ইংরেজি স্কুলের নতুন বিধিমালা আসছে

প্রকাশিত: ২:৩৪ অপরাহ্ণ, জুন ২৬, ২০১৬

ইংরেজি স্কুলের নতুন বিধিমালা আসছে
সরকারি অনুমোদন ছাড়া কোনো ইংরেজি মাধ্যম স্কুল পরিচালনা করা যাবে না। প্রত্যেক স্কুল ১১ সদস্যের ম্যানেজিং কমিটি (এমসি) দিয়ে পরিচালিত হবে। এই কমিটি ছাত্রছাত্রীদের টিউশন ফি ও শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা নির্ধারণ করবে।

বছরে ১০ শতাংশের বেশি টিউশন ফি বাড়ানো যাবে না। এ রকম নানা বিধান রেখে দেশের ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের জন্য নতুন নিবন্ধন বিধিমালা প্রণয়ন করা হচ্ছে। তবে সরকারের কাছ থেকে নিবন্ধন না নিয়ে স্কুল চালালে কী ব্যবস্থা নেয়া হবে, তা খসড়া বিধিমালায় নেই।

এ প্রসঙ্গে শিক্ষা সচিব সোহরাব হোসাইন যুগান্তরকে বলেন, ‘আমরা একটি খসড়া বিধিমালা প্রণয়ন করেছি। এর ওপর সংশ্লিষ্টদের মতামত নেয়া হয়েছে। প্রাপ্ত মতামত যাচাই-বাছাই করে মূল খসড়ায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে। পরে আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং নিয়ে খুব কম সময়ের মধ্যে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে জারি করা হবে।’

এক প্রশ্নের জবাবে সচিব বলেন, ‘ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের জন্য বিধিমালা প্রণয়নের ব্যাপারে উচ্চ আদালতের নির্দেশনা আছে। সেই নির্দেশনা প্রতিপালনসহ বাস্তব প্রয়োজনকে সামনে রেখে আমরা এই বিধিমালা করছি।’

১২ পৃষ্ঠার এই খসড়া বিধিমালার ওপর শিক্ষক, উদ্যোক্তা, শিক্ষা প্রশাসনের কর্মকর্তা ও অভিভাবকদের মতামত নিতে বৃহস্পতিবার জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থাপনা একাডেমিতে (নায়েম) কর্মশালার আয়োজন করা হয়। এতে শিক্ষা সচিব প্রধান অতিথি ছিলেন।

খসড়ায় বলা হয়েছে, ইংরেজি মাধ্যম স্কুল পরিচালনা করতে হলে তা অবশ্যই নিবন্ধন করতে হবে। নিবন্ধন ছাড়া কোনো স্কুল পরিচালনা করা যাবে না। দুই ধাপে স্কুলের অনুমোদন দেয়া হবে। নির্ধারিত ফরমে আবেদন করে প্রথমে দু’বছরের জন্য প্রাথমিক অনুমোদন নিতে হবে।

সন্তোষজনকভাবে স্কুল পরিচালনা করা হলে পরবর্তী সময়ে ভিন্ন ফরমে অনুমোদন নবায়নের আবেদন করতে হবে। তখন ৩ বছরের অনুমোদন দেয়া হবে। এভাবে ৩ বছর পরপর অনুমোদন নবায়ন করতে হবে। প্রত্যেক স্কুলের প্রকৃতি বিবেচনায় আলাদা শর্ত আরোপ করতে পারবে নিবন্ধনকারী কর্তৃপক্ষ। তবে ‘নিবন্ধনকারী কর্তৃপক্ষ’ কে তা বিধিমালায় স্পষ্ট নয়।

এতে নিবন্ধনের জন্য আবেদন ফি, আবেদন পদ্ধতি ও নিষ্পত্তিকাল উল্লেখ করে বলা হয়েছে, প্রত্যেক স্কুল সরকার নির্ধারিত প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করতে পারবে। প্রতি ডিসেম্বরে পরিদর্শন করা হবে। যদি পরিদর্শন করতে না দেয়া হয়, তাহলে স্কুলের সনদ বাতিল করা হবে। ১১ সদস্যের ম্যানেজিং কমিটিতে ৬ জন থাকবেন উদ্যোক্তা সদস্য, ২ জন শিক্ষক প্রতিনিধি এবং ২ জন অভিভাবক প্রতিনিধি। অধ্যক্ষ পদাধিকার বলে কমিটির সদস্য সচিব থাকবেন। কমিটির মোটা দাগে ৬টি কাজ- টিউশন ফি নির্ধারণ, শিক্ষক-কর্মচারীর বেতন নির্ধারণ, স্কুলের আয়-ব্যয়ের হিসাব নিরীক্ষা, অবকাঠামো, শিক্ষার মান ও পরিবেশ উন্নয়নে কাজ করা অন্যতম।

সংরক্ষিত ও সাধারণ- দুই নামে স্কুলের দুটি তহবিল থাকবে। সংরক্ষিত তহবিল সঞ্চয়পত্র আকারে বা তফসিলি ব্যাংকে আমানত রাখতে হবে। নার্সারি, কেজি ও প্রাথমিক স্কুলের জন্য মেট্রোপলিটনে ৩ লাখ, জেলা সদরে আড়াই লাখ, জেলার বাইরে ২ লাখ টাকা থাকতে হবে। নিু মাধ্যমিক, মাধ্যমিক ও সমমানের স্কুলের সংরক্ষিত তহবিল মেট্রোপলিটনে ৪ লাখ, জেলা সদরে ৩ লাখ, জেলার বাইরে ২ লাখ টাকা। উচ্চ মাধ্যমিক বা সমমানের স্কুলের ক্ষেত্রে এই তহবিল মেট্রোপলিটনে ৫ লাখ, জেলা সদরে ৪ লাখ, জেলার বাইরে ৩ লাখ টাকা হবে। নিবন্ধন কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমোদন ছাড়া এই অর্থ তোলা বা ভাঙানো যাবে না।

সাধারণ তহবিলে স্কুলের যাবতীয় আয়-ব্যয় পরিচালিত হবে। এ ক্ষেত্রে একাধিক তহবিল থাকবে না। এই তহবিলে সর্বনিু স্থিতিও ঠিক করে দেয়া হয়েছে বিধিমালায়। তা হচ্ছে, নার্সারি, কেজি ও প্রাথমিক স্কুলের জন্য মেট্রোপলিটনে ১ লাখ, জেলা সদরে ৭৫ হাজার, জেলার বাইরে ৫০ হাজার টাকা থাকতে হবে। নিু মাধ্যমিক, মাধ্যমিক ও সমমানের স্কুলের সাধারণ তহবিল মেট্রোপলিটনে দেড় লাখ, জেলা সদরে ১ লাখ, জেলার বাইরে ৭৫ হাজার টাকা। উচ্চ মাধ্যমিক বা সমমানের স্কুলের ক্ষেত্রে এই তহবিল মেট্রোপলিটনে ২ লাখ, জেলা সদরে দেড় লাখ, জেলার বাইরে ১ লাখ টাকা হবে। স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি বা তার মনোনীত প্রতিনিধি ও সদস্য সচিবের যৌথ স্বাক্ষরে এ হিসাব পরিচালিত হবে।

খসড়া বিধিমালায় ব্যক্তি নামে স্থাপিত স্কুলের ক্ষেত্রে আলাদা নির্দেশনা আছে। এ জন্য স্কুলের সংরক্ষিত তহবিলে নির্দিষ্ট হারে অর্থ জমা দিতে হবে। তাহলেই ব্যক্তি নামে স্কুল করা যাবে। তা হচ্ছে, নার্সারি, কেজি ও প্রাথমিক স্কুলের জন্য মেট্রোপলিটনে ১০ লাখ, জেলা সদরে ৮ লাখ, জেলার বাইরে ৫ লাখ টাকা। নিু মাধ্যমিক, মাধ্যমিক ও সমমানের স্কুলে মেট্রোপলিটনে ১২ লাখ, জেলা সদরে ১০ লাখ, জেলার বাইরে ৮ লাখ টাকা। উচ্চ মাধ্যমিক বা সমমানের স্কুলের ক্ষেত্রে এই তহবিল মেট্রোপলিটনে ১৫ লাখ, জেলা সদরে ১২ লাখ, জেলার বাইরে ১০ লাখ টাকা হবে।

নার্সারি, কেজি ও প্রাথমিক স্কুলে ছাত্র-শিক্ষক অনুপাত হবে সর্বোচ্চ ১৫ জনের বিপরীতে ১। নিু মাধ্যমিক, মাধ্যমিক ও সমমানের স্কুলে ২৫ শিক্ষার্থীর জন্য ১ জন শিক্ষক এবং উচ্চ মাধ্যমিক বা সমমানের স্কুলের ক্ষেত্রে ৩০ জনের বিপরীতে ১ জন শিক্ষক থাকতে হবে। শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগে সরকারি বিধি অনুসরণ করতে হবে। স্কুলে জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক কারিকুলামে লেখাপড়া করানো যাবে। তবে সরকার নির্ধারিত পাঠ্যবই থাকবে।

ভাড়া বাড়ি এবং স্থায়ী অবকাঠামোতে স্কুল পরিচালনা করা যাবে। ভাড়া বাড়িতে স্কুল প্রতিষ্ঠা করতে হলে কমপক্ষে ৫ বছরের চুক্তি থাকতে হবে। ৫ বছর পর স্থায়ী ক্যাম্পাসে যেতে হবে। এতে ভাড়া বাড়িতে কোনো ধরনের স্কুলের জন্য কতটুকু জায়গা লাগবে তা বলা আছে। এই বিধিমালা কার্যকরের পর ২০০৭ সালের বিধিমালা রহিত হয়ে যাবে। এভাবে বিধিমালায় বিভিন্ন বিষয়ে ১৭টি মূল ধারাসহ বেশকিছু উপধারা ও ৪টি ফরম আছে।

এই সংবাদটি 646 বার পঠিত হয়েছে

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ