়াগামী যাত্রী নাজিয়া সুলতানার সঙ্গে। তিনি জানালেন, টিকিট নিয়ে পাড়াপাড়ির চেয়ে একটু আগেই বাড়ি চলে যাচ্ছি। বাচ্চাটা তার দাদা-দাদুর সঙ্গে কয়েকটা দিন কাটাতে পারবে।
রেলওয়ে কর্মকর্তা আজমত উল্লাহ জানান, পরিবারের সদস্যদের আগেই বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়াটা পজেটিভ। কারণ এতে ঈদের সময় কিছুটা হলেও যানবাহনের ওপর চাপ কমবে। পরবর্তীতে যারা বাড়ি যাবেন তারা স্বাচ্ছন্দ্যে বাড়ি ফিরতে পারবেন।
রেজিঃ নং চ-৭৩৫
সম্পাদক ও প্রকাশক: এম.ফয়জুল হক শিমুল
সহ: সম্পাদক : হাবিবুর রহমান সুলতান
সহ: সম্পাদক : নুরুল হক মাসুদ
সম্পাদক ও প্রকাশক কর্তৃক নিউ বর্ণমালা অফসেট প্রিন্টিং প্রেস, রাজা ম্যানশন জিন্দাবাজার, সিলেট থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত।

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: * সি-৮/৩০ বনশ্রী ঢাকা।
সিলেট অফিস: কমন মার্কেট (৫ম তলা ) বন্দর বাজার, সিলেট।
বিয়ানীবাজার অফিস: ছফর কমপ্লেক্স, দক্ষিণ বিয়ানীবাজার, সিলেট।
যোগাযোগ মোবাইলঃ +88-01713813124
ই-মেইল ॥ somoychitro@gmail.com
বড়লেখা অফিস: নেহার মার্কেট, ( ২য় তলা), বড়লেখা, মৌলভীবাজার।